ধর্মমঙ্গল ও ধর্ম ঠাকুর নিয়ে গ্ৰামীন মনোমুগ্ধকর পরিবেশে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হল। এই সভায় ধর্মমঙ্গল বিষয়ক একটি পুঁথির গবেষণামূলক বইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রকাশিত হয়। গত ১৬ এপ্রিল পূর্ব বর্ধমানের জৌগ্ৰামে এক দুর্গামণ্ডপে গুণীজনদের উপস্থিতিতে প্রকাশিত হল সুজয় মুখোপাধ্যায়ের ‘ধর্ম ঠাকুরের স্বরূপ সন্ধান ও নিরঞ্জন (ধর্ম) পূজা পদ্ধতি’।

প্রসঙ্গত, এদিন অনুষ্ঠানের সভাপতি জৌগ্ৰাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক অরবিন্দ ভট্টাচার্য্য পূর্ব বর্ধমানের নিম্নবর্ণের ধর্মঠাকুর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। গোপালপুর মুক্তকেশী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের মতে বেশিরভাগ মধ্য মেধার ছাত্ররাই সৃজনশীল কাজে এগিয়ে আসে। যে কাজটা সুজয় করেছে। একটা পুঁথি উদ্ধার করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন মিদ্দে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানান, সুজয় ছাত্র হিসেবে গবেষণায় ধর্মঠাকুরের যে বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছে তা ধর্মমঙ্গল কাব্যে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও পুরাতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সর্বজিৎ যশ বলেন, ধর্মঠাকুর নিয়ে গবেষণা বা কাজ জামালপুরে সুজয়ের আগে কেউ করেনি। এভাবে আলোকপাত হয়নি। অবহেলিত থেকে গেছে। আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক দেবাশিস শেঠ ধর্মমঙ্গল ও ধর্মঠাকরের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। নিম্নবর্ণের বা অন্তজ শ্রেণীর মানুষের কাছে পুজো পেত ধর্মঠাকুর। আস্তে আস্তে রাঢ় বাংলায় তার প্রসার কীভাবে হয়ে ছিল তা তিনি তথ্যমূলক আলোচনা করেন।

গবেষক ও লেখক সুজয় মুখোপাধ্যায় জানান, এখনও খুঁজলে অনেক পুঁথির সন্ধান মিলবে এবং বেশিরভাগ অযত্নে সেগুলি নষ্ট হচ্ছে। জৌগ্ৰাম এলাকায় যে পুঁথির সন্ধান পাওয়া যায়, সেটা ধর্ম ঠাকুর বিষয়ক। সেই পুঁথি উদ্ধার করে যে বইটি প্রকাশিত হয়েছে তা হল’ ধর্ম ঠাকুরের স্বরূপ সন্ধান ও নিরঞ্জন (ধর্ম) পূজা পদ্ধতি’। আশাকরি আগামী দিনে ছাত্রছাত্রীদের কাজে লাগবে। তাছাড়া এলাকার ইতিহাসকে লুপ্ত থেকে রক্ষা করতে পেরেছি। উল্লেখ্য, কৃত্তিবাস ওঝার সুযোগ্য বংশধর সুজয় মুখোপাধ্যায়ের এই গবেষণামূলক কাজকে এলাকার মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া এদিন উপস্থিত ছিলেন ঘনরাম চক্রবর্তীর উত্তরপুরুষ বিশ্বরূপ চক্রবর্তী। তিনি ধর্মমঙ্গল কবিদের কাব্য ও পরিচিতি নিয়ে অসাধারণ গান রচনা করেছেন। সেই গান তিনি নিজ কণ্ঠে শোনান। এছাড়া এদিন উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক অভিজিৎ মান্না ,জয়ন্ত চক্রবর্তী ও মানসী মিদ্দে প্রমুখ।