বুধবার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে দুপুর ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিক্ষোভ অবস্থানের সঙ্গে প্রতিবাদে সরব হল দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ। এদিন গণমঞ্চের বিক্ষোভ অবস্থানের মুখ্য বিষয় ছিল সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট নিয়ে টালবাহানা করে যে ভাবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করছে নির্বাচন কমিশন তা মেনে নেওয়া যায় না। বিক্ষোভ অবস্থানে সামিল হন বিশিষ্টজনেরা। পূর্ণেন্দু বসু জানান, প্রথমে বাদ পড়েছিলেন ৫৮ লক্ষ ভোটার। তার পরের দফায় আরও ৬ লক্ষ। খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়া মাত্রই সেই পরিসংখ্যান ফলাও করে জানিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। আর এবার? সোমবার মধ্যরাতে প্রথম ‘বিচারাধীন’ তালিকা প্রকাশের পর থেকে শুধুই নিস্তব্ধতা। ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও ধোঁয়াশা। ভোটপর্ব চলাকালীন কমিশনের এহেন খামখেয়ালিপনায় হয়রান ভোটাররা। কিন্তু কার নির্দেশে এই নিস্তব্ধতা? কোনও নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে কি? অভিযোগ, ‘বিজেপি — কমিশন চক্রান্তেই ভোটারদের এমন চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।’

হরনাথ চক্রবর্তী বলেন, সোমবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার কথা আগেই ঘোষণা করেছিল কমিশন। কিন্তু দিনভর অপেক্ষার পর মধ্যরাতে একটি দায়সারা তালিকা প্রকাশ করা হয়। ঠিক কতজন বিচারাধীন ভোটারের নথি নিষ্পত্তির পর ওই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তা নিয়ে কিছুই বলছেন না কমিশন কর্তারা। উলটে কত নাম বাদ গিয়েছে, সেই তথ্য জানানোর দায় সরাসরি এড়িয়ে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। মঙ্গলবার তিনি সরাসরি বলেন, ‘কত নাম বাদ গিয়েছে বলতে পারব না। সেই হিসাব আমার কাছে নেই। এটা ওয়েবসাইটে আছে।’ পাশাপাশি এই অতিরিক্ত তালিকার সমস্ত দায় বিচারবিভাগের উপরই ঠেলেছেন মনোজ।
আরও জানা যাচ্ছে, শুক্রবার আরও একটি তালিকা প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ এই পর্বে কত সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাচ্ছে, তা কমিশন নির্দিষ্ট কোনো কারণে জানাতে চাইছে না বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। আর সেই কারণকেই ‘চক্রান্ত’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা।

রন্তিদেব সেনগুপ্ত জানান, ‘কমিশন-বিজেপি আঁতাত সবার কাছে স্পষ্ট, তাহলে আর পিছনের দরজা দিয়ে রাজনীতি কেন? কেন মধ্যরাতে ব্লক এবং জেলাগুলোতে এখনও তালিকা টাঙানো হয়নি? মানুষ এখনও তাদের ভোটাধিকারের স্থিতি সম্পর্কে অবগত নয়।’ পূর্ণ তালিকা প্রকাশিত হলেই সবটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।’ এছাড়া উপস্থিত বক্তারা ভোটাধিকার কেড়ে নির্বাচন কমিশনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছেন ।

এদিকে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ ভোটার ‘বিচারাধীন’। এ রাজ্যের অধিকাংশ ভোটার তাদের নিরিখে চলে গিয়েছে অ্যাডজুডিকেশন লিস্টে। ভোটার তালিকায় এপিক দিয়ে নাম খুঁজতে গেলেই বলে দেওয়া হচ্ছে, আপনি ‘বিচারাধীন’। এই বিভ্রাটে মঙ্গলবার রাতেই তোলপাড় পড়ে যায় রাজা জুড়ে। মুখে কুলুপ কমিশনের। এদিনের প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মল্লিকা ব্যানার্জী, সুভদ্রা মুখার্জী, এলফিনা মুখার্জী, সুদেষ্ণা রায়, অধ্যাপক শামীম আহমেদ, হরনাথ চক্রবর্তী’, অর্ণব ব্যানার্জী, ময়না ব্যানার্জী, সোনামণি সাহা, সৈকত মিত্র, রাহুল চক্রবর্তী, সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায়, কৌশিক ভট্টাচার্য, শ্রীতমা ভট্টাচার্য, প্রতিবাদে সরব হন — বর্ণালি মুখার্জি, সুমন ভট্টাচার্য, সুশান রায়, সিদ্ধব্রত দাস, নাজমুল হক, অমিত কালি, রন্তিদেব সেনগুপ্ত, পূর্ণেন্দু বসু প্রমুখ।