আর্থিক অনটনের কারণে পিতৃ-পরিচয়হীন নাবালিকা কন্যা সন্তানকে প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে চায় পরিবার। হৃদয়স্পর্শী এই ঘটনা উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার থানার টিটিহা গ্রামের। আর ওই পরিবারের এমন চিন্তাভাবনার পাশে দাঁড়িয়েছেন গোটা এলাকার মানুষ।
উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার থানার কাপাশিয়া অঞ্চলের টিটিহা গ্রামের বাসিন্দা নাইমুদ্দিন শেখ-এর কয়েক বছর আগে মৃত্যু হয়। এরপর স্ত্রী আলেমা বেওয়া ছোট থেকে ভারসাম্যহীন মেয়ে অফেজা খাতুন-সহ এক নাবালক ছেলেকে নিয়ে কোনমত ভিক্ষা এবং দিনমজুরের কাজ করে দিন কাটাচ্ছিলেন। এমন সময় মানসিক ভারসাম্যহীন আফেজা খাতুনকে একা পেয়ে, কাম চরিতার্থ করে এলাকার কোন এক দুশ্চরিত্র ব্যাক্তি। গর্ভবতী হয়ে পড়েন মানসিক ভারসাম্যহীন আফেজা। এক ফুটফুটে কন্যা সন্তান আবেদা খাতুনের জন্মও দেন আফেজা। কিন্তু পিতৃপরিচয় অধরাই রয়ে যায় ছোট্ট আবেদার।
মানসিক ভারসাম্যহীন আফেজা, তার ছোট মেয়ে আবেদাকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করেন। কিন্তু কোভিড আবহে আর্থিক অনটনের কারণে, মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ে ও নাতনিকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন হতদরিদ্র মা আলেমা বেওয়া ও তার দিনমজুর দাদা। মেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় কোন কাজ করতে পারে না। সারাদিন ভিক্ষা করে যা জোটে, তা দিয়ে যোগাড় হয় না দু-বেলার দু-মুঠো ভাত। মানসিক ভারসাম্যহীন আফেজা সেরকম ভাবে কথা না বলতে পারলেও, হাবে ভাবে বুঝিয়ে দেন, তাঁর মেয়েকে চরম অভাবের সংসার থেকে নিয়ে যেতে। আর তাই ছোট্ট আবেদার ভবিষ্যতের কথা ভেবে, তার পরিবারের সদস্য-সহ গ্রামের বাসিন্দারা পিতৃ পরিচয়হীন ছোট্ট নাবালিকাকে তুলে দিতে চান প্রশাসনের হাতে।
এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর এবং অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই পরিবারকে অতীতে সরকারি ভাবে ও ব্যাক্তিগত ভাবে সাহায্য করা হলেও, তারা নাবালিকা আবেদা খাতুনের দায়িত্ব নিতে অপারগ। তবে, ছোট্ট আবেদার পরিবারের পক্ষ থেকে নাবালিকাকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার যে আবেদন পেয়েছেন তাতে নাবালিকার ভবিষ্যৎ-এর কথা ভেবে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে।