বৃদ্ধবয়সে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়া অবহেলিত অসহায় মানুষদের একটুখানি নিরাপদ নিশ্চিন্ত আশ্রয় দেওয়ার লক্ষ্যে হলদিয়া পুরসভার আর্থিক সহায়তা ও পাঁউশি অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমের পরিচালনায় হলদিয়ার বুকে অসহায় আবাস পরিদর্শনে এলেন জেলাশাসক। শুক্রবার দুপুরে হলদিয়া পুরসভা এলাকার ২০নম্বর ওয়ার্ডের বন বিষ্ণুপুরে চারতলা বিশিষ্ট এই আবাস শহীদ মাতঙ্গিনীর নামে উৎসর্গ করেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাঝি। পরিদর্শনের আগে আবাসের প্রাঙ্গনে স্বামী বিবেকানন্দের পূর্ণাবয়ব মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন জেলা শাসক পূর্ণেন্দু মাঝি, হলদিয়ার মহকুমা শাসক ও হলদিয়া পুরসভার প্রশাসক সুপ্রভাত চট্টোপাধ্যায়, হলদিয়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অরিন্দম অধিকারী, হলদিয়া পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক জুলফিকার আলি, ফিনান্স অফিসার দুলাল সরকার ও পাঁউশি অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমের কর্ণধার বলরাম করণ সহ বহু মহকুমা ও হলদিয়া পুর প্রশাসনের বিশিষ্ট আধিকারিকরা।

পরিদর্শন কালে জেলাশাসক আবাসের আবাসিক বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের দিয়ে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করিয়ে অসহায় আবাস ঘুরে দেখেন । আবাসিকদের উদ্দেশ্যে জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাঝি বলেন, নানা কারনে পারিবারিক অশান্তির কারনে আপনারা পরিবারের শান্তি বজায় রাখতে এই আবাসের আবাসিক হয়েছেন। পারিবারিক অশান্তির কথা ভুলে এই আবাসে আপনারা যাতে ভালো থাকেন তার জন্য নানান ব্যবস্থার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। আপনারা এখানে ভালোই থাকবেন। হলদিয়া পুরসভার আর্থিক সহায়তায় শহীদ মাতঙ্গিনী আবাসের পরিচালনার দায়িত্ব পাঁউশি অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমের হাতে দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত পাঁউশি অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমের কর্ণধার বলরাম করণ জানান, হলদিয়া পুরসভার এলাকার বন বিষ্ণুপুরের মনোরম পরিবেশে চারতল বিশিষ্ট এই আবাসে আবাসিকদের আন্তরিক সেবা যত্ন প্রদান, পর্যাপ্ত আলো বাতাস যুক্ত সুসজ্জিত কক্ষ, অ্যাটাচ বাথরুম সহ নানারকম সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। ১০০ শয্যাবিশিষ্ট এই আবাস শহীদ মাতঙ্গিনী আবাসে আবাসিকদের এখানে থাকার জন্য কোন অর্থ দিতে হবে না। নিঃখরচায় আবাসিকরা এখানে থাকতে পারবেন। নতুনভাবে আজকে বৃদ্ধাবাসে ১৫জন আবাসিক থাকার জন্য এসেছেন। আশ্রমের আবাসিকদের হলদিয়া পুরসভার পক্ষ থেকে ফলের ডালি, শাড়ি তুলে দেওয়া হয়।