এ রাজ্যে বর্ষা উঁকি দিয়েছে। সেভাবে বৃষ্টির দেখা নেই। তাতে কি? তা বলে প্রাচীন প্রথার অন্যথা হবে না। সকালেই লক্ষ্মীজলার মাঠে কামারপুকুর মঠ ও মিশনের সাধু-সন্ন্যাসীরা ধান রোয়ার কাজ শুরু করে দিলেন। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের পিতৃদেব ক্ষুদিরাম চট্রোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীজলার মাঠকে স্মরণীয় ও শাশ্বত করে রাখতে কোনো খামতি রাখল না মঠের সন্ন্যাসীরা। কারণ গ্ৰামের চাষিরাও অধীর আগ্ৰহে থাকেন লক্ষ্মীজলায় চাষ শুরু হলেই, তাঁরাও মাঠে নামেন চাষের জন্য।

কামারপুকুর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী লোকত্তরানন্দ মহারাজ জানান, শুভ জগন্নাথদেবের রথযাত্রার দিন ভগবান রামকৃষ্ণদেবের পিতৃদেব ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় যে পৌনে দু-বিঘা জমি পেয়েছিলেন তাতে এই নির্দিষ্ট দিনে রঘুবীরকে স্মরণ করে ধান রোয়ার কাজ শুরু করেন। উল্লেখ্য, ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবকে এই জমি দিয়েছিলেন বন্ধু সুখলাল গোস্বামী। যা লক্ষ্মীজলা নামে পরিচিত। স্বামী লোকত্তরানন্দ মহারাজ জানান, রথযাত্রার দিন বংশের ঠাকুর রঘুবীরকে স্মরণ করে ও জগন্নাথদেব, রামকৃষ্ণদেব, মা সারদা, স্বামীজিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনটি ধানের গোছ বর্ষায় রোয়ার কাজ শুরু করা হয়। সেই প্রথা আজও চলে আসছে। এবারেও তার ব্যতিক্রম ঘটলো না। এরপর এলাকার চাষিরাও ধান চাষ শুরু করবেন।