প্রত্যন্ত গ্রামের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। দিদির একগুচ্ছ প্রকল্পের কাজের পরিষেবা মানুষ ঠিকঠাক পাচ্ছেন কীনা তা নিয়ে খোঁজ খবর নিলেন হুগলির জেলা সভাধিপতি আলহাজ্ব সেখ মেহবুব রহমান। উদ্দেশ্য একটাই মানুষ দিদির একগুচ্ছ প্রকল্পের কাজের পরিষেবা ঠিকঠাক পাচ্ছেন তো? না কী কেউ বঞ্চিত হচ্ছেন! গত ১১ জানুয়ারি থেকে এভাবেই একটার পর একটা পঞ্চায়েতে দিদির দূত হয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই ২১টি পঞ্চায়েতে মানুষের জন্য দিদির একগুচ্ছ প্রকল্পের কাজ পৌঁছেছে কী না তা তিনি দেখেছেন। শুক্রবার তিনি পাণ্ডুয়া ব্লকের জামনা পঞ্চায়েতে মানুষের দুয়ারে হাজির হলেন। গত ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু মেহবুব সাহেবের পথ চলা। সেই পথ চলাতে নেই বিশৃঙ্খলা। আজও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ২২টি পঞ্চায়েতের হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে পরিষেবা নিয়ে খোঁজ নিলেন।

প্রসঙ্গত, মেহবুব সাহেব এদিন প্রথমে বারোয়ারি কালীমন্দিরে গিয়ে পূজা দিয়ে সকল মানুষের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। তারপর স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দরজায় কড়া নাড়েন। এখানকার পরিষেবা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশে থেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। এরপর দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন।

মেহবুব সাহেব বলেন, উন্নয়নের পথ বাংলার শপথ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একগুচ্ছ প্রকল্পের কাজের পরিষেবা ঠিকঠাক মানুষ পাচ্ছেন কীনা তা দূতদের লক্ষ্য রাখা কাজ। দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চায় রাজ্য সরকার। এজন্য প্রত্যেক পরিবারের পাশে থেকে তাঁদের অভাব অভিযোগের কথা শুনে তার সমস্যার সমাধান করা। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ থাকলেই প্রশাসনিক আধিকারিকদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মেহবুব সাহেব এদিন বিকেলে পঞ্চায়েতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে একগুচ্ছ প্রকল্পের কাজের পরিষেবা নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তারপর তিনি মূলগ্রামে জনসংযোগ সভা করেন। সভায় মানুষের অভাব অভিযোগের কথা শোনেন এবং তার সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। সন্ধ্যায় দলীয় কর্মী সভায় অংশ নেন। সভায় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিষেবা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে বলে মেহবুব সাহেব জানান।

তিনি আরও বলেন, দিদিকে শতকোটি প্রণাম জানাই। দিদি আমাকে দূত হিসেবে মানুষের দুয়ারে পাঠিয়েছেন একগুচ্ছ প্রকল্পের কাজের পরিষেবা ঠিকঠাক মানুষ পাচ্ছেন কীনা তা দেখার জন্য। আমার সরকার সব করে দিতে পারবে না। যেগুলো পারবে সেগুলো মানুষ ঠিকঠাক পাচ্ছেন কীনা তা দেখাই হল কাজ। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই রাজ্যের দেড় হাজারের বেশি পঞ্চায়েত পরিদর্শন হয়ে গেছে দিদির দূতদের। তৃণমূলের তরফে নেওয়া দিদির সুরক্ষা কবজ কর্মসূচি এখন সাফল্যের শীর্ষে।

প্রসঙ্গত, এদিন জনমানসে উৎসাহ লক্ষ্য করা গেল। দূতের সঙ্গে ছিলেন ব্লক সভাপতি সঞ্জয় ঘোষ, পঞ্চায়েত প্রধান ঝর্ণা পণ্ডিত, উপপ্রধান সুকুমার ঘোষ,স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বাবলু সরেন ও সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। উল্লেখ্য, ৬০ দিনের এই কর্মসূচি থাকলেও, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেখে, তৃণমূল দিন সংখ্যা বাড়িয়েছে। উল্লেখ্য, জনসংযোগের এই পর্ব থেকেই পঞ্চায়েত ভোটে গ্রামে তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্ক অটুট থাকছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।