| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

প্রশান্ত মৃধা-র ছোটগল্প ‘অচিন ধামাইল’ (শেষ পর্ব)

Reporter
প্রশান্ত মৃধা / ৪৬৭ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

তিন

পিছনের কথা এতখানিক ভাববার সুযোগ কি সুমাইয়া আমায় দিয়েছে। তার আগেই আমার দিকে উলটো ফিরে সেদিনের দেখা হওয়াটা কেন মনে পড়ছে না, তা নিয়ে আরো কিছু কথা বলেছে। ওদিকে সে গোলাপগঞ্জে নামবে, কন্ডাক্টর তার কাছে আবার ভাড়া চেয়েছে আর সে আমার সঙ্গে জরুরি আলাপে ব্যস্ত তাই আবার ‘দিরাম’ বলেছে। তারপর যেন টাকা খুঁজছে এমন ভঙ্গির ফাঁকে আমি কন্ডাক্টরকে জানালাম, আমি দেবো।

এখন এদিকে আজ কোথায় এসেছিলাম, এটুকু জানানোর ফাঁকে বছরদুই আগে দেখা সেই মেয়েটির সঙ্গে আজকের আবৃত মেয়েটিকে মিলাই। কল্পনায় তার মুখ দেখতে চেষ্টা করি। সে-স্মৃতি খুব দানা বাঁধে না, জোড়াও লাগে না। তবু সেই নিঃসঙ্গ নির্ভীক আর স্বাধীন সুমাইয়ার নদীর পাড় বেয়ে নিজের গন্তব্যে হেঁটে যাওয়া চোখে ভাসে। একটু মোটা হয়েছে কি। নাকি আমার বোঝার ভুল। বাসে ওঠার সময়ে মনে হয়েছিল সে সালোয়ার পরে আছে। এর ভেতরে সে এটুকুও মনে করিয়ে দেয়, ‘মনে নাই? আপনার সাতের জনরে নামও কইছিলাম।’ সেই নামও বলে, ‘ছুমাইয়া!’ হা, আমাকে বলেনি অথবা আমার শোনা হয়নি। কিন্তু অতটা ভুলে যাওয়ার কথা আমার নয়। মনে পড়েছে, সে উলটোদিকে নদীর পাড় ধরে হেঁটে যেতে যেতে আমার সঙ্গী তার নাম বলেছিলেন।

কিন্তু, সে আর এখন আমার সামনে যে-জন – তারা একই মানুষ? এই আশ্চর্য-হওয়া আমার চোখে-মুখে। তার সঙ্গে কথা বললেও, আমি যে অবাক তা সে বুঝতে পারছে। সাতঘাট থেকে কানাকড়ি নিয়ে ফেরা এই মেয়ে, না, এখন আর মেয়ে বলা ঠিক হচ্ছে না, এই নারী আমার চোখের ভাষা যে নিমিষেই পড়তে পারবে, তাই তো স্বাভাবিক!

‘আপনারা আইলেন গোলাপগঞ্জের দিক, ওই শিবপুর দিয়া। আর আমি গাঙের কূল ধরি চন্দরপুর! চন্দরপুর -’

চন্দরপুর বলে সে থামল। সামনে তাকাল। এই রাস্তায় সামনে গোলাপগঞ্জ।

সুমাইয়া সেদিকে তাকিয়ে বলল, ‘গোলাপগঞ্জ নামতাম। আপনি কই যাইতা, সিলেট? নামোন গোলাপগঞ্জ, বাদের গাড়িতে যাইয়োন!’

কী সহজ প্রস্তাব। একটু মেঘলা দিন। তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে চেয়েছিলাম গন্তব্যে। অথচ সুমাইয়া এখন এমন দাবিতে প্রস্তাবটা জানাল, আমার পক্ষে প্রত্যাখ্যান যেন অসম্ভব। তাছাড়া নিকলি থেকে এইটুকু পথ আসতেই, তার সঙ্গে আলাপে, তার অতীত ও বর্তমানের ফাঁকটুকু অথবা দূরত্বটুকু বুঝে নিতে আমার ভেতরে যেন কোনো জেদ চেপেছে। সেদিনের সঙ্গে আজকের মানুষটাতে কত তফাৎ! যদি কারণটা জানা যায়। বলবে তো সে, এখন তার সঙ্গে নামলে?

