কাঁথির কাছে জুনপুটে জীবন জীবিকা ও পরিবেশ ধ্বংস করে মিশাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও হরিপুরে প্রস্তাবিত পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলের দাবিতে আজ রবিবার বিকেলে কাঁথির কিশোরনগর শচীন্দ্র শিক্ষাসদনে এক নাগরিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই নাগরিক কনভেনশনে কাঁথির পাশাপাশি জেলার নানা প্রান্ত থেকে শিক্ষক, অধ্যাপক সহ শুভবুদ্ধি সম্পন্ন বিজ্ঞান অনুরাগী নাগরিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও নারুলা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, কলকাতার অধ্যাপক ড. তপন মুখার্জি। এছাড়াও অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দেবদ্রত বেরা, ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শাখার সম্পাদক ড. তপন কুমার সী, সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি গুরুপ্রসাদ জানা এবং কাঁথি ছাত্র যুব নাগরিক মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক অধ্যাপক কিংশুক সাহা প্রমুখ। নাগরিক কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন কাঁথির বিশিষ্ট নাগরিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অসিতবরণ প্রামানিক।

নাগরিক কনভেনশনে বিভিন্ন বিজ্ঞান, পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন নাগরিক কনভেনশনে প্রত্যেক বক্তাই বলেন, কাঁথির কাছে জুনপুটের মত জনবহুল এলাকায় জীব বৈচিত্র্য ও জীবন-জীবিকা ধ্বংস করে মিসাইল উৎক্ষেপণ ও হরিপুরে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটি বাতিল করতে হবে। দেশের প্রতিরক্ষার প্রয়োজনে যদি করতেই হয় কোন ফাঁকা জায়গায় করতে হবে। পাশাপাশি তারা জুনপুটে পর্যটন কেন্দ্র, মৎস্য সংরক্ষণ কেন্দ্র ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপনের জন্য দাবি করেন। প্রসঙ্গত কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ডি আর ডি ও ইতিমধ্যেই জুনপুটে একটি মিসাইল লঞ্চিং প্যাড তৈরি করেছে। তারপর থেকেই ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটি ও কন্টাই সায়েন্স সেন্টার এলাকার মৎস্যজীবী ও বাসিন্দাদের নিয়ে এই প্রকল্প বাতিলের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলছে। ‘জুনপুট মিসাইল ও হরিপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিরোধী নাগরিক প্রতিরোধ মঞ্চ’ নামে ইতিমধ্যেই আন্দোলনের কমিটি গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন মৎস্যজীবী সংগঠনও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। জনসাধারণের প্রতিরোধে ডি আর ডি ও আপাতত কাজ বন্ধ রেখেছে। গত ১৩ এপ্রিল বিজ্ঞানীদের উপস্থিতে কাঁথির পরিবেশ সচেতনতা ও শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের নিয়ে একটি বাইক র্যালির আয়োজন করা হয়েছিল।এই প্রকল্প বাতিলের দাবিতে এলাকার মানুষ এক কাট্টা হয়ে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন।