কোভিদ পরিস্থিতির জন্য গত দুই বছর নানারকম নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল মাহেশের জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রার স্নানযাত্রায়। বর্ত্তমান বছরে সাধারণ পুণ্যার্থীদের জন্য অবাধ প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই কারণেই মানুষের ঢল নেমেছে মাহেশের স্নানযাত্রা প্রত্যক্ষ করার জন্য।
প্রতিবছর জৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই স্নান যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমান বছরেও প্রথা অনুযায়ী সকালে গর্ভ গৃহ থেকে বের করে জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ মন্দির এর বারান্দায় রাখা হয়। এইদিন সাধারণ পুণ্যার্থীরা বিগ্রহ স্পর্শ করতে পারেন। সেই কারণেই সকাল থেকে উপচে পড়া ভিড় মন্দির চত্বরে। দুপুরে জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ নিয়ে যাওয়া হয় মন্দির সংলগ্ন স্নানঘাটে। এখানে দেড় মণ দুধ ও ২২ ঘড়া গঙ্গা জল দিয়ে স্নান করানো হয় বিগ্রহ গুলিকে।

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী আজকের পর থেকেই জগন্নাথের জ্বর আসে। সেই কারণে মন্দির বন্ধ রাখা হয়, এলাকায় নীরবতা পালন করা হয়। এই সময়ে মন্দিরের মধ্যে এই তিন বিগ্রহের অঙ্গরাগ হয় সবার অলক্ষ্যে। রথ যাত্রার দুদিন আগে জগন্নাথের রোগ মুক্তি ঘটে এবং ফের মন্দির খোলা হয়।
পুরীতে যেমন ১২ বছর অন্তর জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহের পরিবর্তন করা হয় মাহেশে কিন্তু তা হয় না। ৬২৬ বছর ধরে এখানে সেই একই বিগ্রহ পূজিত হয়ে আসছেন। রথের দুদিন আগে দেবতার নবকলেবর উৎসব হয়। তারপরই রথযাত্রা। এলাকার মানুষ এখন থেকেই দিন গুনতে শুরু করবে রথের জন্য। শ্রীরামপুরের মাহেশের এই ঐতিহাসিক রথযাত্রা সাক্ষী হতে অসংখ্য মানুষ উপস্থিত থাকেন রথের মেলায়। ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং সাধারণ মানুষের ধর্ম বিশ্বাসের দিক থেকে মাহেশের রথ অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং উল্লেখযোগ্য।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ‘স্নান যাত্রার দিন জগন্নাথ দেবের দূত হিসেবে একটি নীলকন্ঠ পাখি উড়ে আসে। এখানে স্নান শুরু হলে সেই পাখি উড়ে যায় পুরীর জগন্নাথ দেবের কাছে। তারপর সেখানে স্নান যাত্রা শুরু হয়।’
এখনো নাকি তার অন্যথা হয় না।