সে-কথাটুকু শোনার জন্যে এক জায়গায় বসতে হবে। আচ্ছা, বনরাজে গিয়ে বসা যেতে পারে। যদিও অনুমানে বুঝি, এখানকার হোটেলের ভেতরে হয়তো বেদেনিকে বসতে দেবে না। এখন সুমাইয়া তো আর বেদেনি নয়। সে-পরিচয় লুপ্ত। সাধারণ গৃহবধূ। এখন আমার সঙ্গী নারী।

তাই সই। সুমাইয়ার প্রস্তাবে রাজি। প্রস্তাবের ধরনেই তো বোঝা গেছে, সে আমায় কিছু বলতে চায়। আমি রাজি না হলে জোর খাটাবে না। নেমে চলে যাবে নিজের পথে। হয়তো আর কোনোদিনও দেখা হবে না।

আমি উঠে দাঁড়ালাম। সুমাইয়া তখনো বসা। কন্ডাক্টরের কাছে গিয়ে ভাড়া দিলাম। সে জানতে চাইল, ‘সিলেট যাইতায় নায় কেনে?’

আমি, ‘কাজ আছে —’ বলে হেলপারের কাছাকাছি। বাস থামতে না থামতেই নেমে পড়লাম। থামলে সুমাইয়া নামল।

বাস-রাস্তা রেখে ভেতরের পথে হাঁটতেই সুমাইয়া আমার এদিকে এমনভাবে চাইল, বুঝলাম নেকাবের ভেতরে হাসছে সে। বলল, ‘আবার দেখা হই গেল!’ কথাটা এমনভাবে বলল যেন যেদিন ওই কুশিয়ারা নদীর পাড় বেয়ে হেঁটে চলে গিয়েছিল সেদিন আমাদের ভেতরে যেন একথা হয়েছিল যে আবার দেখা হবে।

বললাম, ‘ভালো আছেন? সব খবর ভালো?’ এরপর ইচ্ছে ছিল জানাই তার পোশাকের এমন পরিবর্তনের জন্যেই চিনতে পারিনি।

সে-পরিবর্তনের কারণও সঙ্গে জিজ্ঞেস করে নিতাম। অথচ তার আগেই সে বলল, ‘আপনি আমারে আপনে কন কেনে? আমি আপনার কত ছুড!’

তা সে বলল বটে। কিন্তু বয়েসে যত ছোটই হোক পথের পরিচয়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে কী করে তুমি বলি।

‘আচ্ছা, সে হবে।’ বলে কথা না-উলটে, ওই স্নেহের প্রশ্রয়ের জায়গা থেকেই যেন জানতে চাইলাম, ‘ওই নিকলির দিকে কোনো কাজে?’

সামনে বনরাজ রেস্টুরেন্ট। পরিচিত খাবারের দোকান। এখানে এই প্রায় সন্ধ্যার মুখে অন্তত এক কাপ চা খাওয়া যেতে পারে। আমাকে আবার ফিরতে হবে। চন্দরপুরের দিকে যেতে হলে সুমাইয়াকেও ফিরতে হবে দ্রুত। তার গন্তব্য আমার অজানা। এমন তো হতে পারে, এই গোলাপগঞ্জেই সে থাকে।

