কলকাতায় যে তরুণ করোনা আক্রান্ত তাঁর মা রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের বিশেষ সচিব। অথচ সেই পরিবারের দায়িত্বজ্ঞানহীনতাই সকলের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কীভাবে? ভাবলে আপনিও ছিঃ ছিঃ করবেন। তাঁদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জেরে গোটা নবান্ন স্যানিটাইজড করা হয়। ইতিমধ্যেই তরুণের সঙ্গে তাঁর বাবা-মা ও গাড়িচালককে বেলেঘাটা আইডি-তে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ওই তরুণ রবিবার ১৫ মার্চ কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর তাঁকে হোম কোয়ারান্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কী কী করতে হবে তা বলা হয়। থার্মাল স্ক্রিনিংয়ে কিছু ধরা না পড়লেও ওই যুবক সর্দির কথা লুকিয়েছেন বলে অভিযোগ। আমলা পরিবারের ছেলে বলে কথা! তাই কে শোনে কার কথা? দক্ষিণ কলকাতার বাড়ি ফিরে তিনি কয়েকটি জায়গায় যান বলেও জানা গিয়েছে। সোমবার তিনি মায়ের সঙ্গে নবান্নে যান। যুবকের মা মুখ্যমন্ত্রীর করোনা-সতর্কতামূলক বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন। লিফটে ১৩ তলায় গিয়ে কথা বলেছিলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে কথাও বলে আসেন। তার জেরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আপাতত গৃহ পর্যবেক্ষণে থাকতে হচ্ছে সস্ত্রীক আলাপনকে। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী সোনালি চক্রবর্তী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।সোমবার ওই যুবক জানতে পারেন, তিনি লন্ডনে যে পার্টিতে ছিলেন সেখানে কয়েকজনের করোনা-পজিটিভ ধরা পড়ে। এরপর এম আর বাঙুর হাসপাতালে গেলে তাঁকে বেলেঘাটা আইডি-তে ভর্তি হতে বলা হয়। প্রভাব খাটিয়ে তিনি ডেপুটি সুপারের ঘরে ছিলেন। সেখানে গিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁকে পরীক্ষা করেন। সূত্রের খবর, ওই যুবক বলেন তিনি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হবেন না! এদিন নবান্নে যাওয়ার পাশাপাশি শপিং মল-সহ আরও কয়েকটি জায়গায় ঘোরেন ওই যুবক। পরে চাপে পড়ে বেলেঘাটা আইডি-তে ভর্তি হন এবং রিপোর্টে COVID-19 পজিটিভ ধরা পড়ে। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। কলকাতা ফিরে ওই যুবক কোথায় গিয়েছিলেন, কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন তা জানার চেষ্টা চলছে। ওই বিমানে কারা এসেছিলেন সেই তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। ওই যুবকের মা রাইটার্স বিল্ডিংয়েও কয়েকজনের সংস্পর্শে এসেছিলেন। নবান্নে ওই আমলার ঘর সিল করা হয়েছে। তাঁরা সরকারি কর্মী-সহ যাঁদের সংস্পর্শে এসেছিলেন তাঁদেরও প্রশাসন গৃহ পর্যবেক্ষণে রাখার ভাবনাচিন্তা চলছে। এম আর বাঙুর হাসপাতালে যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ওই যুবককে দেখেছিলেন তাঁদেরও বেলেঘাটা আইডি-তে ভর্তি করা হয়েছে।

