একসময় নচিকেতার বেশ কিছু গান জনপ্রিয় হয়েছিল। তার মধ্যে বিশেষভাবে শ্রোতাদের মন জয় করেছিল তাঁর বৃদ্ধাশ্রম গানটি। যে গানে তিনি মায়ের বৃদ্ধ বয়েসের পরিণতির ছবি তুলে ধরেছিলেন। বৃদ্ধাশ্রম গানটিতে তিনি সরাসরি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন প্রতিনিয়ত বহু বাবা-মা কিভাবে তাঁর পেটের সন্তানের কাছেই বোঝা হয়ে ওঠেন। অবহেলার শিকার হন। ছেলে মেয়েরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেইভাবে আর বাবা-মার প্রতি দায়িত্ব পালন করেন না। অনেকে খোঁজ খবরও রাখেন না। কিন্তু বাবা-মা একদিন কষ্ট করে রক্ত, হাসি মুখে ত্যাগ স্বীকার করে সেই ছেলে মেয়েদের মানুষ করেন। কিন্তু দেখা যায় ছেলে মেয়েরা বাবা মার সেই অবদান ভুলে গিয়েছেন।
নচিকেতার বিখ্যাত গান বৃদ্ধাশ্রম-এর সেই ছবিটাই যেন অবিকল ফুটে উঠেছে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারবাসী বকুল দাসের জীবনে। আলিপুরদুয়ার শহরের জনবহুল এলাকায় একটি একচালা ঘরে বসবাস করেন তিনি। বকুল দাসের বিষয়ে জানা গিয়েছে তাঁর স্বামী জীবিত থাকার সময় সরকারি জমির উপর তাদের ঘর ছিল। সেই ঘর ভাড়া দিয়ে সংসার চলত। কিন্তু সরকার জমি অধিগ্রহণের পর সেই ঘর ভাঙ্গা পড়ে। এর বেশ কিছুদিন পরে তাঁর স্বামী মারা যান। সেই শোক সামলে উঠলেও বকুল দেবী সবথেকে বেশি কষ্ট পেয়েছেন তাঁর ছেলে তাঁকে একলা ফেলে রেখে অন্যত্র চলে যাওয়ায়। জানা গিয়েছে তাঁর ছেলে আলিপুরদুয়ার শহরেই আলাদা বাড়ি করেছেন। যেখানে তাঁর মাকে ঠাই দেন নি। এমনকি তিনি মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত রাখেন না।
বকুল দাস এখন রাস্তায় রাস্তায় কাচের বোতল, কাগজ কুড়িয়ে বিক্রি করেন। আর সেই সামান্য পয়সাতেই তিনি কোনওক্রমে দিন গুজরান করেন। এখন তিনি একথাই বলেন, বহু বছর হয়ে গেছে তাই সেই অর্থে আর খারাপ লাগে না। তাঁর মেয়েরও বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তিনিও আলিপুরদুয়ার শহরেই থাকেন। মেয়ে অবশ্য তাঁর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। কিন্তু তাঁর নিজের সাংসারিক অবস্থাও ভালো নয়, তাই সেইভাবে নিজের মাকে সাহায্য করতে পারেন না।
বকুল দাসের এক চিলতে ঘরে সূর্যের আলো প্রবেশ করে না। অথচ তাঁর ছেলে থাকেন পাকা বাড়িতে, কিন্তু সেখানে তাঁর মায়ের জন্য জায়গা নেই। বকুল দাসের একমাত্র সঙ্গী একটি বিড়াল। করোনাভাইরাস এর প্রথম পর্যায়ের লকডাউন থেকে ওই বিড়ালটি তার সঙ্গী হয়েছে। এই ব্যাপারে আলিপুরদুয়ার এর মহাকুমা প্রশাসক জানান ভদ্রমহিলার ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে চেষ্টা করা হবে সবরকম সাহায্য করার।