এবার ৯৭ বছরে পা দিল পূর্ব মেদিনীপুরের উত্তর রামনগর ঐতিহ্যমন্ডিত বটতলা আনন্দময়ী সর্বজনীন শ্যামা পুজো। ঠিক ৯৭ বছর আগে রামনগর থানার কাদুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বটতলায় শক্তিদেবীর আরাধনা শুরু করেছিলেন পাঁচ উৎসাহী যুবক। ধু -ধু বালিয়াড়ির মাঝ খানে বটতলায় খড়ের চালা বানিয়ে শ্যামামূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন তাঁরা। জনশ্রুতি আছে, একসময় বালিয়াড়ি আর ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ আজকের কাদুয়া অঞ্চলে ডাকাতদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন গ্রামবাসীরা। ডাকাতি ঠেকাতে এলাকার পাঁচ উৎসাহী যুবক ব্রজমোহন বড়পন্ডা, তারিনী প্রসাদ দাস মহাপাত্র, কাঙালী চরণ বড়পন্ডা, গিরীশ চন্দ্র বড়পন্ডা আর জিতেন্দ্রনাথ মহাপাত্র ধূ-ধূ বালিয়াড়ি,ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ বটতলার বালিয়াড়ি আর জঙ্গল কেটে চালার মন্দির তৈরী করে শ্যামাপুজো শুরু করেছিলেন।

বটতলার এই শ্যামা মায়ের কাছে ভক্তিভরে কোন মনোস্কামনা রাখলেই তা পূর্ণ হত। ধীরে ধীরে দিকে দিকে কল্পতরু শ্যামা মায়ের কাহিনী ছড়িয়ে পড়ে। ‘মা আনন্দময়ী’ নামে তাঁকে ডাকতে শুরু করেন ভক্ত জনেরা। এই ভাবেই ব্রজমোহন বড়পন্ডা, তারিনীপ্রসাদ দাস মহাপাত্র, কাঙালীচরণ বড়পন্ডা,গিরীশচন্দ্র বড়পন্ডা আর জিতেন্দ্রনাথ মহাপাত্রের পুজো ক্রমে ক্রমে সর্বজনীন পুজোর চেহারা নেয়। কৃপাধন্য ভক্তেরা ইতিমধ্যেই মা আনন্দময়ী র জন্য সুদৃশ্য পাকা মন্দির করে দিয়েছেন। নিরাভরণ মা আনন্দময়ী আজ আপাদ মস্তক স্বর্ণালঙ্কারে ভূষিতা। গ্রামবাসীরা মা আনন্দময়ীর নামে গ্রামের একমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ‘বটতলা আনন্দময়ী উচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ নামকরণ করেছেন। মন্দিরের পুরোহিত তুষারকান্তি মিশ্র জনান, “মনোবাসনা পূর্ণ করতে দূর দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ পুজোর সময় আসেন।মন্দিরের উন্নতিকল্পে নিয়মিত অর্থ দান করেন ভক্তরা। শক্তির উপাসনার জন্য এই পুজোর প্রচলন হলেও পুরোপুরি বৈষ্ণব মতে পুজো হয়। পুজো কমিটির সম্পাদক প্রশান্ত দাস জানান, “কালীপুজো দীপাবলির সময় মা আনন্দময়ীর পুজো কে ঘিরে সপ্তাহব্যাপী মেলা বসে। মন্দিরের অন্যতম সেবাইত পরিচালক পুলক বড়পন্ডা জানান, “মা আনন্দময়ীর পুজো উপলক্ষে সপ্তাহবাপী মেলা বসা ছাড়াও স্বাস্থ্য শিবির অনুষ্ঠিত হয়।থাকে যাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় পুজোর ক’টা দিন।”