প্রচণ্ড দাবদাহ। অতিষ্ঠ জীবকুল। দীর্ঘদিন বৃষ্টির দেখা নেই। পূর্ব পুরুষের আচার — প্রথা মেনে বৃষ্টির আশায় ব্যাঙ — ব্যঙ্গমীর বিয়ে হল। একেবারে হিন্দুশাস্ত্র মেনে পুরোহিতের সামনে বরপক্ষ ও কনেপক্ষের উলুধ্বনিতে জমে উঠল বিয়ের আসর। কেবল এখানেই শেষ নয়। কনেপক্ষের কর্তা সেজে আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি স্বপন নন্দী এবং বরপক্ষের আরামবাগ শহর তৃণমূলের সভাপতি প্রতুল সিংহরায় উপস্থিত ছিলেন। দুজনেই বিয়ের বৈদিক মন্ত্র —

”যদিদং হৃদয়ং তব, তদিদং হৃদয়ং মম” উচ্চারণ করে ব্যাঙ ও ব্যঙ্গমীর বিয়ে সমাপ্ত করলেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে বরপক্ষ ও কনেপক্ষের উপস্থিত ছিল নজরকাড়া।বিয়ের শেষে সকলের আনন্দভোজ।লুচি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রসনাতৃপ্তির পদ এবং মিষ্টিও বাদ যায়নি।

এদিন সকলের মুখে বরুণদেবের কাছে একটাই আকুল প্রার্থনা একফোঁটা বৃষ্টির।

স্বপন নন্দী বলেন, প্রচণ্ড গরমে মানুষ অতিষ্ঠ। অনেকদিন বৃষ্টির দেখা নেই। ঠাকুরদা — ঠাকুরমার মুখে শুনেছি ব্যাঙ ও ব্যঙ্গমীর বিয়ে দিলে বরুণদেব সন্তুষ্ট হন। ধরায় নামে বৃষ্টি। সেই আশায় আজকের আয়োজন। আরামবাগ শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রতুল সিংহরায় জানান, কথিত আছে যে দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হলে ব্যাঙেদের বিয়ে দিলে আনন্দে মেতে ওঠে। ডেকে আনে বৃষ্টি। এজন্য আজকের এই অনুষ্ঠান। আরামবাগ শহর তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি প্রিয়াঙ্কা বলেন, মানুষ একফোঁটা বৃষ্টির জন্যে আশায় আছে। যেখানে ৪২-৪৪ ডিগ্ৰি তাপমাত্রা। মানুষ গরমে হাঁসফাঁস করছেন। মাঠঘাট খা-খা করছে। প্রথা অনুযায়ী ব্যাঙেদের বিয়ে দিলে নাকি বৃষ্টির দেখা মেলে। তাই আজকের এই মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে বরুণদেবকে সন্তুষ্ট করা।