খানাকুলের নদীবেষ্টিত তিনটি গ্ৰামের মানুষের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতিতে শান্তির প্রলেপ দিয়ে উৎসব মুখর করে তোলে মা দুর্গার উপস্থিতি। ফি বছর বন্যা। মানুষ চলতি বছরেও রেহাই পায়নি বন্যার কবল থেকে। তিনটি গ্ৰামের বুকের উপর দিয়ে বয়ে গেছে একাধিক নদী। কোথাও পাকাপোক্ত ব্রিজ নেই। সবটাই প্রায় সারা বছর নৌকার উপর নির্ভরশীল। জেটিঘাটের অবস্থা শোচনীয়। স্কুল-কলেজ, অফিস, হাসপাতাল, হাট-বাজার যাতায়াতে মানুষের দুর্গতির অন্ত নেই। তবুও শরৎ এলে এখানকার মানুষ শত কষ্টের মধ্যেও মা দুর্গার আগমনী বার্তা শুনতে পান। অধিকাংশ চাষ নির্ভর মানুষ। মা দুর্গার টানে সকলে একজোট হন। মায়ের আরাধনায় অকৃপণ হাতে সাহায্য করেন। উৎসব মুখর হয়ে ওঠে তিনটি গ্ৰামের মানুষের আনন্দে। এ যেন চাষির ঘরে ঘরে তাদের মেয়ে দুর্গা আসছে। এভাবেই চলে আসছে ১৮ বছর। ১৯ বছরে পদার্পণ। চাকচিক্য মণ্ডপসজ্জা নেই। নেই আলোর ঝলকানি। আছে গ্ৰামীন খেটে খাওয়া চাষির অকৃপণ শ্রদ্ধাঞ্জলী ও ভালোবাসা।
প্রসঙ্গত, খানাকুলের অমরপুর, জগন্নাথপুর ও দুর্গাপুর (এ জে ডি)-র সর্বজনীন দুর্গোৎসব। জগন্নাথপুর পূর্ব ফেরীঘাটে কাশফুল ঘেরায় অবস্থান করছেন এবারেও মা দুর্গা। কমিটির সদস্য গঙ্গাধর জানা বলেন, এ পুজো সকল গ্ৰামবাসীর। গ্ৰামবাসীরাই কমিটির সকল সদস্য। গ্ৰামের পুরুষ-মহিলা সকলে এগিয়ে আসেন এই পুজোয়। বন্যা হলেও শত কষ্টের মধ্যে মা আসেন। এবারে ষষ্ঠীর দিন থেকেই শুরু হচ্ছে উৎসব। চলবে দশমী পর্যন্ত। লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে। সেই সঙ্গে কৃতী ছাত্র ছাত্রীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, নির্ঘন্ট মেনে পুজো হবে। পারিবারিক আচার প্রথার ছাপ মণ্ডপে থাকবে।
ছবি : অশোক মজুমদার