” আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাংলার গান গাই” – এর স্রষ্টা প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের যথোচিত মর্যাদায় পালিত হল জন্মদিন। কলকাতার জীবনানন্দ সভাঘর ও কলকাতার প্রেসক্লাব ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সৃজনশীল শিল্পী ও গীতিকারকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। প্রয়াত হওয়ার পর এই প্রথম ৮৩ তম জন্মদিনকে ঘিরে দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের উদ্যোগে জীবনানন্দ সভাগৃহে আয়োজন করা হল স্মরণসভা। জীবনানন্দ সভাগৃহের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন, প্রাক্তন শ্রমমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু, আলোকচিত্রী অশোক মজুমদার, সঙ্গীতশিল্পী সৈকত মিত্র, চিকিৎসক সিদ্ধার্থ গুপ্ত, দেবপ্রিয় মল্লিক, সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত, সমাজকর্মী সুশান রায়, মানবাধিকার কর্মী বাসুদেব ঘটক, অভিনেতা রাহুল চক্রবর্তী, চিকিৎসক ভাস্কর চক্রবর্তী, অধ্যাপক শামিম আহমেদ, সঙ্গীত শিল্পী অমিত কালি, সমাজকর্মী কল্যাণ সেনগুপ্ত, সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য-সহ বহু বিশিষ্টজন।
এছাড়া এদিন প্রয়াত শিল্পীর স্ত্রী শর্বানী মুখোপাধ্যায়ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাছাড়া পরিবার ও আত্মীয়রা-ও ছিলেন অনুষ্ঠানে। এদিনের অনুষ্ঠানের মঞ্চেই প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে তাঁর নামাঙ্কিত সংগীত একাদেমি ও সংরক্ষণশালা গড়ার প্রস্তাব দেন আলোকচিত্রী অশোক মজুমদার। সাদরে সেই প্রস্তাবের সমর্থন জানান সাংসদ দোলা সেন। সেখানে শিল্পীর শুধু গান নয়, তাঁর সারাজীবনের সব কাজ সংরক্ষিত থাকবে।প্রসঙ্গত, প্রতুল মুখোপাধ্যায় ছিলেন বাঙালি অস্মিতার আইকন ও বাঙালির সংস্কৃতির প্রাণপুরুষ । জনতার সংগ্রামে ভাষা ও সুর দিয়েছেন যিনি, সেই প্রতুল মুখোপাধ্যায় প্রয়াত হয়েছেন এই চলতি বছরেই । তাঁর মৃত্যুর পর প্রথম জন্মদিন শনিবার পালিত হল। উল্লেখ্য, দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ, যার সঙ্গে আমৃত্যু প্রতুলদা জড়িয়ে ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন বাঙালি গায়ক, সৃজনশীল শিল্পী এবং গীতিকার।” আমি বাংলায় গান গাই ” এবং ” ডিঙা ভাসাও সাগরে ” নামের দুটি বিখ্যাত বাংলা গানের গায়ক। তিনি গোঁসাইবাগানের ভূত চলচ্চিত্রে নেপথ্য কণ্ঠ দেন। তিনি মনে করতেন সৃষ্টির মুহূর্তে লেখক-শিল্পীকে একা হতে হয়। তারপর সেই সৃষ্টিকে যদি মানুষের সাথে মিলিয়ে দেওয়া যায়, কেবলমাত্র তাহলেই সেই একাকিত্বের সার্থকতা। সেই একক সাধনা তখন সকলের হয়ে ওঠে।
সৃষ্টিশীল শিল্পীর জন্মদিন উপলক্ষে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শ্রীজাত বলেন, প্রতুলদার জন্মদিন মানে বাংলা গানের জন্মদিনও কিছুটা বটে। তাঁর উপস্থিতি প্রতিদিন কিছুটা টের পাই । তাছাড়া বাংলা গানের আবহধারায় অবিস্মরণীয় অবদান রয়ে যাবে। কবীর সুমন প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনকে স্মরণ করে বলেন, সকলের বন্ধু ও সকলের প্রিয় মানুষ ছিলেন প্রতুল মুখোপাধ্যায় । এই যুগের মূলতঃ দু- তিনটে যুগ মিলিয়ে নিরীক্ষা মনস্ক সুরকার ছিলেন। সেইসঙ্গে তাঁর সুরেলা কন্ঠ মানুষ কখনও ভুলতে পারবে না ।