গোঘাটের সাতবেড়িয়ায় শনিবার বিকেলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চন্দ্রমণি ইকো ট্যুরিজম পার্কের শুভ উদ্বোধন হলো। এই পার্কটির উদ্ধোধন করেন কামারপুকুর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী লোকোত্তরানন্দ মহারাজ। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী, আরামবাগ লোকসভার সাংসদ অপরুপা পোদ্দার, হুগলি জেলা সভাধিপতি আলহাজ্ব সেখ মেহবুব রহমান, আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি রামেন্দু সিংহ রায়, গোঘাট-২ ব্লকের বিডিও দেবাশীষ মন্ডল, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখার্জি ও শান্তনু চক্রবর্তী, আরামবাগ পৌর প্রধান সমীর ভাণ্ডারী, প্রাক্তন বিধায়ক মানস মজুমদার, কামারপুকুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান তপন মন্ডল সহ এলাকার বিশিষ্টজনেরা।

উল্লেখ্য, ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবের পৈত্রিক ভূমি দেরেগ্ৰাম ও সাতবেড়িয়া এলাকায় মা চন্দ্রমণি দেবীর নামাঙ্কিত এই পার্কটি গড়ে উঠেছে। শনিবার পার্কটির উদ্বোধন উপলক্ষে এলাকায় ছিল উৎসবের মেজাজ। গ্ৰামবাসীদের উপস্থিত ছিল চোখে পড়ার মতো। স্বামী লোকোত্তরানন্দ মহারাজ কামারপুকুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের এই কর্মযজ্ঞের সাধুবাদ জানান।

মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী বলেন, সামনের দিনে কামারপুকুরের এই তীর্থস্থান ও পর্যটনের অন্যতম ক্ষেত্রে হয়ে উঠবে। ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের পদধূলি কামারপুকুরে ইকো ট্যুরিজম পার্কের জন্যে মানুষ গর্বিত। জেলা সভাধিপতি সেখ আলহাজ্ব মেহবুব রহমান বলেন, কামারপুকরের মুকুটে আরো একটি পালক যোগ হল। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের মা চন্দ্রমণির নামে এই পার্ক গড়ে তোলার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। মানস মজুমদার বলেন, সকলের সহযোগিতায় এই ইকো পার্ক গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের জন্মস্থানে তাঁরই মায়ের নামে দু-বছরের চেষ্টায় এই পার্ক গড়ে ওঠায় সকলে খুশি। কামারপুকুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান তপন মন্ডল বলেন, বহু প্রতীক্ষিত এই ইকো ট্যুরিজম পার্কের এদিন যাত্রা শুরু হলো। আশা রাখছি এলাকার আর্থিক বিকাশে এই পার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রসঙ্গত, এই পার্কে ছ-টি কটেজ, ছ-টি পুকুর, ক্যান্টিন-সহ মনোমুগ্ধকর পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। তেত্রিশ একরের বেশি জায়গা জুড়ে রয়েছে সবজি ও ফলের বাগান। এছাড়া চাষ হচ্ছে মাছেরও। এই পার্কে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কামারপুকুর পঞ্চায়েতের উদ্যোগে এই পার্ক গড়ে তুলতে খরচ হয়েছে এক কোটি টাকারও বেশি।