মকর সংক্রান্তির দিন লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে ‘ধান্যোৎসবে’ মাতলেন গ্ৰামের মানুষ। সকাল থেকেই হুগলির পুরশুড়ার কৃষ্ণবাটির মানুষ গোলাভরা ধানের সামনে এবং পালকিতে তুসলাদেবীকে সঙ্গে নিয়ে প্রাচীন লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরলেন। এমনকি মাঠে গিয়ে চাষিরা মাথায় করে পৌষ ঘরে তুললেন। মকরচাল প্রসাদ হিসেবে উপস্থিত সকলকে হাতে তুলে দিলেন।

এখানেই শেষ নয়, এই পৌষালি উৎসবকে টিকিয়ে রাখতে কৃষ্ণবাটির মান্না পাড়া, প্রামানিক পাড়া ও সামন্ত পাড়ায় নৃত্য ও গান সহকারে লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরলেন। সেইসঙ্গে পিঠেপুলির স্বাদ মুখে তুলে দিয়ে সংস্কৃতি বজায় রাখলেন। ধান্যোৎসবের শেষ পর্বে মাঠে ‘বিল রান্না’ করে তার স্বাদ পেতে ভুললেন না চাষিরা।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে এই ধান্যোৎসবের শুভ সুচনা করেন বিষ্ণুপদ বেরা। গ্ৰামবাংলার এই জমজমাট উৎসবে মাতেন এলাকার লোকজন। বিশেষ করে চাষিরা। টুসু গান, চাষিদের গান, জেলেদের গান সব মিলেমিশে একাকার। প্রাচীন লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য বজায় রাখতেই এই ধান্যোৎসবের আয়োজন। প্রসঙ্গত, বিষ্ণুবাবুর লেখা গান আজও এই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এই ধান্যোৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন আঞ্চলিক গবেষক ও সাহিত্যিক দেবাশিস শেঠ। উৎসবে উপস্থিত ছিলেন অরুনাভ ভৌমিক ও তড়িৎ অধিকারী।

লক্ষ্যনীয় ছিল গ্ৰামের বধূদের চাষের প্রতি অমোঘ ভালোবাসা এবং শঙ্খ বাজিয়ে লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যকে বরণ করা। সেইসঙ্গে সকলকে পিঠেপুলি খাওয়ানো। গ্ৰামের প্রতিটি খামারে ধান্যোৎসব ছিল নজরকাড়া।