আলোর পথযাত্রী কিংবা আলোর দিশারী — যে নামেই ডাকা হোক না কেন আরামবাগের আপনজন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি স্পর্শ জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। একটাই কারণ এখান থেকেই ইতিমধ্যে বহু সমাজ গড়ার কারিগর তৈরি হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে বলা যায়। এই সোসাইটির পথচলা বিরামহীন। ১২ অক্টোবর ১৭ তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হল এক মনোজ্ঞ পরিবেশে হুগলির আরামবাগে কাবলের গীতা ভবনে। এদিন বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে ১৭ তম বার্ষিক সাধারণ সভায় বিগত বছরের কার্যকলাপ ও আগামী বছরের সোসাইটির ভাবনাগুলো তুলে ধরা হয়। প্রসঙ্গত, এই সোসাইটির পথচলা শুরুটা ছিল একেবারেই সাদামাটা। যাঁর হাতে ধরে, তিনি হলেন জয়দেব চক্রবর্তী। রাজ্য পুলিশের পদস্থ কর্তা। কর্মব্যস্ত জীবনে ভুলে যাননি সমাজের দায়বদ্ধতার কথা। নিঃস্ব-রিক্ত, দারিদ্র্য ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে থেকে আলোর পথযাত্রী হয়ে বাঁচতে চেয়েছিলেন। তাঁর স্বপ্ন সার্থক।
দেখতে দেখতে ১৭ বছর পার করেছে এই সোসাইটি। জয়দেববাবুর মূল মন্ত্র ছিল সদিচ্ছা থাকলে ভালো কাজ করা যায় দারিদ্র্য কখনও বাধা হতে পারে না। পৃথিবীতে এসেছো কর্ম করে দাগ কেটে যাও।নিজেও নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে হয়ে লড়াইয়ের লক্ষ্য নিয়ে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে দারিদ্রতাকে তাচ্ছিল্য করতে পেরেছেন। তাঁর সেই মন্ত্র আজকের প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সোসাইটির সদস্যরা। উল্লেখ করা যেতে পারে, এখানে মানুষের সেবা করার অফুরন্ত সুযোগ। ২০০৫ সাল থেকে এদের কাজকর্ম শুরু হয়েছে। সরকারি রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ২০০৭ সালে। বর্তমানে কর্মকাণ্ড আরামবাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে । দেখা যাচ্ছে এই সোসাইটির আনুকূল্যে যে সকল ছাত্রছাত্রী আংশিক বা পূর্ণ ভাবে সাহায্য পেয়েছে এবং প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কিংবা হতে চলেছে সেই সংখ্যাটাও চমকে দেওয়ার মতো। পরিসংখ্যান বলছে ১০১ জন।এরা সকলেই মেধাবী অথচ দরিদ্র ঘরের। এদের পাশে থাকার লোকের অভাব পূরণ করেছে আপনজন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। ডাক্তার যেমন হয়েছেন, পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ার। এমনকি শিক্ষক থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এখানেই থেমে নেই রক্তদান ও দুঃস্থ বয়স্কদের ছানি অপারেশনে অভাবনীয় সাফল্য।

সোসাইটির সম্পাদক বিপ্লব কুমার সামন্ত জানান, এই সোসাইটির রূপকার হলেন স্বর্গীয় জয়দেব চক্রবর্তী। তাঁর চিন্তা ও কর্মভাবনাকে পাথেয় করে আজও পথ চলা থেমে নেই। কেবল বিনামূল্যে চক্ষু ছানি অপারেশন নয়, রক্তদান কর্মসূচিও উল্লেখের দাবি রাখে। প্রতি বছর শতাধিক দুঃস্থ মানুষের পরিষেবা সোসাইটির মূল লক্ষ্য। কেবল তাই নয় পার্থেনিয়াম গাছ পরিষ্কার করে সুস্থ থাকার বার্তা আমরা মানুষের কাছে পৌঁছে দিই।

এদিনের সভার সূচনা হয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে। এরপর উদ্বোধনী সংগীত । সভাপতি হারাধন কুণ্ডুর ভাষণ। সভায় উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অসিতবরণ চক্রবর্তী ও বিজয় কুমার কুন্ডু বিগত বছরের সোসাইটির কাজকর্মের গঠনমূলক সমালোচনা করেন। এছাড়া হুগলি জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি কৃষ্ণ চন্দ্র সাঁতরা সোসাইটির পরিষেবার উল্লেখ্যযোগ্য প্রশংসা করেন। তাছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ ডাঃ চিত্তরঞ্জন ঘোষ, বেচারাম জানা, দেবাশিস রায়, তারক পাত্র, রামকৃষ্ণ মুখার্জি, প্রদীপ কুমার পাল ও বিশিষ্টজন এবং সদস্যরা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়দেব চক্রবর্তীর পুত্র দীপাঞ্জন চক্রবর্তী ।