গ্রাম পঞ্চায়েতের এক ব্যতিক্রমী আধিকারিক হিসেবে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি-৩ ব্লকের দুরমুঠ গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিব অসিতবরণ বেরার কর্মজীবন থেকে অবসরকালীন বিদায় সংবর্ধনা নেওয়া উপলক্ষে গ্রাম পঞ্চায়েতে তাঁর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানও রাজনৈতিক সংকীর্ণতার উর্ধে উঠে এক ব্যতিক্রমী বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। দুরমুঠ গ্রামপঞ্চায়েতর ক্ষমতাসীন দল থেকে বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান, প্রাক্তন কর্মী ও সাধারণ মানুষের উজ্জ্বল উপস্থিতিতে অসিতবরণ বেরাকে বিদায় সংবর্ধনা জানিয়ে ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন যা সাম্প্রতিক গ্রামবাংলার রাজনৈতিক আবহে নজিরবিহীন।

দুরমুঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কাঞ্চন মন্ডল। উপস্থিত ছিলেন কাঁথি-৩ ব্লকে এ পি ও বানীব্রত ঘোষ, নির্বাহী সহায়ক সুনির্মল মিত্র, প্রাক্তন সচিব অরূপ দাস, কাঁথি হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন বর্ষীয়ান শিক্ষিকা অঞ্জলি রায় ও গ্রাম পঞ্চায়েতের দলমত নির্বিশেষে পূর্বতন ও বর্তমান পঞ্চায়েত প্রধান, উপ-প্রধান থেকে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের সকল সদস্য- সদস্যরা। এছাড়াও দুরমুঠ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান তৃনমূলের স্বপন মাইতি, বিজেপির শঙ্কর বারিক, সিপিএমের ঝাড়েশ্বর বেরা, সলিল ওঝা সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও। ২০১৯ থেকে ‘২৫ সাল পর্যন্ত এই ছ’বছর কাঁথি-৩ ব্লকের দুরমুঠ গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিব থাকাকালীন অসিতবরণ বেরার কর্ত্তব্যপরায়নতা, রাজনৈতিক দল ও রঙের বিচার না করে গ্রামপঞ্চায়েতের সকল মানুষের প্রতি মানবিক মূল্যবোধ কর্তব্য নিষ্ঠা, নিরপেক্ষ নীতি পরায়নতা ও পরিষেবা প্রদানের নানা দিক বক্তব্যে তুলে ধরে তাঁকে সংবর্ধিত করেন উপস্থিত সকলে। প্রীতি উপহার তুলে দেওয়াও হয় অসিতবরণ বাবুর হাতে। দুরমুঠ গ্রামপঞ্চায়েতর এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সংবর্ধনায় আপ্লুত অসিতবাবু গ্রামপঞ্চায়েতর সচিব হিসেবে তাঁর কাজে সকলের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সব শেষে অসিতবরণ বাবুর স্ত্রী সুগায়িকা মঞ্জু বেরার ‘ভরা থাক স্মৃতি সুধায়’ রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত ও আবেগমথিত করে তোলে উপস্থিত সকলকে। ব্যতিক্রমী বিদায় সংবর্ধনাঅনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গ্রামপঞ্চায়েতর উপ-প্রধান শম্ভুরাম রাণা।