যুক্তরাষ্ট্রে এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন মার্কিন ভোটাররা। এক শতাব্দীর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যায় এরই মধ্যে আগাম ভোট দিয়ে ফেলেছেন সেই দেশের ভোটাররা। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডায় ইউএস ইলেকশন্স প্রজেক্টের শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ১০ কোটি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। এই হিসেব অনুযায়ী ২০১৬ সালে যে পরিমাণ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন এরই মধ্যে তার চেয়ে শতকরা ৫৮ ভাগের বেশি ভোট পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৬ সালে মোট ভোট দিয়েছিলেন ১৩ কোটি ৮০ লাখ ভোটার। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই রেকর্ড ভঙ্গে যাবে বলে আশা করছেন তারা। ২০১৬ সালের ওই নির্বাচনে আগাম ভোট দিয়েছিলেন মাত্র ৪ কোটি ৭০ লাখ। ফলে সেই সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি মানুষ এরই মধ্যে আগাম ভোট দিয়ে ফেলেছেন।
উল্লেখ্য এ বছরের নির্বাচনে আমেরিকানদের উচ্ছ্বাস অনেক বেসি। বিশেষ করে ডেমোক্রেটরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রসিডেন্ট চ্রাম্পকে পরাজিত করতে। সে কারণে তারা আগে ভাগে ভোট দিয়ে জো বাইডেনের জয় নিশ্চিত করছেন। তাঁরা মনে করছেন প্রসিডেন্ট চ্রাম্প কোনো নিয়মনীতি মানেন না। করোনাভাইরাসের মত প্রাণসংহারকারী জীবানুকে নিয়ে পৃথিবী যখন টালমাটাল, তখনও তিনি তা উপেক্ষা করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত নিজেইআক্রান্ত হয়েছেন। মানুষ ঠেকে শেখে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সংশোধন করবে কে? কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠার পর আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বলগাহীন কথাবার্তা, অনর্গল মিথ্যাচারিতা, অবলীলায় সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা বলা, একমাত্র শ্বেতাঙ্গ সুপ্রিমেসিস্ট গ্রুপ ছাড়া সমাজের প্রায় সকল শ্রেণীকে অসম্মান ও অবজ্ঞা করা তাকে এক অন্য ধরনের মানুষ হিসাবে তুলে ধরেছে জনসমক্ষে। ইতিমদ্যে যাঁরা ভোট জিয়েছেন তাঁদের বেশির ভাগই ডেমোক্রেট। গত ২০১৬ সালে মোট ১৩ কোটি ৯০ লক্ষ আমেরিকান ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এবার মনে করা হচ্ছে সেই সংখ্যাটা ছাড়িয়ে যাবে।
শনিবার ২৪ অক্টোবর থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে শুরু হয়েছে অগ্রিম ভোটদান কর্মসূচি। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অগ্রিম ভোট দেওয়া যাবে ১ নভেম্বর রবিবার পর্যন্ত। সোমবার ভোটকেন্দ্র বন্ধ থাকলেও মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একটানা ভোট দেওয়া যাবে।