খানাকুলের ঘোষপুরের বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবী ডাঃ অমরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য আজও স্মরণীয় ও বরণীয় স্থানীয় মানুষের কাছে । শিক্ষকদের কাছে গুরুদেব , গরীব মানুষ ও মূমুর্ষূ রোগিদের কাছে ভগবান । এককথায় এলাকার রূপকার ডাঃ অমরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য । কারণ বন্যাকবলিত খানা কুলের চার – পাঁচটি গ্ৰামের মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের কথা ভেবে গ্ৰামেই প্রতিষ্ঠা করেছেন স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র । এছাড়া তাঁর উদ্যোগেই এখানে প্রতিষ্ঠা হয়েছে ডাকঘর , কো – অপারেটিভ সোসাইটি, ঘোষপুর গণনাট্য সংঘ, ঘোষপুর বাপুজী সমাজ শিক্ষাকেন্দ্র ও ঘোষপুর সুভাষ পাঠাগার। এখানকার মানুষের কাছে শ্রদ্ধার কাণ্ডারী হয়ে মানুষের হৃদয়ে অমরেন্দ্রনাথ বেঁচে আছেন।

উল্লেখ্য করা যেতে পারে অমরেন্দ্রনাথবাবুর সৃষ্টি ঘোষপুর ইউনিয়ন নেতাজী বিদ্যাপীঠ আজ ৭৫ বছরে পদার্পণ করল। এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রবিবার খানাকুলের ঘোষপুর ইউনিয়ন নেতাজী বিদ্যাপীঠের প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী পালনের শুভ সূচনা করলেন প্রথিতযশা চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিক্ষা দফতরের সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক অভীক মজুমদার, হুগলি জেলা সভাধিপতি আলহাজ্ব সেখ মেহবুব রহমান, জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ গোপাল রায়, গবেষক দেবাশিস শেঠ, ঘোষপুর পঞ্চায়েত প্রধান হায়দার আলী ও বিশিষ্ট সাংবাদিক জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

উল্লেখ্য, এদিন এক মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠানে চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য বলেন, একটা গ্ৰামীন পরিবেশে ডাক্তার অমরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্যর নিরলস পরিশ্রমের ফসল হল এই স্কুল। ডাক্তার ও সমাজসেবী হয়ে তিনি শিক্ষার একটা ভিত তৈরি করে দিয়ে গেছেন। যেখানে রামমোহন রায় জাগরণ ঘটিয়েছেন, সেখানে শিক্ষার প্রসার লাভ তো ঘটবেই। তাই আমরা সকলে গর্বিত।

অমরেন্দ্রবাবু দূরদর্শী ছিলেন বলেই বন্যা কবলিত এলাকাতেও স্কুল গড়ে তুলতে পেরেছেন। জেলা সভাধিপতি সেখ আলহাজ্ব মেহবুব রহমান বলেন, বাংলার কৃষ্টি ও কালচার আমাদের গর্ব। প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী উপলক্ষে স্কুলের অবদানের কথা ডাক্তার অমরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্যকে মানুষ কোনো দিন ভুলবে না। অভীক মজুমদার বলেন, যে কোনো বিদ্যালয়ের জন্যে ৭৫ বছর কম নয়। আমাদের জাতির মেরুদণ্ড তৈরি করে।

গোপাল রায় ও হায়দার আলী স্কুলের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এই স্কুলের পিছনে প্রধান অবদান হল অমরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্যর। আগামী দিনে স্কুলের আরও উন্নয়ন হবে। চারদিন ধরে স্কুলে চলবে উৎসব। প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার মণ্ডল বলেন, মানুষের কাছে গর্বের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বহু কৃতী ছাত্র এখান থেকে বের হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আমাদের কাছে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন ডা. অমরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য।

এই বিদ্যাপীঠের সৃষ্টির পিছনে অমরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্যর নিরলস চেষ্টা ও পরিশ্রম আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।প্রথমে ২০ শতক জমিতে মাটির দেয়াল ও তালপাতার ছাউনী ঘরে গ্ৰামের ছেলেমেয়েদের নিয়ে প্রাইমারি স্কুল শুরু করেন । নিজের কাছ থেকে টাকা দিয়ে শিক্ষকদের মাইনে দিতেন । সালটা ছিল ১৯৪০ । এমনকি শিক্ষকদের নিজের ঘরে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন । একদিকে স্কুল পরিচালনা আর অপরদিকে আশপাশের গ্ৰামের মানুষের চিকিৎসার পরিষেবা দেওয়া।

১৯৪৬ সালে সরকারি অনুমোদন পেল স্কুল। এরপর ১৯৫৪ সালে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত জুনিয়র স্কুলের স্বীকৃতি। ১৯৬২তে মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত। ১৯৬৫ তে উচ্চমাধ্যমিক। প্রসঙ্গত, অমরেন্দ্রনাথবাবু মে চারাগাছ রোপণ করেছিলেন আজ তা মহীরুহ রূপ ধারণ করেছে। মেধাবী ছাত্র হয়ে প্রথিতযশা ডাক্তার হয়েও শহরে থাকেননি । ফিরে এসেছেন গ্ৰামের মানুষের কথা ভেবে । নেতাজীর আর্দশে উদ্ধুদ্ধ হয়ে তাঁরই নামাঙ্কিত বিদ্যাপীঠ গড়ে তুলেছেন। সেই বিদ্যাপীঠের আজ ৭৫ তম জন্মবার্ষিকী।