মাধব চক্রবর্তীর জীবনটাই একটা বিস্ময়।
এটা কিন্তু প্রশংসার কথা নয়। খুবই চিন্তার কথা। কোন কাজ না করে, কোনদিন একটুও উদ্বিগ্ন না হয়ে, কেমন ধীর স্থির ও শান্তভাবে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে মাধব চক্রবর্তী।
বয়সটাও পঞ্চাশ পার হতে চলেছে। কিন্তু জীবনের শেষ পালার দিনগুলির জন্যেও যেন কোন উদ্বেগ মাধব চক্রবর্তীর ভাবনা বিচলিত করে না। প্রশান্ত মনে ঘরের আঙিনার এক কোণে একটা মোড়ার উপর ধীর স্থির হয়ে বসে এক-একটা বেলা পার করে দিতে পারেন মাধব চক্রবর্তী। হাতে জপের মালা নেই, কোন ধর্মগ্রন্থও থাকে না, শুধু এক পরম আলস্যের আরামে সমাহিত হয়ে বসে থাকা। লোভী কাকটা আঙিনার পাশের পেয়ারা গাছে বসে পাকা পাকা পেয়ারা ঠুকরে ফেলে দিচ্ছে। হাত তুলে লোভী কাকটাকে একটা তাড়াও দেবে না মাধব চক্রবর্তী। দৃশ্যটা যেন মাধব চক্রবর্তীর চোখেই পড়ে না।
হ্যাঁ, রাজেন যখন ডাক দেয়, ভাত খাবে এসো বাবা, তখন মাধব চক্রবর্তীর এই আলস্যের সমাধিটা নড়াচড়া করে আস্তে আস্তে ভাঙতে থাকে। পুকুরঘাটে গিয়ে স্নান করেন মাধব চক্রবর্তী। তারপর ভাত খাওয়া সেরে নিয়ে আবার আঙিনার এক কোণে একটা মোড়ার উপর বসে থাকেন।
রাজেন, মাধব চক্রবর্তীর এই ছেলেটার বয়স এখন মাত্র ষোল বছর। এখন এই ছেলেটার রোজগারেই মাধব চক্রবর্তীর ঘরের উনানে হাঁড়ি চড়ে। ছেলেটা পাশের গাঁয়ের জমিদারবাড়ির সেরেস্তায় হিসাব লেখে, আর তার পাশের গ্রামের এক জমিদারের তিন বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েকে অঙ্ক শেখায়। তাই মাধব চক্রবর্তীর বাড়িতে রোজ দু’বেলা না হোক্, অন্তত এক বেলা উনান জ্বলে, হাঁড়ি চড়ে আর ভাতও হয়।
কিন্তু মাধব চক্রবর্তীর কোন অভিযোগ নেই। দু’বেলা ভাত হলে যেমন তৃপ্তি, একবেলা ভাত হলেও যেন তেমনই তৃপ্তি।
রাজেন যখন ছোট ছিল, তখনও মাধব চক্রবর্তীর এই তৃপ্তি আর প্রশান্তি আর আলস্য অটুট ছিল। তখন ভাত যোগাড়ের সব দায় যার উপর ছিল, সে এখন আর বেঁচে নেই। রাজেনের মা গ্রামের এপাড়া আর ওপাড়া ঘুরে, এ-বাড়ি আর সে-বাড়ির গৃহিণীদের নিত্যদিনের কাজে খেটে দিয়ে, কখনও বা শুধু আবেদন করে চেয়ে নিয়ে, যে চাল-ডাল যোগাড় করে নিয়ে আসতেন, তাতেই মাধব চক্রবর্তীর সংসারের প্রাণটা দু’বেলার না হোক, অন্তত একবেলার খোরাক পেয়ে যেত। মাঝে মাঝে কোনদিন দু’বেলা উপোসে কাটাতে হলেও মাধব চক্রবর্তী অভিযোগ করেননি। সকাল দুপুর আর বিকেল ঠিক এভাবে আঙিনার এক কোণে চুপ করে বসে থেকেছেন, আর সন্ধ্যা হলেই দাওয়ার উপর মাদুর পেতে শুয়ে পড়েছেন।
অভিযোগ করা দূরে থাক, কোনদিন চেঁচিয়ে একটা কথা বলেননি মাধব চক্রবর্তী। এখনও বলেন না। সারাক্ষণ চুপ করে বসে থেকেও মাধব চক্রবর্তীর মুখটা কখনও গম্ভীর হয় না। বরং দেখা যায় যে, বেশ শান্ত একটা হাসি ফুটে আছে মাধব চক্রবর্তীর মুখে।
গ্রামের মানুষের সঙ্গে যখন কথা বলেন চক্রবর্তী, তখনও এই অদ্ভূত শান্ত হাসিটা তাঁর চোখেমুখে লেগেই থাকে।
—কি হে চক্রবর্তী, শুনলাম রাজেনের মা’র নাকি খুব জ্বর?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েও হেসে বলছিলেন মাধব চক্রবর্তী—হ্যাঁ, খুব জ্বর।
এই তো, তিন বছর আগে রাজেনের মা তিন দিনের জ্বরে ভুগে যেদিন চোখ বুঁজেছিলেন, সেদিন মাধব চক্রবর্তীর মুখের দিকে তাকিয়ে গ্রামের মানুষের মন সত্যিই বেশ রাগ করেছিল। শ্মশানঘাটে বসে কেমন শান্ত দু চোখ তুলে জ্বলন্ত চিতার দিকে তাকিয়ে ছিলেন মাধব চক্রবর্তী। শান্ত চোখ দুটো যেন শান্ত হাসির দুটো চোখ। আর মুখটা অবিকার। সেই তৃপ্ত আর প্রশান্ত মুখ।
হরনাথবাবু ফিসফিস করে বলেছিলেন, লোকটা হয় পিশাচ, নয় ঋষি।
রাজেনের মা মারা যাবার পর, রাজেনই মাধব চক্রবর্তীর সংসারের অন্নচিন্তায় সহায়। ঐটুকু ছেলে ভিন্ গ্রামের বাড়িতে ছেলে পড়িয়ে হিসেব লেখার কাজ করে দুবেলার না হোক, একবেলার ভাত যোগাড় করে।
গ্রামের সবাই ভেবেছিল, এইবার বিচলিত হবেন মাধব চক্রবর্তী। অন্তত কিছু দিনের জন্য মাধব চক্রবর্তীকে এই নিদারুণ কুঁড়েমির আরাম থেকে সরে আসতে হবে, খাটতে হবে, কাজ করতে হবে। না হলে খাবে কি লোকটা?
রাজেন একটা চাকরি পেয়েছে। যুদ্ধের চাকরি। তাও আবার এদেশে নয়, অনেক দূরে সিঙ্গাপুর গিয়ে এক সেনাশিবিরে কেরানীর কাজ করতে হবে।
মাইনে একরকম মন্দ নয়। কিন্তু নিজের খাওয়া-পরার জন্য খরচ করে মাইনে থেকে কি-ই বা বাঁচাতে পারবে রাজেন? যদি নেহাতই কিছু বাঁচাতে পারে আর বাপকে পাঠায়, তবু তো বেশ কিছুদিন দেরি হবে। অন্তত দুতিন মাস না গেলে রাজেন যে টাকা পাঠাতে পারবে না, এটা বুঝতে অসুবিধে নেই।
সবাই বুঝেছে, কিন্তু মাধব চক্রবর্তী বুঝতে পেরেছেন বলে মনে হয় না।
রাজেন যেদিন মাধব চক্রবর্তীকে প্রণাম করে রওনা হয়ে গেল, সেদিনও গ্রামের মানুষ আশ্চর্য হয়ে গেল, কেমন শান্ত হয়ে আঙিনার এক কোণে মোড়ার উপর বসে আছেন মাধব চক্রবর্তী। রাজেনকে একটুও বাধা দিলেন না, কোন অভিযোগ কিংবা অনুরোধও করলেন না। রাজেন চলে যাবার পরেও দেখা গেল, মাধব চক্রবর্তীর চোখ-মুখ তেমনই নিবিড় আলস্যের আরামে যেন মুগ্ধ হয়ে হাসছে। ঘর শূন্য হয়ে গিয়েছে, কিন্তু মাধব চক্রবর্তীর প্রাণটা যেন নিজেরই শূন্যতার গৌরবে ধন্য হয়ে বসে আছে।
হরনাথবাবু একবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কি বলে গেল রাজেন? মাসে মাসে টাকা পাঠাবে?
