হুগলির খানাকুলের রাধানগরে মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই পালিত হল রাজা রামমোহন রায়ের ২৫০তম জন্মদিন। এদিন সকালে রঘুনাথপুরে রামমোহনের বসতবাটি থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে তা পৌঁছায় জন্মস্থান রাধানগরে। রামমোহনকে শ্রদ্ধা জানাতে শোভাযাত্রায় সামিল হন বিশিষ্ট গুণীজনেরা এ ছাড়াও অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকার অগণিত রামমোহন ভক্ত মানুষ।

প্রসঙ্গত হুগলি জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ও খানাকুল-১ পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে ২২ মে রামমোহনের জন্মদিন পালনের আয়োজন করা হয়। এদিন রামমোহনের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান চিত্র শিল্পী ও রাজ্যের হেরিটেজ কমিটির চেয়ারম্যান শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য।

এছাড়াও গলায় মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার, হুগলি জেলাপরিষদের সভাধিপতি আলহাজ সেখ মেহবুব রহমান, বিধায়ক স্নেহাশিস চক্রবর্তী, বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায়, মানস মজুমদার, ডা. পরেশ চন্দ্র দাস, অধ্যাপক ওয়াজুল হক ও আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক দেবাশিস শেঠ প্রমুখ। তারপর রামমোহন স্মৃতি সৌধের সামনে হেরিটেজ ফলক বসিয়ে সম্মান জানান শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য। উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার আগেই রামমোহনের জন্মস্থানকে হেরিটেজ ঘোষণা করেছিল।

এরপর রামমোহন লাইব্রেরির সামনে এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে শুভাপ্রসন্ন বলেন, অত্যন্ত স্মরণীয় দিন। রামমোহন কেবল আধুনিক নবজাগরণের দূত নন, তিনি আমাদের আধুনিক মানুষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে উন্নয়ন হবে।

মেহেবুব রহমান বলেন, আমরা পথিকৃৎকে পেয়েছি। এটা আমাদের গৌরব। এখানে সুস্থ সংস্কৃতি তৈরি করে দিয়েছেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরই নেতৃত্বে আজ রামমোহনের জন্মভিটে হেরিটেজ হিসাবে ঘোষনা করা হয়েছে। ওয়াজুল হক, পরেশ দাস, রামেন্দু সিংহরায়, অপরূপা পোদ্দার, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, হেরিটেজের সম্পাদক উমাপদ চট্টোপাধ্যায় প্রত্যেকেই রামমোহনের স্মৃতিচারণ করেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়, গবেষক বিশ্বেন্দু নন্দ, কিউরেটর শঙ্খ বসু প্রমুখ ।