সিঙ্গুর মামলায় শীর্ষ আদালতে চরম বেকায়দায় পড়ল রাজ্য সরকার। টাটাকে ৭৬৬ কোটি টাকা দিতেই হবে রাজ্য সরকারকে। তিন সদস্যের সালিশি আদালত ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর রায় দিয়েছিল, রাজ্য সরকারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ টাটা মোটরসকে দিতে হবে ৭৬৬ কোটি টাকা। সুপ্রিম কোর্ট কার্যত সেই রায়ই বহাল রাখল। শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের পক্ষের আইনজীবী কপিল সিব্বলের বক্তব্য ধোপে টেকেনি। সালিশ আদালতের তিন বিচারপতির একজন পক্ষপাতদুষ্ট, এই অভিযোগ তুলে তিনি ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত রায় খারিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু তা আদালতে গ্রাহ্য হয়নি। ফলে সুপ্রিম কোর্ট ক্ষতিপূরণের রায়ই বহাল রেখেছে বলা যায়। বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনেও শুনানি চলবে, তবে তা হবে কলকাতা হাইকোর্টে। উল্লেখ্য, সালিশি আদালতের এক বিচারক পক্ষপাতদুষ্ট, তাঁর সঙ্গে টাটাদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, এই অভিযোগ নিয়ে এর আগেই হাইকোর্টে গিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেখানে তাদের বিফল মনোরথ হয়ে ফিরতে হয়েছিল। এবার সুপ্রিম কোর্টেও পরিণতি হল একই।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সিঙ্গুরে টাটাদের গাড়ি কারখানার জন্য এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। সেই সময় বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের জেরে টাটাদের চলে যেতে হয়েছিল সিঙ্গুর ছেড়ে। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর আদালতের নির্দেশকে সঙ্গী করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেন। এরপরই টাটা গোষ্ঠী ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এবং টাটা মোটরসের মধ্যে চলা ওই মামলায় আদালত আরবিট্রেটর নিয়োগ করে। সেখানেই টাটাদের দাবি মতো ৭৬৬ কোটি টাকা দিতে হবে।
নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ১লা সেপ্টেম্বর থেকে পুরো ক্ষতিপূরণ না মেটানো পর্যন্ত ১১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।