রাজ্যপালের চেয়ারে বসে বিজেপি ক্যাডারের মতো আচরণ কখনোই কাম্য নয়। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেভাবে আক্রমণ করছেন জগদীপ ধনখড় তা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় চলতে পারে না, সংবিধানেও স্বীকৃত নয়। এটা বাংলার পক্ষে অপমানজনক, হতাশার। আমরা চাইব সংবিধান মেনে তিনি ওই সম্মানজনক চেয়ারে বসে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করুন। অন্যথা তিনি চেয়ার ছেড়ে বিজেপির ক্যাডার হোন, আমরাও রাজনৈতিকভাবে তার মোকাবিলায় প্রস্তুত। রাজ্যপালের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে এ কথা বললেন মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ আবু তাহের খান। তিনি বলেন, রাজনীতি করার লক্ষ্যে এই কঠিন সময়ে যারা ঘোলা জলে মাছ ধরছে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরীর উদ্দেশে তিনি বলেন, দিল্লিতে বসে না থেকে জেলার মানুষের পাশে এসে তাঁর দাঁড়ানো উচিত ছিল। রাজ্য সরকারের সমালোচনা না করে ভালো পরামর্শ তো দিতে পারতেন। যে জেলা থেকে নির্বাচনে জিতেছেন সেই জেলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব তো পালন করতে পারতেন। আবু তাহের জানান, মুর্শিদাবাদ জেলায় এখন কোনও করোনা আক্রান্ত নেই। কলকাতায় থাকা সালারের এক ক্যান্সার রোগী এখানে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে তিনি কলকাতায় মারা যান। আর কোথাও করোনা পজিটিভ নেই। তা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। জেলার তিনটি নার্সিংহোমকে কোভিড ডেডিকেটেড করা হয়েছে। এখনও কেউ আক্রান্ত না হওয়ায় এগুলি কাজে লাগেনি, তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকলে প্রস্তুত রয়েছেন। আশা করি, দ্রুত এই জেলা গ্রিন জোনে চলে আসবে। এখনও বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে রয়েছেন লকডাউনের ফলে। গ্রিন জোনে কাজ শুরু হলে তাঁরা উপকৃত হবেন।
পরিযায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের উদ্দেশে আবু তাহের খান বলেন, একটু ধৈর্য রাখুন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের খরচে সকলকে ফেরানোর ব্যবস্থা করছেন। কোটা থেকে এই জেলার দুই শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ফিরে আসতে পেরেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই। ভিনরাজ্যে আটকে পড়া বাংলার মানুষজনদের ট্রেনে করে ফেরানোর ব্যবস্থা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সর্বক্ষণ মুর্শিদাবাদ জেলার খবরও রাখছেন। এই জেলায় দলীয় পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারীও খোঁজখবর নিচ্ছেন, তিনি এই জেলায় ২০ হাজার পরিবারের জন্য দুই দফায় খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছেন। তাঁকে এ জন্য ধন্যবাদ জানাই। পুরসভাগুলি কেমন কাজ করছে, জেলার মানুষের কী সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে তা জানতে ফোন করছেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। রাজ্য সরকারকে রোজ জেলার যাবতীয় আপডেট পাঠানো হচ্ছে। ব্লকে ব্লকে, বুথে বুথে কেউ অভুক্ত নেই, সকল পরিবারের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধিরা। জেলার হাসপাতালগুলিতে ভর্তি রোগীর পরিজনদের লকডাউন চলাকালীন রোজ দু-বেলা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছে পুরসভাগুলি। বৃহন্নলাদের বাড়িতেও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আবু তাহেরের আবেদন, সকলে বাড়িতে থাকুন। পবিত্র রমজান মাসে বাড়িতে বসেই দোয়া করুন, মসজিদে কেউ ভিড় করবেন না। এই জেলা যেমন ভালো অবস্থায় আছে, তেমন থাক। সমস্ত স্তরের জনপ্রতিনিধিদের থেকে এক মাসের বেতন সংগ্রহ করে রাজ্য সরকারের আপৎকালীন ত্রাণ তহবিলে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে ৫ কোটি টাকার অনুদান তুলে দেওয়া হবে বলেও জানান আবু তাহের। তাঁর কথায়, ৮০ শতাংশ অর্থ সংগৃহীত হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই ওই তহবিলে অনুদান দেওয়া সম্ভব হবে।