মাধব চক্রবর্তী তেমনই শান্ত হাসির মুখ তুলে বললেন—কই? রাজেন তো কিছু বলেনি।
—তুমিও কিছু জিজ্ঞাসা করনি?
—না।
—তাহলে বলো, রাজেন কিছু টাকা পয়সা দিয়ে গিয়েছে!
—না।
—হেসে হেসে এত না-না তো করছ, কিন্তু ভেবে দেখেছ কি? পেট চলবে কি করে? মাধব চক্রবর্তী শুধু চুপ করে হাসিমুখে তুলে হরনাথবাবুর দিকে তাকিয়ে থাকেন। কোন কথা বলেন না।
হরনাথবাবু একদিন চমকে উঠলেন।
দেখতে পেলেন হরনাথবাবু, মাধব চক্রবর্তীর হাতে একটা ঘটি আর একটা কাঁথা। কোথায় যেন চলে যাচ্ছেন মাধব চক্রবর্তী। মুখে সেই প্রশান্ত হাসি।
—কোথায় চললে মাধব?
—আকাশ-বৃত্তি।
—তার মানে?
—বাকি দিনগুলি আকাশ-বৃত্তি করে পার করে দিতে চাই!
আকাশ-বৃত্তি! কথাটা হরনাথবাবুর কাছে নতুন কথা অবশ্য নয়। তিনি নিজেই কতবার গল্প করে গাঁয়ের মানুষের কাছে গর্ব করেছেন—আমাদের এই গাঁয়ের তিনজন ব্রাহ্মণ আকাশ-বৃত্তি করে জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন।
গ্রামের বাইরে নদীর কিনারায়, কোন বটের ছায়ার কাছে এক একান্ত নিরালায়, এক পাতার কুটিরের নিভৃতে বাস করে আর আকাশের দিকে তাকিয়ে দিন পার করে দিতে হয়। কারও কাছে এক কণা চাল চাইবারও নিয়ম নেই। যদি কেউ নিজের ইচ্ছায় এসে কিছু চাল-ডাল দিয়ে যায়, তবেই খাওয়া হবে, নইলে নয়। অন্নচিন্তা করবার কোন অধিকার নেই। পুরাণের গল্পে আছে, কঠোরতপা মুনি-ঋষিরা শুধু বায়ু পান করে জীবনধারণ করতেন। আকাশবৃত্তি সেইরকমই একটা ভয়ানক কঠোর বৃত্তি। মাধব চক্রবর্তী এহেন আকাশবৃত্তি করবার সাহস করে, কী আশ্চর্য!
কিন্তু দেখা গেল, সত্যিই আকাশবৃত্তি নিয়ে নদীর কিনারায় একটা বটের ছায়ায় বসে আছেন মাধব চক্রবর্তী, এ খবর জানে সবাই, দেখেছেও অনেকে। ভিন্ গাঁয়ের লোকেরাও দেখেছে।
কিন্তু একদিন হেসে ফেললেন হরনাথবাবু—মাধব চক্রবর্তী বোকা নয় হে। ভয়ানক চালাক, অতি ভয়ানক চালাক।
—কেন?
—আকাশবৃত্তির দয়াতে আজকাল যা খাচ্ছে মাধব, তেমন খাওয়া জীবনে কোনদিন খেতে পায়নি। রোজই খিচুড়ি রাঁধছে—পায়েস-টায়েসও চলে। তাছাড়া ফলটলও কম জুটছে না।
—কোথা থেকে জুটছে?
দশটা গ্রামের লোক দিচ্ছে। হাটের দিন তো কথাই নেই, লোকের দানের সিধায় মাধবের উপোসী ঘর প্রায় একটা মুদিখানা হয়ে ওঠে। শুনলাম, মাধব নিজেও আজকাল দানটান করে। ভিখারী দেখতে পেলে ডাক দিয়ে চাল ডাল দেয়।
সনাতনও একদিন গিয়ে দেখে এসেছে, বেশ গোলগোল নাদুস হয়েছে মাধব চক্রবর্তীর বুড়ো বয়সের চেহারা।
ভোলা ভটচাজ বলে—আকাশবৃত্তি নয় হে, পায়েস বৃত্তি। হাঁড়ি ভর্তি পায়েস।
যেমন হরনাথবাবু, তেমনই আরও অনেকে আশ্চর্য হয়েছেন। রাজেন জাপানী বোমায় মারা গিয়েছে, খবরটা কি শোনেননি মাধব?
ভোলাবাবু বলেন—শুনেছে, আমিই সেদিন শুনিয়ে এসেছি। কিন্তু…
—কি?
—কিন্তু, মাধব চক্রবর্তী তাতে একটুও দুঃখিত হয়েছে বলে মনে হলো না।
—আশ্চর্য!
—হ্যাঁ, আশ্চর্যই বটে। একটা কথাও বললে না, চুপ করে আকাশপানে তাকিয়ে শুধু হাসল।
—হাসবেই তো। আকাশবৃত্তি যখন ভালো মতো চলছে, আর পায়েস-টায়েস জুটছে, তখন ছেলের মৃত্যুতেও ওর কোন চিন্তা নেই।
গ্রামের মানুষের প্রাণ কিন্তু এরই মধ্যে একটা আতঙ্কের আঘাতে সব হাসি হারিয়েছে। গ্রামের কিছু মানুষ চলেও গিয়েছে। চারদিকে অন্নাভাবে হাহাকার পড়েছে। দুর্ভিক্ষ, সরকার নিজেই স্বীকার করেছেন, এ জেলাতে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।
হরনাথবাবুর মতো অবস্থার মানুষও একবেলা ভাত খান। ভোলাবাবু বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন। সনাতনের এত বড় গোয়ালটাও শূন্য, সব গরু বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
তবু দুর্ভিক্ষের ভয় যেন সারা গ্রামের প্রাণের উপর একটা অভিশাপের মতো চেপে বসে আছে। ভিখারি এলে গ্রামের মানুষ রাগ করে তাড়া দেয়। কোন সাধু এসে দীঘির ধারে সারাদিন বসে থাকলেও ভাত পায় না। কে দেবে ভাত? সবাই যে নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে রাখবার চিন্তাতেই বিপন্ন। যার ঘরে পাঁচ সের চাল আছে, সেও সাবধানে কথা বলে, কেউ যেন টের না পায় যে ঘরে পাঁচ সের চাল আছে।
এইরকমই আতঙ্কের এক দিনে হরনাথবাবু সারা গাঁয়ের মানুষকে একটা খবর দিয়ে চঞ্চল করে তুললেন। —ওহে, মাধব চক্রবর্তী যে যেতে বসেছে।
—কি হলো?
—আজকাল সত্যিই আকাশবৃত্তি করছে মাধব। শুধু হাওয়া খেয়ে কোন মতে বেঁচে আছে। কিন্তু মনে হচ্ছে…।
—কি?
