ইংরেজিতে একটি প্রবাদবাক্য আছে ‘হোয়েন লাইফ গিভস ইউ লেমন, মেক লেমনেড।’ এর আক্ষরিক অর্থ, জীবন যখন তোমাকে একটি লেবু দেয়, সেটা দিয়ে সরবত তৈরি কর। এর অন্তর্নিহিত অর্থ হল, জীবনে নেমে আসা যে কোনও প্রতিবন্ধকতাকেই সাফল্যের সঙ্গে ব্যবহার করে এগিয়ে যেতে হয়। এই প্রবাদ বাক্যকে একেবারে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে এনেছে খানাকুলের ঘোষপুর সমাজ শিক্ষাকেন্দ্র ও গ্ৰামবাসীবৃন্দ। এক কথায় পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতার ছাপ মণ্ডপে সুন্দর ভাবনার রূপ পরিলক্ষিত হয়েছে।এ যেন পরিবেশ রক্ষায় অভিনব ভাবনার দায়িত্ব সকলের কাছে তুলে ধরেছে পুজো কমিটি।

প্রসঙ্গত, মণ্ডপসজ্জায় যে মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেছে পুজো কমিটি, তা হল পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব মানুষেরই । পরিবেশকে বাঁচাতে হলে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে, সেইসঙ্গে প্লাস্টিক বর্জন করতে হবে। এই সচেতনতা মানুষের মধ্যে গড়ে তুলতে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে হারিয়ে যাওয়া কুটির শিল্পের পসরা দিয়ে। মণ্ডপ সাজানো হয়েছে যেমন বাঁশের তৈরি চুবড়ি, চ্যাঙারি, কূলো, পেখে ইত্যাদি দিয়ে। আবার এও দেখা যায় হারিয়ে যাওয়া মৃৎশিল্পের ছাপ। নিখুঁত শিল্পীর হাতে উঠে এসেছে অপূর্ব কারুকার্যময় মাটির প্রতিমার পাশাপাশি থালা-বাটি, হাঁড়ি-কড়াই, কলসি ইত্যাদি। এখানেই শেষ নয়, পাটজাত শিল্প ও জরি শিল্পের চোখ জুড়ানো কাজ। মণ্ডপ সজ্জায় আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে।

সেইসঙ্গে পুরনো স্মৃতিকে নাড়া দিতে ঘোড়ার গাড়ি ও গোরুর গাড়িও রাখা আছে। পাশে দেখা মিলবে পালকিরও। পুজো কমিটি মানুষের কাছে বার্তা দিতে চেয়েছে আর দূষণ নয়। মানুষ কে টিকে থাকতে হলে দূষণহীন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এজন্য প্রথমেই প্লাস্টিক বর্জন করতে হবে। এরপর হারিয়ে যাওয়া মাটির ব্যবহারযোগ্য জিনিসকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এছাড়া বাঁশনীশিল্প, কাষ্ঠশিল্প, জরিশিল্প ইত্যাদিকে ফিরিয়ে আনতেই হবে। এই অঙ্গীকার এখানকার পুজো কমিটির।

উল্লেখ্য, এই গ্ৰামীন সার্বজনীন দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে ষষ্ঠীর দিন থেকেই। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিন এই উৎসবে লক্ষ মানুষের সমাগম হবে। পুজো কমিটির সম্পাদক সেখ হায়দার আলী জানান, এবারের পুজোয় পরিবেশ সচেতনতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। আমাদের মণ্ডপসজ্জার মূল মন্ত্র ‘ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের পুনরুজ্জীবন, প্লাস্টিক করি বর্জন।’ হায়দার আলী আরও বলেন, এখানকার দুর্গা পুজোর উৎসব মানে সকল সম্প্রদায়ের মিলনমেলা। পুজো কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন শৈলেন্দ্রনাথ ঘোষ।

পরিশেষে দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা পুজো মণ্ডপের মূল ফটকে দারোয়ান ও সিপাহী মোতায়েন রয়েছে। এদের নজরে আপনারা আছেন। ভয় নেই। পুরনো দিনের স্মৃতিকে মনে করিয়ে দিতে চাইছে কমিটি। এরা হারিয়ে গেলেও, দরকার। এভাবেই সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে পুজো কমিটি।