দামোদরে বন্যা হলে প্রতি বারই পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ হয়ে যায় উদয়নারায়ণপুরের। ফলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজ পরিদর্শনে আগেভাগেই নেমে পড়েছেন বিধায়ক সমীর পাঁজা। এই অঞ্চলে নদীর মাঝখানে প্রচুর পলি জমে যাওয়ায় নদীর জল দুভাগে ভাগ হয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ব ব্যাঙ্কের তত্ত্বাবধানে আমতা উদয়নারায়ণপুরে বন্যা নিয়ন্ত্রনের কাজ চলছে। সোমবার উদয়নারায়ণপুরের বড়দা-সহ বিভিন্ন নদী বাঁধের কাজ তিনি ঘুরে দেখলেন।

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় মেজর ইরিগেশন এন্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে রাজ্যের পাঁচটি জেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে বন্যা নিয়ন্ত্রণে নদীবাঁধ উঁচু, নদীবাঁধে রাস্তা নির্মাণ, খাল সংস্কার, স্লুইস গেট ইত্যাদি নির্মাণ করা হচ্ছে। হাওড়া জেলার আমতা ও উদয়নারায়ণপুরে জোরকদমে এই কাজ চলায় এলাকার মানুষ খুশি। উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ প্রায় শেষের পথে। এবার দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হবে।

উদয়নারায়নপুরে প্রথম পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখতে সোমবার উদয়নারায়নপুরে উপস্থিত হন স্থানীয় বিধায়ক সমীর পাঁজা। এদিন বড়দা-সহ বিভিন্ন নদী বাঁধ এলাকা তিনি পরিদর্শন করেন। সঙ্গে ছিলেন সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা। তিনি বেনাগড়ী, কানশোনা, মনসুকা, জয়নগর, শিবানীপুর হরালী থেকে ডিহিভুরসুট পর্যন্ত কাজ পরিদর্শন করেন।

এই প্রসঙ্গে সেচ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রঘুনাথ চক্রবর্তী জানান, প্রথম পর্যায়ের কাজ প্রায় শেষের পথে। এই পর্যায়ে নদী বাঁধ নির্মাণ ছাড়াও রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে । দ্বিতীয় পর্যায়ে নদীর চর কাটা, স্ল্যুইস গেট নির্মাণ, ব্রিজ নির্মাণ ছাড়াও আরো রাস্তা নির্মাণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বিধায়ক সমীর পাঁজা জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে, সেই কাজ শেষ হলে উদয়নারায়ণপুরের মানুষ বন্যার হাত থেকে রেহাই পাবেন।

পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা দেশের নদীগুলির বিপন্নতা স্পষ্ট। কতটা বিপন্ন, তা নিয়ে বিতর্কসভা ডাকা যেতে পারে, কিন্তু তাতে আশঙ্কাকে দূরে ঠেলে ফেলা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গের নদী-সমস্যা নতুন কিছু নয়। আর ভাঙন সমস্যা আরও ভয়াবহ, একথা বলছেন বিশেষজ্ঞরাই।