—ভাতটাত না পেলে মাধব আর বাঁচবে না।
—ভাত-টাত পাচ্ছে না কেন?
—কে দেবে ভাত সবাই যে নিজের প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত। দু’মুঠো চাল দেবার সাহস করবে কে?
—কেন? নদীর ধারেই তো একটা সরকারি লঙ্গরখানা খুলেছে। মাধব চক্রবর্তী ইচ্ছে করলেই, সেখান থেকে কিছু ফেনভাত পেতে পারে।
হরনাথবাবু হাসেন—আকাশবৃত্তিতে বাধে। ভিক্ষে করা বা চাওয়া কিংবা কোথাও গিয়ে ভাতের জন্য হাত পাতা নিষেধ।
—তা হলে তো লোকটা মরেই যাবে মনে হচ্ছে।
—সেই জন্যেই বলছি, একটা ব্যবস্থা করা উচিত!
—কি ব্যবস্থা, বলুন।
—চলো, একবা সাগুর পায়েস আর কিছু ফল যোগাড় করে নিয়ে মাধবকে খাইয়ে আসি।
কে জানে সেদিন কী ছিল আকাশের মনে! তখন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল, আর আকাশ থেকে নদীর বুকে অদ্ভূত রকমের জ্যোত্স্না ঝরে পড়ছিল। মাধব চক্রবর্তী তাঁর ঝিরঝিরে শীর্ণ চেহারাটা নিয়ে বেশ শান্ত হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বসেছিলেন।
হরনাথবাবু সাগুর পায়েসের বাটিটা মাধব চক্রবর্তীর চোখের সামনে মাটির উপর রেখে দিয়ে অনুরোধ করলেন—খেয়ে নাও মাধব। তারপর একটু জল খাও। আর একটু পরে এই ফলগুলি খেও।
মাধব চক্রবর্তীর শান্ত মুখটা যেন শান্ত জ্যোত্স্নার সঙ্গে মিলে মিশে হাসছে। অদ্ভূত হাসি। মাধব চক্রবর্তীর সারা জীবনের আলস্যের আর অব্যস্ততার প্রতিজ্ঞাটা গর্ব করে হাসছে। আকাশের সঙ্গে প্রাণটাকেও মিশিয়ে দেবার আনন্দে তৃপ্ত আর কৃতার্থ হয়ে মাধব চক্রবর্তীর চোখ দুটো হাসছে।
—খেয়ে নাও মাধব। আবার ডাক দিলেন হরনাথবাবু।
মাধব চক্রবর্তী আস্তে আস্তে মাথা নেড়ে হাসতে থাকেন—না।
হরনাথবাবু বলেন—এ তোমার কি রকমের জেদ?
—না, জেদ নয়! আস্তে আস্তে কথা বলেন মাধব চক্রবর্তী।
মাধব চক্রবর্তী এখনও যেন সেই পরম আলস্যের সুখে মুগ্ধ হয়ে বসে আছেন। সাগুর পায়েস আর ফল-মূলের দিকে তাকাবার একটুও আগ্রহ নেই। একটুও চেষ্টা নেই। কী ভয়ানক নির্ভীক আলস্য!
কিন্তু চেঁচিয়ে উঠলেন ভোলাবাবু—এ কি হলো? এ কি হলো?
মাধব চক্রবর্তীর সেই অলস শরীরটা গাছের গায়ের উপর ঢলে পড়ছে।
চেঁচিয়ে কেঁদে উঠলেন হরনাথবাবু—এ কী কাণ্ড করলে মাধব? তুমি সত্যই ঋষি ছিলে নাকি মাধব?
ভোলাবাবু আস্তে আস্তে মাধব চক্রবর্তীর নিষ্প্রাণ শরীরটাকে দু’হাতে ধরে মাটির উপর শুইয়ে দিলেন।