টাকা দাও, আধার নাও— সরকারি আধার কার্ড সংশোধন কিংবা নতুন আধার কার্ড মিলবে ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকায়। এমনই ভুয়ো আধার সংশোধন কেন্দ্র চলছিল হুগলীর চণ্ডীতলা ১ নম্বর ব্লকের ভগবতীপুর বাজার এলাকায়। অভিযোগ ‘এখানে নতুন আধার কার্ড তৈরি ও সংশোধন করা হয়’— দোকানের সামনে পোস্টার ও ব্যানার দিয়েই নাকি চলছিল ব্যবসা।
প্রসঙ্গত, আধার সংশোধন করার জন্য শুধুমাত্র ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের কোনও সরকারি কর্মীকে ইউনিক ডিভাইস আইডেন্টিফিকেশন দেওয়া হয়। আর তার মাধ্যমে আধার সংশোধন করতে পারেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মী এবং তা সংশ্লিষ্ট দফতরে বসেই করা সম্ভব। কিন্তু বহু সরকারি কর্মীরাই সেই ইউডিআই লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেন। কেউ কেউ সেই ইউডিআই হ্যাক করেও আধার সংশোধন করার কাজ চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ। তার মানে আধার নিয়ে চলছে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা ব্যবসা।

কিন্তু প্রশ্ন পুলিশ প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কি করে চলতে পারে অবৈধ আধার সংশোধনের কাজ! চণ্ডীতলার ১ নম্বর ব্লকের আধিকারিক নরোত্তম বিশ্বাস জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা এই এলাকায় আগেও ঘটেছে। সেক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছিল। যদি ফের সেইরকমই কোনও চক্র সক্রিয় হয়, তবে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তিনি আধার কার্ডের লিঙ্ক করাতে এসে জানলেন, ৫০০ টাকা দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ৪৫০ টাকায় রফা হয়। সরকারি নিয়মে ৫০ টাকাতেই কাজ হয়ে যাওয়ার কথা। সেখানে এত টাকা কেন বেশি কেন? কিন্তু উত্তর দেওয়ার কেউ নেই, তাই বলেও লাভ হচ্ছে না। আরেক এলাকাবাসী বলেন, তিনি যখন আধার কার্ড সংশোধন করাতে গিয়েছিলেন তখন কোনও টাকাই লাগেনি। সরকারিভাবে সর্বোচ্চ ৫০ টাকাই নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এত বেশি টাকা কে বা কারা নিচ্ছে?

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই দোকানের মালিক বুবাই রায়। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থেই তিনি এই আধার সংশোধনের কাজ করছেন। এমনকী, মানুষ নিজে থেকে যে টাকা দিচ্ছে তাই তিনি নিচ্ছেন। কোনওভাবেই কোনও অবৈধ টাকা নেওয়া হচ্ছে না বলেই তার দাবি। কিন্তু সরকারি অনুমতি ছাড়া কী করে চলছে আধার সংশোধনের কাজ? বুবাই রায়ের সাফ জবাব, তাঁরা ইউডিআই-এর অনুমতি নিয়েই কাজ করছেন, যদিও এই সম্পর্কিত কোনও নথি বা শংসাপত্র তাদের নেই।