সুমাইয়া বলল, ‘হুঁ।’ অর্থাৎ নিকলির দিকে কোনো কাজেই গিয়েছিল। এর বেশি এখন আর বলতে চায় না। আমি তার পায়ের গতি বুঝতে চাইলাম। বনরাজের সামনের ফুটপাতে দাঁড়ালাম, সে দাঁড়ায় কি-না, নাকি রাস্তার উলটোদিকে যেখানে চন্দরপুর অথবা শিবপুর যাওয়ার সিএনজি অটোরিকশা দাঁড়িয়ে সেখানে চলে যায়। না, সে আমার সঙ্গে দাঁড়াল। আমার সংকোচটা যেন সে বুঝতে পারছে। অথবা আমার গন্তব্য বুঝে নিতে চাইছে। কিন্তু আমি তো নেমেছি সুমাইয়ার কথায়। ফলে বনরাজের দিকে আঙুল তুলে বললাম, ‘ওই জায়গায় যেয়ে বসি। চা-পরোটা খাওয়া যাবে।’

‘চলেন।’ অসংকোচে বলল সে।

ওয়েটার আসার আগে তার কাছে জানতে চাইলাম, আমার সঙ্গে কোনো কথা আছে তার।

সুমাইয়া ‘হুঁ’ বলল একটু জোর দিয়ে। ওয়েটার পাশে এসে দাঁড়াল। আমি সুমাইয়াকে ভাত খাবে কি-না বলার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে দুইদিকে মাথা নেড়ে বলল, ‘চা-পরোটা।’ তারপর বিড়বিড় করল, ‘আমারে এই দোকানের লোক চিনতে পারলে হাসত!’

সে খানিকটা জানি আমি। আবার এও ভাবি, সে নিশ্চয়ই বেদেনি হিসেবেও এই দোকানে ঢুকেছে। এদিকের রাস্তায়ও তো তাদের দেখেছি কখনো কখনো। কিন্তু এমন বিড়বিড় করে বলছে কেন?

আমার জন্যে এলো একখানা পরোটা ও ডাল। সে ডালে শুকনো মরিচ ভাজি। তার জন্যে পরোটা ও চা। আমার চা পরে দেবে। ফিল্টার পানি দেবে কি-না ওয়েটার জানতে চাইল। পরোটা খুঁটে অথবা একটু ছিঁড়ে মুখে দেওয়ার আগে সুমাইয়া আমার চোখে তাকাল। তারপর খুব স্বাভাবিকভাবে মুখের নেকাব সরাল। আবার তাকাল। একটু পরোটা মুখে দিতে দিতে বলল, ‘আপনারে চিনতে পারায় খুব অবাক হইছেন?’

আমি দুইদিকে মাথা নাড়ি। অর্থাৎ, মোটেও অবাক হইনি! আমার সামনে সেই বছরদুয়েক আগের মুখ। প্রায় একই। কোনো পরিবর্তন নেই।

‘তাহলে?’ এবার গলার স্বর একটু বাড়িয়ে সে বলল, ‘আমারে এইভাবে দেইখা অবাক হইচেন?’

‘হুঁ।’ বললাম। সঙ্গে আর কোনো প্রশ্ন করলাম না। এবার আমার কৌতূহলের উত্তর সুমাইয়াই দেবে বুঝতে পারলাম। জানতে চাইল, ‘সময় আছে?’

তা খানিক আছে। বরং, সে যদি চন্দরপুরের দিকে যায়, তাহলে অন্ধকার হয়ে গেলে যেতে অসুবিধা হতে পারে। বুঝলাম সে হিসেব তার আছে।

চার

আমাদের কাছে থেকে বিদায় নিয়ে, কুশিয়ারার পাড় ধরে নিজেদের বহরের দিকে যেতে যেতে, ওই পথটুকু যাওয়ার মাঝখানেই সুমাইয়ার জীবনে সবচেয়ে বড়ো পরিবর্তন ঘটে।

এই কথা জানিয়েছিল সে। অনায়াস স্বীকারোক্তি। আমাকে আর কিছু জানতে চাওয়ার সুযোগও দেয়নি। অথবা, তখন সে-কথা শুনতে উদ্গ্রীব আমার আর কিছু জানার প্রয়োজনও ছিল না। শুধু তার দিকে তাকিয়ে থাকা।

