১৪৪ বছর পর উত্তর প্রদেশের প্রয়াগের কুম্ভ মেলায় চরম অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী উত্তর প্রদেশের যোগি আদিত্যনাথের সরকার। মৃত্যুর মিছিল, অপ্রতুল চিকিৎসা পরিষেবা, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পুণ্যার্থীরা। শুক্রবার কলকাতার প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখোমুখি হন দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের প্রতিনিধিরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল কুম্ভ স্নানে গিয়ে এ রাজ্যের বেশ কয়েকজনের অসহায়ভাবে মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারেনি। সম্মেলনে প্রতিনিধিদের বক্তব্য, এবারের কুম্ভে অমৃতের বদলে এত গরল কেন? প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজন হারানো মানুষের একটাই বক্তব্য, চরম অব্যবস্থার মধ্যে পড়ে তাঁদের প্রিয়জনকে হারাতে হয়েছে। হারানোর পরেও অনেকেই এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ। যারা মারা গেছেন, তাদের মৃত্যুর শংসাপত্রটুকু দেয়নি যোগি আদিত্যনাথের সরকার।
কুম্ভে সব হারানো স্বজনদের মর্মন্তুদ অভিজ্ঞতা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সম্মেলনে উঠে আসে। এদিন যোগীরাজ্যে অবব্যস্থার মুখোমুখি হিন্দু পুণ্যার্থীদের অশ্রুসজল উপলব্ধির কথা উঠে এসেছে।

প্রসঙ্গত, দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু, প্রবীণ সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত, অধ্যাপক নজমূল হক, বিভান ঘোষ, পরিচালক সুদেষ্ণা রায়, শিল্পী সৈকত মিত্র, রাহুল চক্রবর্তী, অনন্যা চক্রবর্তী, ডা. দেবাশিস বক্সি, অনন্যা চক্রবর্তী ও প্রত্যক্ষদর্শী অভিষেক রায় প্রমুখ।
সম্মেলনে বক্তারা যোগি সরকারের অপদার্থতা, মিথ্যা প্রচারের বেলুন এবার মেলায় ফেটে গেছে। কুম্ভমেলায় অব্যবস্থার স্বরূপ ধরা পড়ে গেছে। উল্লেখ্য, এদিন এই অনুষ্ঠানে মৃতদের পরিবারও উপস্থিত ছিলেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকার গোদাপিয়াশালের প্রয়াত ঊর্মিলা ভুঁইয়ার পুত্র দুলাল ভুঁইয়া এবং জামুরিয়া ও শালবনী থেকেও প্রয়াত পরিবারের নিকট আত্মীয় স্বজনরা ছুটে আসেন। এমনকি মেলায় মাকে হারিয়ে দিশেহারা সুরজিৎ পোদ্দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উত্তরপ্রদেশের সরকার কোনও রকম সাহায্য করেনি।