ব্যারাকপুর রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন ও বিবেকানন্দ মঠের দীপ্তোজ্জ্বল পঞ্চাশ বছর অতিক্রান্ত করার তিনদিন ব্যাপী সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন’২৫ উৎসবের শুভ সূচনা হল ব্যারাকপুর রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন ও বিবেকানন্দ মঠের মন্দারমণি (দক্ষিণপুরুষোত্তমপুর) শাখায়। শনিবার তিনদিনের জয়ন্তী উদযাপন উৎসবের উদ্বোধনী দিনে মন্দারমণি শাখায় ভোর থেকেই সংকীর্ত্তন, রামনাম, রামায়ণ গান পরিবেশনের সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্র থেকে ৫০টি কলসিতে সমুদ্রের জল ভরে শোভাযাত্রা করে মঠ ও মিশনে আনা হয়। ব্যারাকপুর রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন ও বিবেকানন্দ মঠের প্রধান সচিব স্বামী নিত্যরূপানন্দ মহারাজ উৎসবের উদ্বোধন করেন।পরে বিশেষ পুজো, হোম এবং বিশ্বকল্যাণে ‘সপ্তশতী মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যারাকপুর রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন ও বিবেকানন্দ মঠের প্রধান সচিব স্বামী নিত্যরূপানন্দ মহারাজ বলেন, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও শ্রীরামকৃষ্ণ শ্রী শ্রী মা সারদা দেবীর আশীর্বাদ পাথেয় করে যুগপুরুষ স্বামী বিবেকানন্দের জীবসেবার আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিতে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলের ছাত্র,প্রধান শিক্ষক, কলেজের অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী নিত্যানন্দ মহারাজের প্রয়াস,সাধনা, শ্রম শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসে ১৯৭৬ সালে ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্টের ৭ রিভার সাইড রোডে ভাঙাচোরা সে সময়কার গোয়ালিয়র হাউসে স্থাপিত হয় ব্যারাকপুর রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন। বিগত দীপ্তোজ্জ্বল পঞ্চাশ বছরে মিশনের সঙ্গে বিবেকানন্দ মঠ স্থাপিত হওয়া ছাড়াও দেশে বিদেশে মোট ৩৬টি শাখা স্থাপিত হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্রের কোল ঘেঁষা গ্রাম দক্ষিণ পুরুষোত্তমপুরে ৩৬তম শাখা হিসেবে মন্দারমণি শাখা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তাই অতিক্রান্ত সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি মঠ ও মিশন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসারে তিনদিনব্যাপী সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন মন্দারমণি শাখায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।” উদ্বোধনী দিনের সন্ধ্যায় আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ভ.গোপাল চন্দ্র মিশ্র, কাঁথি প্রভাতকুমার কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান ড.প্রদীপ্ত পঞ্চাধ্যায়ী,দেপাল বানেশ্বর চারুবালা বিদ্যামন্দিরের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক রাধাশ্যাম মাইতি সহ আরও অনেক বিশিষ্ট জন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সমাজসেবা ক্ষেত্রে বিশিষ্ট জনদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। রবিবার অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে মঠ ও মিশনের বিভিন্ন শাখা ও অন্যান্য স্থানের সাধু-সন্তদের দ্বারা ধর্ম প্রসঙ্গ ও পরে সাধু ভান্ডারা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।