গতকাল অর্থাৎ ২২ আগস্ট নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে শারদীয়া উৎসব উপলেক্ষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল প্রশাসনিক ও সমন্বয় বৈঠক। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর মন্ত্রী সভার সদস্যগণ, কলকাতার সাংসদ ও বিধায়কগণ, পুরসভার কাউন্সিলরগণ, আধিকারিকবৃন্দ, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মগুরুগণ ও শহরের সমস্ত দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তারা। এছাড়া রাজ্যের সমস্ত জেলা থেকে পুজো কমিটির কর্মকর্তারা এই বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগদান করেছিলেন।
বৈঠক শুরু হয় বিকাল ৩টের সময়। প্রথমেই মুখ্যমন্ত্রীর রচনা কথা ও সুরে গান শোনানো হয় ইন্দ্রনীল সেন ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। এই গানটিই এইবছর শারদ উৎসবের থিম সং। এর পর বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুরা একে একে তাঁদের বক্তব্য রাখেন। শেষ বক্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্য শুরু করেন ৪.৩৫ মিনিটে। তার আগে অবশ্য তিনি পুরো স্টেডিয়ামটি প্রদক্ষিণ করেন।
অন্যান্য বছরের থেকে এই বছর কলকাতার দুর্গোৎসব আরো বেশি জাঁক-যমক পূর্ণ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তার কারণ এই বছর প্রথম কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনিস্কোর পুরষ্কার পাচ্ছে। তাছাড়া বিগত দু’ বছর করোনা মহামারির কারণে কলকাতার দুর্গাপুজোতেও নানা বিধি-নিষেধ যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু এই বছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এই বছর ১ সেপ্টেম্বর রাজ্য জুড়ে পদযাত্রা করা হবে ইউনিস্ককে ধন্যবাদ জানাতে। এদিন দুপুর দু’টোয় জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে জমায়েত শুরু হবে। কলকাতা, সল্টলেক, হাওড়ার বিভিন্ন পুজো কমিটি মিছিল করে সেখানে যোগ দেবে।

এছাড়া এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন প্রতি পুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদানের অঙ্ক বাড়িয়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার করা হয়েছে। ২০২০ সালে সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত পুজো প্রায় ৩৭ হাজার ছিল। ২০২১ সালে তা হয় ৪০ হাজার ৩৮৩। ২০২২ সালে সেই সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৯২। ২০২১ সালে অনুদানে মোট বরাদ্দ ছিল ২০১.৯১ কোটি টাকা। এবার সম্ভাব্য খরচ ২৪০.৫৫ কোটি। এছাড়া বিদ্যুৎ বিলে ছাড় ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে এবং দমকল, পুরসভা, পঞ্চায়েত ও বিজ্ঞাপনের কর আগের মতোই সম্পূর্ণ মুকুব করা হয়েছে।
৫,৬,৭ ও ৮ অক্টোবর বিসর্জনের দিন ঠিক করা হয়েছে। রেড রোডে কার্নিভ্যাল হবে ৮ অক্টোবর। এই বছর পুজো উপলক্ষ্যে ছুটি থাকছে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। এছাড়া কালীপুজো উপলক্ষ্যে ছুটি থাকছে ২৪-২৫ অক্টোবর, ছটপুজোর ছুটি ৩০-৩১ অক্টোবর।

১ সেপ্টেম্বরের মিছিলের বিষয়ে মমতা এদিন মঞ্চ থেকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা দপ্তরকে বলা হয়েছে, ১০ হাজার ছাত্রছাত্রী যাতে এই মিছিলে শামিল হয়। ক্লাবগুলো আসবে নিজেদের মতো করে। যাঁরা শঙ্খ বাজাতে পারেন, সেইসব মহিলাকে স্বাগত। মিছিলে ইউনিস্কোর প্রতিনিধিরা থাকবেন। তাঁদের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হবে। সরকারি অফিস ১টার মধ্যে ছুটি দেওয়া যেতে পারে। তার কারণ, ১টায় ছুটি পেলে সরকারি কর্মীরা মিছিলে আসতে পারবেন।
প্রতিবছরই শারদীয়ার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গানের অ্যালবাম বের করেন। এবারও বেরোবে। কথা ও সুর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পী ইন্দ্রনীল সেন। শেষ লাইনে শোনা যাবে মুখ্যমন্ত্রীর গলা। গানের ক্যাসেট তৈরি করে বিনামূল্যে তা প্রতিটি জেলায় দেওয়া হবে।