পথে একজন বড়শি বাইছিল। সুমাইয়াই তার কাছে দাঁড়ায়। এ-পথে আগে আসেনি। আর কতটা পথ গেলে চন্দরপুর? জানতে চাইলে সে বলেছিল, দুটো বাঁক ঘুরে গেলে, সামনের বাঁকের পরই দেখা যাবে চন্দরপুর ফেরিঘাট। তবে নদীর এ-পাড় ধরে যেতে তাকে আরো একটা বাঁক ঘুরতে হবে। তখন সেই লোকটি তার কাছে জানতে চেয়েছিল, কোথায় কতদূর থেকে এসেছে সে। সে বহরগ্রামের কথা জানালে, জানতে চেয়েছিল, তাহলে নদী পার হয়েছে কীভাবে?

সেকথা বলার পরে, লোকটা পাশে একটা প্যাকেটে রাখা ঠোঙা থেকে মুড়ি খায়। সুমাইয়াকেও খেতে বলে। এতক্ষণের পথ হাঁটায় সুমাইয়ার খিদে পেয়েছিল। পানির তেষ্টাও। লোকটা পানির বোতল এগিয়ে দিয়ে মাথার ওপর বড়ো লাঠিতে বাঁধা ছাতা ঠিক করে। দুইদিকে তাকায়। সুমাইয়াকে ছাতার নিচে বসতে বলে। তারপর উঠে নদীর পারের বাঁশঝোপের দিকে যায় মাছের আধার আনতে। সুমাইয়া বসে থাকে। লোকটা অনেকক্ষণ হওয়ার পরেও আর আসে না। সুমাইয়া ভেবেছে, মনে হয় কোনো বাইরের কাজে গেছে। আজো সুমাইয়া জানে না, লোকটা অতক্ষণের জন্যে কেন গিয়েছিল।

ফিরে এসে জানতে চায়, এই যে দুনিয়াদারি ঘুরে বেড়ানো, এই কাজ ভালো লাগে? সুমাইয়া জানে তার উত্তর। জাতের কাজ।

মা-নানিরে করতে দেখেছে, এখন সেও করে। এর আর ভালোমন্দ কী? এই জীবনে এই কাজ ছাড়া আর কোনো কিছুই জানে না তো সে।

লোকটার কথা ভালো লাগে সুমাইয়ার। কী একটানা একটু দূরে নদীর পানির দিকে সারাদিন তাকিয়ে থাকে। চোখ জোড়া তুলে মাঝে মাঝে তাকে এটা-ওটা জিজ্ঞেস করে। ছাতার ছায়ায় তারা দুজন বসে থাকে। কিন্তু এই রকম জোয়ান তাজা মানুষ সারাদিন এভাবে বসে বসে মাছ ধরে। অন্য কোনো কাজ করে না। সুমাইয়া জানতে চেয়েছিল, মাছ ওঠে? লোকটা খুব অবাক চোখে তার দিকে তাকিয়ে হেসেছিল। বলেছে, ওঠে। না উঠলে কেউ সারাদিন বসে থাকে। ভালো আধার দিলে, গোয়াল (বোয়াল) মাছ ওঠে। যদিও সুমাইয়া জানে বোয়াল ধরতে ইঁদুর অথবা মরা ব্যাঙ দিতে হয়। লোকটা কী ব্যাঙ খুঁজতে এতক্ষণের জন্যে ওই বাঁশবাগানের আশেপাশে গিয়েছিল?

লোকটা একইভাবে সুমাইয়ার দিকে চেয়ে থাকে। মাছধরা নিয়ে গুনগুনায়। তাকিয়ে থাকে। সুমাইয়ার একবার মনে হয়, উঠে যায়। আবার কী মনে করে অমন তাকিয়ে থাকাটা দেখতেই যেন বসে থাকে। সে তাকায়। লোকটা বলে, আইজকার মতন মাছ সে কোনোদিন ধরে নাই।

