একমাসে রাজ্যের এক হাজার পঞ্চায়েত পরিদর্শন হয়ে গেছে দিদির দূতদের। তৃণমূলের তরফে নেওয়া দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচি এখন সাফল্যের শীর্ষে। হুগলির জেলা সভাধিপতি সেখ আলহাজ্ব মেহবুব রহমান এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সফল। ইতিমধ্যেই ১৩টি পঞ্চায়েতে দিদির দূত হিসেবে মানুষের দুয়ারে একগুচ্ছ প্রকল্পের কাজের পরিষেবা ঠিকঠাক মানুষ পাচ্ছেন কীনা তা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে খতিয়ে দেখলেন। জনমানসে উৎসাহ লক্ষ্য করা গেল।

শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূত হয়ে মানুষের দুয়ারে উপস্থিত থাকলেন হুগলি জেলার সভাধিপতি সেখ আলহাজ্ব মেহবুব রহমান। গত ১১ জানুয়ারি থেকে পথচলা শুরু। যা আজও অব্যাহত। ত্রয়োদশবার সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুললেন।

দিদির দূত হিসেবে মানুষের সুবিধা-অসুবিধার দিকগুলো খতিয়ে দেখার সঙ্গে সঙ্গে, তাঁদের সুরক্ষা ও দিদির একগুচ্ছ প্রকল্পের কাজের পরিষেবা ঠিকঠাক পাচ্ছেন কীনা তাও তিনি দেখলেন। এমনকি মানুষের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দিয়ে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করলেন। মূল উদ্দেশ্য সফল হল। প্রসঙ্গত, জেলা সভাধিপতি সেখ আলহাজ্ব মেহবুব রহমান শনিবার শুরু করেছেন খানাকুল-১ ব্লকের রামমোহন-১ গ্ৰাম পঞ্চায়েতের মানুষের দুয়ারে গিয়ে।

এখানে একটি মন্দিরে পূজা দিয়ে মানুষের মঙ্গল কামনা করেন। এরপর তিনি রামমোহন রায়ের জন্মস্থান রাধানগরে গিয়ে রামমোহন রায়ের আবক্ষ মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া রামমোহন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শান্তিমোহন রায়ের মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করতেও ভুল করেননি। প্রাইমারি স্কুলে গিয়ে অভাব অভিযোগের কথা শুনলেন। এরপর মেহবুব সাহেব মানুষের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

তারপর পঞ্চায়েতে গিয়ে জনসংযোগ সভা করেন। মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে সুবিধা-অসুবিধার দিকগুলো খতিয়ে দেখেন। দিদির একগুচ্ছ প্রকল্পের কাজের পরিষেবা ঠিকঠাক মানুষ পাচ্ছেন কীনা তা নিয়ে মেহবুব সাহেব খোঁজ নেন। এছাড়া নেতাকর্মী ও গ্ৰাম সংসদ সদস্যদের নিয়ে আলোচনা সভা সেরেছেন ।

মেহবুব সাহেব বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দূত হিসেবে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে উপস্থিত হচ্ছি। মানুষের হিতার্থে দিদি একগুচ্ছ প্রকল্পের কাজ চালু করেছেন। এর যথার্থ সুবিধা মানুষ পাচ্ছেন কীনা তা দেখা হল আমার লক্ষ্য। এদিন সঙ্গে ছিলেন রাজ্য কমিটির সদস্য মিন্টু পাল, ব্লক সভাপতি সেখ ইলিয়াস চৌধুরী, পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সেখ সাদাতুল্লা হোসেন, প্রধান সঞ্জয় দুলুই-সহ দলীয় নেতা কর্মীরা।

প্রসঙ্গত, ৬০ দিনের এই কর্মসূচি থাকলেও, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেখে, তৃণমূল দিন সংখ্যা বাড়াতে চলেছে। জনসংযোগের এই পর্ব থেকেই পঞ্চায়েত ভোটে গ্ৰামে তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্ক অটুট থাকছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।