সৌম্য সিংহ
দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবুও ১০ এপ্রিলের পরে যে কোনও দিন পুরভোট ধরে নিয়েই সম্ভাব্য প্রার্থী-তালিকা তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে হাওড়ার তৃণমূল নেতৃত্ব। একদিকে যেমন ইচ্ছুকদের বায়োডাটা জমা নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি কোন ওয়ার্ডে সবথেকে উপযুক্ত প্রার্থী কে হতে পারেন তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখে তৈরি করা হচ্ছে পর্যবেক্ষণ রিপোর্টও। জেলার পক্ষ থেকে খুব তাড়াতাড়ি তা পেশ করা হবে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। এরপরই চূড়ান্ত হবে প্রার্থীদের নাম।
সংরক্ষিত ওয়ার্ডগুলো ছাড়া গতবারের বিজয়ী সব প্রার্থীই কি এবারে আবার মনোনয়ন পাচ্ছেন? জেলা ( সদর ) তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অরূপ রায় স্পষ্ট জানালেন, এ রকম কোনও নিশ্চয়তাই নেই। সত্যি কথা বলতে কী, কোথায় কে প্রার্থী হবেন, না হবেন,কিছুই বলা যাচ্ছে না এখনও। তবে অন্য কোনও নেগেটিভ দিক না থাকলে, গত ৫ বছরে কাউন্সিলরের কাজকর্মের খতিয়ান অবশ্যই মূল বিবেচ্য হবে। কিন্তু যদি এমন দেখা যায় যে কোনও কাউন্সিলরের কাজকর্ম, আচার-আচরণ, আচমকা বদলে যাওয়া জীবনযাত্রা বা আরও কিছুর জন্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেক্ষেত্রে তাঁর বাদ পড়ার সম্ভাবনা কিন্তু প্রবল। এলাকার মানুষ চাইছেন না, এমন কাউকে ভাবনাচিন্তার মধ্যেই নিয়ে আসতে চাইছে না দল। আবার কাউন্সিলর ভালোমানুষ হলেও পরিষেবার কাজে তিনি পিছিয়ে পড়লে ভাবতে হচ্ছে বিকল্প।
তবে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত না হলেও হাওড়ার পুর-নির্বাচনের প্রচার ও জনসংযোগের কাজ কিন্তু কার্যত শুরু হয়ে গিয়েছে সাংগঠনিক পর্যায়ে। সত্যি-কথা বলতে কি, ২০১৮-র ৮ ডিসেম্বর পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেই দায়িত্ব বেড়ে যায় দলের ওয়ার্ড সভাপতিদের। যেমন ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি বাসুদেব রায়। ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি থেকে শুরু করে রেশন কার্ড সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সুযোগসুবিধা আমজনতার কাছে ঠিকঠাক পৌঁছচ্ছে কিনা তা দেখভাল করছেন তিনিই। আবার ৩২নম্বর ওয়ার্ডে সংগঠন সহ সব দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন মধ্য হাওড়ার মহিলা তৃণমূল সভানেত্রী স্বপ্না মুখোপাধ্যায়।
অরূপ রায়ের বক্তব্য, সংগঠনে পদাধিকারীরা দলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মর্যাদাপূর্ণ তো বটেই। নির্বাচনে সাফল্যের ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাই শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনেই পদাধিকারীদের নাম প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। তার বাইরে কিন্তু নয়।