সুমাইয়া সে-কথার অর্থ বোঝে না। বরং জানতে চায়, কোথায় সে মাছ। লোকটা তার বামহাতখানা বাড়িয়ে, সুমাইয়ার ডানহাত ধরে নদীর দিকে দেখায়। ওই যে মাছের গালসিতে রশি দিয়ে পানিতে ছেড়ে দেওয়া। সুমাইয়া দেখে, নিচের দিকে একটা লোহার খুঁট, সেখান থেকে একটা রশি নদীর পানিতে নেমে গেছে। নিশ্চয়ই সেই রশির মাথায়, পানির ভেতরে বড়ো কোনো মাছ আছে। সেদিকেই সে কিছুক্ষণ একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। লোকটাও চুপ।

ফাঁকে একবার সুমাইয়ার দিকে তাকায়। শরীরও নিরিখ করে। সুমাইয়া বোঝে। ভাবে, এবার ওঠা দরকার। একটু জিরানো হলো। তখন লোকটা জানতে চায়, আজকের বড়ো মাছটা দেখবে না? সুমাইয়া অবাক হয়ে তার দিকে তাকায়।

লোকটি তখন সুমাইয়ার গা-ঘেঁষে আসে। একবার দুইবার পিছনে তাকায়। ডানে-বামেও তাকায় না। সামনে নদী। ডানে-বাঁয়ে একবার দেখে নিলেই হয়। কোথাও কেউ নেই। সুনসান চরাচরে সে সুমাইয়ার ডানহাত ধরে বলে, এইডা আমার আজকের বড়ো মাছ!

সুমাইয়ার তাতে অবাক লাগে না। বড়ো অদ্ভুত চোখে তখন তার দিকে তাকিয়েছিল, সেও লোকটির দিকে চেয়ে দেখেছে, কেমন হাসিমুখে এ-কথা বলেছে। অস্বাভাবিক রহস্য। যখন গলাটা নামিয়ে জানতে চায়, ‘এই সারাডাদিন গ্রামে গ্রামে হাঁটি পাও কত? তাতে পেট চলে।’

সুমাইয়া জানিয়েছিল, তা যা-ই পায় নিয়ে মার কাছে দে। কিন্তু লোকটা তার আগেই বলে, কত? যাই পাক সে, তার চেয়ে বেশি তাকে দেবে। বলে একইভাবে হাসে ও তাকায়। এই ইঙ্গিত সুমাইয়ার এখন আরো অদ্ভুত লাগে। এমন না যে এই ইঙ্গিত সে বোঝে না, এতে সে আগেও সাড়া দেয়নি, কিন্তু এই লোকটি। তার এমন কথা। সে তো ভেবেছিল, এই লোক তাকে অন্য কথা শোনাবে। অদ্ভুত সে-কথা। যা কেউ তাকে বলেনি। তাদের বহরের এক ছোকরা তাকে বলেছে বটে। তার সঙ্গেই তার বিয়ে হবে কোনোদিন। এমনই সে অন্যদের ক্ষেত্রে দেখে এসেছে। তাহলে তার ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু একটু আগে তার মনে হয়েছিল, অমন করে তার দিকে কেউ তাকায়নি। সে-ই হঠাৎ সারাদিনের হিসাব পাওনা গন্ডা এইভাবে মিটিয়ে দিতে চাইছে।

সে-কথা বলার পরও লোকটার মুখে সেই একই হাসি। একটু লজ্জা পাওয়া চোখে সুমাইয়া তাকায়। লোকটি তার হাত ছাড়েনি। আবার ডানে-বাঁয়ে না দেখার মতো করে দেখে, পিছনে অপলক কী যেন দেখল। সুমাইয়াও পিছনে তাকায়। সেই ঘন বাঁশঝাড়, তারপাশে একটা শিরীষ, সেটাও বড়ো। তারপর জঙ্গল মতন। নদীর কূল থেকে সেটুকু তফাতে, ভরা নদীতে যতদূর পর্যন্ত পানি ওঠে। তারপর, মুহূর্তে ফিরে, সুমাইয়ার চোখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে, লোকটা উঠে দাঁড়ায়। হাতে টান পড়ায় সুমাইয়াকেও দাঁড়াতে হয়। লোকটা হাত ছাড়ে না। সুমাইয়া তার চোখ দেখে। লোকটা সুমাইয়াকে হাত ধরে ওই বাঁশবাগানের দিকে নিয়ে যায়।

