আগামী দিনে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর বই লিখতে চলেছেন। প্রথামিকভাবে ঠিক করে ফেলেছেন বইয়ের নাম— বাংলার গর্ব মমতা। ‘জলযোগে যোগাযোগ’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথাই জানালেন রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু। এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে এলো বিভিন্ন প্রসঙ্গ। বাংলার গর্ব মমতা— এই কর্মসূচিকে একটু অন্যরকমভাবে দেখছেন। তাঁর কথায়, এটা শুধু একটা নিছক জনসংযোগ কর্মসূচি নয়, এর মধ্যে দিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের মনে একটা বিকল্প ভাবনা তৈরি করা যাবে। কেন মমতাকে চাই— এটা আমরা বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাইছি। সবাই আমরা দেখছি দেশজুড়ে কীভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর, দলিতদের ওপর সাম্প্রদায়িক হিংসা ক্রমাগত নেমে আসছে। আমরা দেখছি উন্নয়নের গতি স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে, অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে, প্রতিদিন কর্মহীন হচ্ছেন মানুষ। মেরুকরণের রাজনীতি চলছে শুধু। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন মমতাই একমাত্র বিকল্প তারও ব্যাখ্যা নানাভাবে দিয়েছেন পূর্ণেন্দু বাবু। তাঁর কথায়, শিক্ষার অধিকার, খাদ্যের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুনিশ্চিত করা— এইরকম মৌলিক অধিকারকে সুরক্ষিত করেছেন মমতা। খাদ্যসাথী, কন্যাশ্রী, শিশুসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, রূপশ্রী প্রভৃতি একের পর এক সামাজিক প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ঘটিয়ে তিনি চেহারাই পাল্টে দিয়েছেন। গরিব, প্রান্তিক মানুষের সমস্যাটা বুঝেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই গরিব মানুষের সামাজিক উত্তরণ ঘটেছে এই সাড়ে আট বছরে। যা এককথায় নজিরবিহীন। এই সব বক্তব্য আমরা তথ্য দিয়ে, যুক্তি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে উপস্থাপিত করছি নিয়মিত। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনস্বার্থবিরোধী ভূমিকা, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আঘাত, রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা-সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা করেন ঘরোয়া আড্ডায়। সাংবাদিকদের থেকেও মতামত নেন তিনি।
ছবি: শুভেন্দু দাস
