পরপরই গভীর নিম্নচাপ। গত কয়েক দিন প্রবল বৃষ্টি। বন্যার ভ্রুকুটি। আরামবাগের ছ’টি ব্লকের নিচু এলাকা জলমগ্ন। ক্ষতি সবজি ও আমনধান চাষে। চিন্তায় চাষিরা। চলছে ক্ষতিগ্ৰস্ত এলাকায় ড্রোনে নজরদারি এবং খানাকুলে পারাপারের সময় যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার ভোর থেকেই শুরু হয় ভারী বর্ষণ। একটানা বৃষ্টি হওয়ায়, আরামবাগ শহর-সহ ছ’টি ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় জল-যন্ত্রণায় পড়ে গিয়েছেন মানুষজন। প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয় আরামবাগ মহকুমা-সহ আশপাশের এলাকাগুলিতে।
এ দিকে খানাকুল-২ ব্লকের অধিকাংশ মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। নিম্নচাপ ও প্রবল বর্ষণে ফের বন্যার ভ্রুকুটি খানাকুল জুড়ে। গতকাল থেকে দফায় দফায় প্রবল বর্ষণ হয়। খানাকুল দু’নম্বর ব্লক থেকে ড্রোনে নজরদারি করা হচ্ছে, কোথাও মানুষ সমান জল রয়েছে। ফলে, জল পেরিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে মানুষকে। খানাকুল দু-নম্বর ব্লক থেকে রূপনারায়ণ ও মুণ্ডেশ্বরী নদীতে তিন জেলা অর্থাৎ হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর ও হাওড়ার সংযোগে খেয়া পারাপারের ঘাটগুলিতে লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছে। আপাতত সেই লাইফ জ্যাকেট পরানো হচ্ছে খেয়া পারাপারের সময়ে।
খানাকুল-২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রূম্পা মণ্ডল বলেন, ‘আমরা তো মানুষের কাছে আছি। তাঁদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি। কিন্তু বর্তমান শাসক দলের লোকজন সব দিক থেকে এই ব্লককে আটকে দিচ্ছেন। জেলাশাসক নিজেও কোনও রকম সহযোগিতা করেন না। এই ভাবে কী করে মানুষকে সহযোগিতা করব আমরা? প্রসঙ্গত, খানাকুল দু-নম্বর ব্লক থেকে ড্রোনে নজরদারি করা হচ্ছে। তবে পশ্চিমের জেলাগুলিতে বৃষ্টিপাত বাড়লে আবারও ফুলেফেঁপে উঠবে নদীগুলি। নিম্নচাপে যদি বৃষ্টিপাত বাড়ে, তবে ফের ভাসবে খানাকুল এমনটাই আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের কর্তারাও। তবে এ বারে প্রশাসন সব রকম ভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। খানাকুলের নন্দনপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, অধিকাংশ বাড়ির নিচে জল। রোজই নৌকো করে আসতে হয় প্রধান সড়কে গড়েরঘাট-আরামবাগ রুটে। জল পার হয়েই নিত্য যাতায়াত।
এদিকে পানশিউলি, জগদীশতলা, হানুয়া, মাড়োখানা, বন হিজলি, শসাপোতা-সহ কয়েকটি এলাকা জলমগ্ন। ধীরে ধীরে এ সব এলাকা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।