সুমাইয়া অজানা এক ঘোরে পড়ে। হাতটা ফাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে দাঁড়ায়। তখন লোকটি তার দিকে তাকিয়েছিল, সুমাইয়া যাবে কি-না যেন তাই বুঝতে। কিন্তু তখন সে তো তার অধীন যেন। আপসে হাঁটে। এক পাশ দিয়ে সামনে বাঁশঝোপ ফেলে একটু ভেতরে ঢোকে। পাশের মোড়টার পরে যেখানে অন্য গাছের জঙ্গল শুরু সে পর্যন্ত গিয়ে দেখে মাটিতে পলিথিন পাতা। মাথার দিকে একটা পুঁটলি মতন, প্রায় বালিশ। লোকটা বড়শি পেতে কখনো এখানে এসে কিছু সময়ের জন্যে শুয়ে থাকে। পাশে একটা বড়ো পানির বোতল।

এতকিছু দেখার আগেই লোকটা সুমাইয়াকে জড়িয়ে ধরে। আরো কাছে টানে। আঁকড়ায়। সুমাইয়ার সঙ্গের পুঁটলিটা নিচে রাখে। পিঠে হাত আঁকড়ে ধরতে টান দেয় লোকটা। সুমাইয়ার মাথা তোলে, ঠোঁটে ঠোঁট গোঁজে। লোকটা তাকে শুইয়ে ফেলে। সুমাইয়া তাকে বাধা দেয়নি।

কিন্তু একটু পরে, এই কিছুক্ষণ পরে, হঠাৎ ওই পলিথিনের ওপর শোয়া সুমাইয়া চোখ খুলে দেখে, তার শরীরের দুই পাশে মানুষের আরো পা। লোকটা ততক্ষণে থেমে গেছে। ঘাড় উঁচু করে তাকিয়েছে।

‘আবিদ ভাই!’ সুমাইয়া সেই জানতে পারল লোকটার নাম আবিদ।

তখন এর ফয়সালা কী? এই মেয়ের সঙ্গে আবিদকে তারা বিয়ে দেবে। নাকি তারাই এই মেয়ের সঙ্গে। না, সে প্রস্তাব তারা দেয়নি। বিয়ে দেবে। হয়তো আবিদের সঙ্গে তাদের শত্রম্নতা ছিল। তারা অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ করছিল। কিন্তু কোথায় ছিল! আজো সুমাইয়া তা জানে না, কোথা থেকে এসেছিল তারা। আবিদও পরে তাকে বলেনি।

সেখান থেকে তাদের দুজনকে সেই চারজন ফেরিঘাটের দিকে নিয়ে যায়। সেখানের মসজিদের ইমাম সাহেবকে আনবে। তাদের বিয়ে পড়িয়ে দেবে। সেই শেষ বিকালে সুমাইয়া ওই ঘাটে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিল। আশেপাশের রেস্টুরেন্ট ও দোকান থেকে সবাই এসেছে। মোবাইলে ডেকে এনেছে অনেককে।

— ওই ছেড়ি তোর জাত কিতা?

— বাইদানির আবার জাত কিতা।

সুমাইয়া বলেছিল সে মুসলমান।

— বাইদানির আবার মুসলমান ইহুদি!

— নাম কিতা?

— বাড়ি কই?

— বাইদানি গো আবার বাড়িঘর থাহেনি?

সুমাইয়া বলেছিল বাড়ি কোথায়, কেউ বিশ্বাস করেনি।

— শ্রীপুর না ছিরিপুর কি তা?

— আবিদ তাকে কত দিতে চেয়েছে?

