জঙ্গলমহলের প্রতি এমনিতেই বেশি নজর জননেত্রীর। অনেক দুঃস্থ, হতদরিদ্র ও লোধা-শবরের বাসভূমি জঙ্গলমহলের এই ঝাড়গ্রাম জেলা। যাদের অনেকেই দিন আনে দিন খায় অবস্থা। জননেত্রী আগেই জঙ্গলমহলের এই প্রান্তিক মানুষগুলোর জন্য আগামী ছয় মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিনামূল্যে রেশনে চাল দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তাছাড়া এই লকডাউনের সময় ওই সকল অসহায় মানুষগুলোর সাহায্যার্থে এগিয়ে এলেন আগামীর পথ দেখানো জননেত্রীর প্রিয় ছাত্র-যুবরা।

আজ গোপীবল্লভপুর-১নং ব্লকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি সত্যরঞ্জন বারিকের (দুলু) উদ্যোগে এলাকার দুঃস্থ খেটে খাওয়া ও দিন মজুর প্রায় ৪ হাজার পরিবারের হাতে সতর্কতার সাথে কাঁচা সবজি ও খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। উনি বলেন, ছাত্র-যুবরা এই ভাবেই ওই সকল অসহায় মানুষদের পাশে থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওনার ত্রাণ তহবিলে সাধ্যমত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে এই যুদ্ধে সামিল হতে জেলার ছাত্রদের আহ্বান জানিয়েছেন।

অপরদিকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সম্পাদক আর্য্য ঘোষও এই জেলারই বাসিন্দা। তিনিও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জন সচেতনতার সাথে দুঃস্থদের চাল, ডাল-সহ বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিতরণ করছেন। এছাড়া সেই সকল অসহায় পরিবার যেখানে শুধুমাত্র প্রবীণ নাগরিকরাই থেকে থাকেন, দোকান থেকে তাঁদের বাড়িতে ঔষধ-সহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস-পত্র পৌঁছে দিয়ে তাঁদের অসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি জানান, পড়াশুনা ও কর্মসূত্রে অন্য জেলা থেকে আগতরা যাঁরা ঝাড়গ্রাম জেলাতে আছেন, লকডাউন-এর ফলে যাতে তারা কোনো অসুবিধায় না পড়েন তার জন্য সর্বদাই নজর রাখছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সোশ্যাল ডিস্ট্যানসিং-এর সচেতনতার বার্তার উপর তাঁরা জোর দিচ্ছেন, সবাই যাতে এটা মেনে চলেন।

পিছিয়ে নেই ঝাড়গ্রাম জেলার যুব সৈনিকরাও। দিনরাত এক করে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে চাল, ডাল-সহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় জিনিস বিলি করে চলেছেন ঝাড়গ্রাম শহর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের লড়াকু যুব সভাপতি ও জেলার মুখ অজিত মাহাত।

অজিতবাবু জানান রোগ সংক্রামক যাতে না ছড়ায় তার জন্য শহরের যত মাছ, সবজি ও ফল বিক্রেতারা আছেন তাদের মধ্যে মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশ ও স্যানিটাইজার বিলি করা হয়েছে। বয়স্ক নাগরিকদের সমস্ত রকম পরিষেবা শহর-যুবর সৈনিকরা দিয়ে চলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা মেনে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে কেউ অভূক্ত থাকছেন কিনা। জরুরি পরিষেবা ভিত্তিক ত্রাণ মজুত রাখা আছে, যত রাতই হোক খবর পেলেই সেই সকল পরিবারের কাছে ত্রাণ খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
ছবি ও সংবাদ : সুদীপ্ত চক্রবর্তী