— টেকা দিরাম, যাবি আমার সাত? তারপর আঙুল তুলে পাশের ভাঙা মার্কেটটা দেখায়। প্রায় পরিত্যক্ত। দোকানগুলোর সামনে ঘাস গজিয়েছে। গেটের ওপরে কী লেখা সুমাইয়া পড়তে পারে না। জীবনেও সে স্কুলে যায়নি। তবে বাপের পরিচিত একজন অনেকদিন আগে অ-আ-ই পড়িয়েছিল। সে বিদ্যায় এই মার্কেটের নাম সে পড়তে পারে না। তাকে যদি সত্যি পিছনে নিয়ে যায়! সেই লোকটা কোথায়? আবিদ। লোকটা একটু পরে আসে। মাথায় একটা টুপি। কিন্তু ইমাম সাহেব এই মেয়েকে মসজিদের বারান্দায়ও নেবেন না। তাহলে এই দোকানে। টিভিতে একটা হিন্দি ছবি চলছিল। সবাই মোনাজাত ধরলে তা বন্ধ করে দেয় দোকানদার। সুরাইয়ার উকিল বাপ হয় একজন। সুরাইয়া বলে কবুল, আবিদও। বাদবাকি কিছুই সে জানে না। কাজির অফিস গোলাপগঞ্জ। সেখানে পরে গেলেও চলবে। একজন আবিদকে বলে, ‘এহোন বাঁশবাগানে না, বাড়িত নিয়ে চালা!’

অন্য একজন বলে, ‘আবিদের বাপ বাড়িত উঠতে দেবে নি বা!’

আর একজন, ‘মিঠা কই, মুখ মিঠাকরন লাগব!’

আবিদ উঠে যায়। ভিড় পাতলা হয়।

‘বাইদানির বিয়া দিচোইন?’ আশেপাশে এমন কথা শোনা যায়। কেউ কেউ সুমাইয়া দেখতে কেমন তাও বলে। আবিদ তখন একটি সিএনজির পিছনের সিট থেকে গলা বাড়িয়ে সুমাইয়াকে ডাকে। সুমাইয়া ওঠে। আবিদের পাশে তার এক বন্ধু। সে এতক্ষণ কোনো কথা বলেনি। মনমরা হয়েছিল।

দোকান থেকে শোনা যায়, ‘আবিদ ওই লই পলায়।’

যদিও সুমাইয়া তখনো জানে না কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তাকে।

তবে, আবিদ আর বন্ধু লিপুর কথোপকথনে বোঝে, এ সবই শত্রম্নতা।

আবিদের সঙ্গে কবে এ-পাড়ের ঘাট ডাকঅলার ঝগড়া হয়েছিল, সেই শোধ তুলল।

তাদের কথায় মনে হয়, যেন এরাই সুমাইয়াকে তার কাছে পাঠিয়েছিল।

সেদিন সুমাইয়া তো ঘাটঅলার টেবিল পর্যন্ত আসেইনি। ঘাটঅলা আমার সেদিন সঙ্গীকে বলেছিল, ‘নায়ে তিনজন পার হইচোইন, তিনজনের পয়সা দেওন লাগবে।’ ততক্ষণে সুমাইয়া নদীর পাড় ধরে পথ এগিয়েছে নিজের গন্তব্যের দিকে। অথচ সে-গন্তব্যে আর পৌঁছানো হয়নি তার। আমাদের তো সিএনজি পেতে একটু দেরি হয়েছিল, তখন সুমাইয়া আবিদের কাছে। তারপর গোলাপগঞ্জে পৌঁছে আমরা বনরাজে বসেছিলাম। হয়তো তখন সুমাইয়া আর আবিদের বিয়ে পড়ানো হচ্ছিল।

এরপর অবশ্য আর কিছুই শোনার ছিল না। সুমাইয়া বলে যেতে পারত, বলেও ছিল। তাকে নিয়ে বাড়িতে ঢোকা সম্ভব নয়, তাই সে-রাতে গোলাপগঞ্জ হয়ে হেতিমগঞ্জে। সেখান থেকে খাদিমনগর। লিপু কথা বলার জন্যে আবিদকে অন্য একটা সিম দিয়েছিল। সেটা দিয়ে শুধু লিপুর সঙ্গেই আবিদের যোগাযোগ হতো।

তারপর একদিন সে আবিদদের বাড়ি যায়। আবিদের দুলাভাই আর লিপুই এসে তাদের নিয়ে যায়। পরে শুনেছে সে, এরপর তাদের বহর থেকে শিবপুর ঘাটে লোক এসেছিল। চন্দরপুরে তাদের বহরে গিয়ে কেউ একজন বলেছিল, এই ঘাটের এক বেদেনির সঙ্গে একজনের বিয়ে হয়েছে। ঘাট থেকে আবিদদের বাড়ির কথা বলাও হয়েছিল। কিন্তু সেখানে আবিদ নেই। সে-বাড়ির কেউ কিছু জানে না।

সত্যি, সুমাইয়া এতদিন কিছুই জানত না। কষ্টে থাকুক আর যাই হোক, আবিদকে তার ভালো লেগেছিল, কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে তাকে বলা হয়, আর কোনোদিন বহরের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখতে পারবে না। সুমাইয়া রাখেনি। এভাবে চলতে হবে, সুমাইয়া তাই চলে। বলেই সে নেকাবটা টেনে দিয়ে একবার মুখে ঢেকে দেখায়।

তারপর সুমাইয়া হেসে বলে, ‘তবু মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ থাকে। এই আপনাদের পথে দেখলে না মাতি (কথা না বলে) পারতাইম?’

আমি সুমাইয়াকে দেখি। কী স্পষ্ট! কী স্বাধীন ভেতরে ভেতরে। তখন আজ কেন সে বেরিয়েছিল, তাও জানা গেল।

তাদের বহর থেকে একদিন এই গোলাপগঞ্জে আসলে, অন্য বহরের আরেকটি মেয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। সেই মেয়ের সঙ্গে সুমাইয়া সই পাতায়। নাম চাঁপা। চাঁপার বাচ্চা হয়েছে কদিন আগে। নিকলির উত্তরে তাদের বহর। তার বাচ্চা দেখতে গেছিল সুমাইয়া। আবিদ যেতে দিয়েছে। যদিও বলেছে, বাড়ির কেউ যেন জানে না। তাই প্রতিবেশী এক ননদের সঙ্গে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বের হয়েছে। আসলে সেই ননদ গেছে বাজারের ভেতরে তার নাগরের সঙ্গে দেখা করতে। এখানেই আসবে। নয়তো সুমাইয়া যাবে তাদের কাছে। তারপর ফিরে যাবে শিবপুর!

সুমাইয়া আমায় মনে করিয়ে দেয়, আমার দেরি হয়ে গেল। সে মুখে নেকাবের ঢাকনা দেয়। আমার পিছনে উঠে আসে। ওঠার আগে বলে, ‘আবার কোনোদিন এই পথে দেখা হই যাবে, ভাই!’

আমি বলি, ‘হুঁ, হই যাবে। ভালো থাইকেন!

সুমাইয়া আবার মনে করায়, ‘আমারে আপনে কইন কেনে?’

বলি, ‘ভালো থাইকো।’

‘আপনেও!’

বনরাজের বাইরে এসে দাঁড়াতেই, একটা সিগারেট ধরাব কি-না ভাবি। সুমাইয়া তখন পাশে এসে দাঁড়ায়। বুঝলাম, মুখখানা ভেতরে হাসি হাসি। একটু সলজ্জ। আমার কাছে জানতে চায়, ‘আমার ইতা লিখতাইনি?’

আমি চকিতে আড়চোখে তাকাই, ‘কী?’

‘ইতা! এই যে ছুমাইয়ার কথা কইলাম?’

আমি তার দিকে তাকাই। সে আমার মন্তব্যের আগেই বলে, ‘যাইগি!’

আমার মনে হয়, সে অন্য কারো গল্প এতক্ষণ আমায় শুনিয়ে গেল। অথচ, সেই গল্পটা তার নিজেরই জীবনের! স্বাধীনতা থেকে অবগুণ্ঠনের!

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev