কলকাতার রাস্তায় জন্ম তার। আর পাঁচটা সাধারণ সারমেয়র মতোই গায়ের রং। আলাদা করে গুরুত্ব দেবার কিচ্ছু নেই। আর যাঁরা পছন্দ করেন না, তাঁরা তো দূর ছাই করতেই ব্যস্ত। বলতে ব্যস্ত ‘আদিখ্যেতা! নিজের বাড়িতে আটকে রাখো না বাপু! খেতে দিতে হলে নিজের বাড়ির চৌহদ্দিতেই দাও। পথে যেন ওরা না থাকে। পথ শুধু আমাদের, আমাদের মত অহংকারী মানুষের।’ তা সব পশু পাখিরাই এইসব আত্মসর্বস্ব মানুষের ভয়ে সরতে সরতে হারিয়ে যাচ্ছে এক এক করে। কিন্তু এই আলোক বা অলোকা নামের সারমেয়টি কলকাতা থেকে আমেরিকা পৌঁছে শুধু হাঁটতে হাঁটতে বিশ্বের একগুচ্ছ মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে ফেলেছে। টেক্সাস থেকে ওয়াশিংটনের দিকে হাঁটছে আলোক সেই ২৬ শে অক্টোবর থেকে। হাঁটছে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিতে এই নির্মম বিশ্বের কোণায় কোণায়। তাকে হাঁটতে হবে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পথ। একবার সে গাড়ির ধাক্কায় মরতে বসেছিল। কিন্তু সন্ন্যাসীদের সেবায় সেরে উঠল। রাস্তায় আস্তাকুঁড়ে খেতে না পাওয়া সারমেয়টি আচমকা কলকাতায় আসা ১৯ জন ভিক্ষুকের সঙ্গে হাঁটতে শুরু করে। ওরা তো বোঝে, ভালমানুষ কে আর খারাপ মানুষ কে। তাই ওরা মানুষ বেছে নিতে পারে। বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও ওকে ফেলে শান্তির জন্য হাঁটতে পারেন নি, ওকে সঙ্গে নিয়ে আমেরিকা গেছেন। ওঁদের আদরে মমতায় ‘আলোক’ এখন সকলের পরিচিত। ফেসবুকের ভাষায় ‘ভাইরাল’। আলোক বা অলোকা ভালো থাক, সুস্থ থাক। কিন্তু সবাই তো আলোকের মত ভাগ্য নিয়ে জন্মায় না। ওদের কোনও দাবিদাওয়া নেই। নেই কোন চাহিদা। অলোকা সহ সন্ন্যাসীরা শুধু শান্তি, দয়া আর সহানুভূতির জন্য হেঁটে চলেছেন।
গেছিলাম শান্তিনিকেতনে। যত যাচ্ছি দেখছি গাছ কমছে ইঁটের পাঁজা বাড়ছে, গাছগুলো কেমন যেন রুক্ষ হয়ে পড়ছে। সে যাকগে, এটাই হবার। চোখে পড়ল একটা কালো কুকুরের মাথায় প্লাস্টিকের কৌটো চেপে আটকে আছে। যথারীতি কুকুরটি আমার কাছে এসে অসহায়ভাবে লেজ নাড়ছে। অচেনা জায়গার রাস্তার কুকুর। ভয়ে ভয়ে কৌটো ধরে টান দিলাম। খুলল না। প্রচন্ড অসহায় লাগল নিজেকে। যে রিসর্টে ছিলাম সেখানকার রিসেপশনে গিয়ে বললাম। শুনলাম ছদিন ধরে কুকুরটা এরকম অসহ্য কষ্ট পাচ্ছে। ওঁরা নাকি বনদপ্তরে খবর দিয়েছিলেন, সেখান থেকে এসেও কিছু করতে পারেন নি তাঁরা। আমি অতি সাধারণ মানুষ। কিন্তু এই অবলা পশুরা কষ্ট পেলে মাথাটা ঠিক রাখা খুব মুশকিল হয়। একটু গলা চড়াতে হল। কাজ হল। কিছু মানুষের চেষ্টা দেখলাম কুকুরটাকে ধরার জন্য। কিন্তু হলে কি হবে, কুকুরটা ওদের এতটাই ভয় পায় যে ওদের ত্রিসীমানায় আসছে না। রাত পর্যন্ত ওঁরা কিছুই করতে পারলেন না। হতাশ মন নিয়ে শান্তিনিকেতন থেকে ফিরব ভাবছি। কিন্তু রিসর্টের একজন সাধারণ কর্মী ভোরবেলা সুখবর দিলেন যে তিনি একাই টেনে কৌটো খুলে দিয়েছেন। তবে সে কিছু না খেয়ে পালিয়ে গেছে। রিসর্টটি অনেকটা জায়গা জুড়ে। আমি চা খেয়ে কিছুটা এগোতেই সেই হতভাগা কুকুর আমার পাশে এসে লেজ নাড়তে লাগল, সঙ্গে বিস্কুট তাকে দিতে গোগ্রাসে গিলতে লাগল। ছদিন ওইভাবে অভুক্ত অবস্থায় কিভাবে সে বেঁচেছিল জানি না। যদি না চেঁচামেচি করতাম, ওর মুখ থেকে কেউ প্লাস্টিকের কৌটো খুলত না এটা নিশ্চিত। কুকুরটার নাম কালু।

“একটা লাল রঙের রাস্তার কুকুর ওঁর কাছে এসে জুটেছিল। তার নাম রেখেছিলেন ‘লালু’। সে কারো পোষা কুকুর নয়, কাজেই দৈনিক খাবারের বরাদ্দ সম্বন্ধে সে নিশ্চিন্ত হতে পারতো না। কিন্তু যেদিন থেকে সে কবিকে পেল, সেদিন থেকে সে বেঁচে গেল। রোজ সকালে চায়ের টেবিলে দু-স্লাইস পাউরুটি টাটকা মাখন দিয়ে টোস্ট করা থাকতো। কবি যতক্ষণ খেতেন ততক্ষণ লালু দূরে টেবিলের দিকে পিছন ফিরে রাস্তার দিকে চেয়ে বসে থাকতো — যেন তার মন দিয়ে রাস্তা দেখা ছাড়া এখানে আসবার আর কোনোই উদ্দেশ্য নেই। কবি আমাদের দিকে তাকিয়ে হেসে বলতেন, “দেখেছো? কত সভ্য কুকুর আমার। ওর কোনোরকম হ্যাংলামি নেই। ধৈর্য ধরে চুপ করে আমার ডাকের অপেক্ষায় থাকে। তারপর খাওয়ার শেষে যখন লালু বলে ডাক দিই, তখন পাশে এসে বসে মুখের দিকে চোখ তুলে চায় আর আমার হাত থেকে নিয়ে এই রুটিটুকু শান্ত ভাবে খেয়ে আবার ধীরে ধীরে চলে যায়। কোনো রকম ছ্যাবলামো নেই, কাড়াকাড়ি নেই, মুখে এতটুকু ডাক পর্যন্ত নেই — এত নিঃশব্দ গম্ভীর। একেই বলে আসল আভিজাত্য। সেই জন্যেই তো আমি ওকে এত ভালোবাসি।’ ” (আনন্দমেলায় কবির গল্প)
বনমালী ছিল কবির ভৃত্য। বনমালী হেসে বলত যে কবির কুকুরকে কেউ একটু বকলেই সে খাবার ফেলে আস্তে আস্তে চলে যেত। বনমালীর কথা পরীক্ষা করার জন্য কেউ লালুকে খেঁকিয়ে বলেছিল, “আচ্ছা হ্যাংলা কুকুর তো!” লালু নাকি কোনদিকে না তাকিয়ে মাঠের উপর দিয়ে চলে গেছিল। সারাদিন আর খেতে আসেনি। এই ঘটনা শুনে কবি ভীষণ দুঃখ পেয়েছিলেন। পরদিন লালুকে ভোরবেলা দেখতে পেয়ে কবি তার মাথা চাপড়ে আদর করেছিলেন। লালুকে যে বিনা দোষে শাস্তি পেতে হয়েছে এই বেদনা কবির মন থেকে যেতে সময় লেগেছিল। অথচ কুকুর নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা কিন্তু কবি মোটেই পছন্দ করতেন না।
লেখিকা রানী মহলানবিশের বাড়িতে একটি পোষ্য ছিল। সে দুষ্টুমি করেই নাকি কবির চেয়ারের নিচে আশ্রয় নিত। কেন নিত? নিশ্চয়ই সেই অবলা পশু বুঝত যে এঁর কাছে আশ্রয় নিলে আমার মালিকের সাধ্য নেই আমাকে কিছু করার। এতটাই বিশ্বাস ওরা করে কাউকে কাউকে। এটি অবিশ্বাসীর দল ইহজনমে বুঝবেন না। রানী মহলানবিশকে কবি বলতেন, “আহা! বেচারা কথা বলতে পারে না, ওকে শাস্তি দিয়ে লাভ কি? দ্যাখো, কিরকম ভয় পেয়েছে।” আবার কখনো নির্মল কুমারী মহলানবিশ (রানী মহলানবিশ) বাড়ি না থাকলে কুকুরটা তাঁদের জন্য ছটফট করত। তা দেখেও কবি তিরস্কার করেছিলেন, “কেন তোমরা জানোয়ার পুষে এরকম কষ্ট দাও? তোমরা চলে যাওয়া অবধি ও কি রকম কষ্ট পাচ্ছিল, কথা বলতে পারে না, ভাবে তোমরা বুঝি ওকে একেবারেই ত্যাগ করে চলে গেলে। তাই থেকে থেকে আমার দিকে তাকায়, আবার চলে যায়। তারপর বারান্দায় রেলিংএর ভিতর মুখ গুঁজে দিয়ে বিমর্ষ হয়ে বসে থাকে। কোনো জানোয়ারকে এরকম কষ্ট পেতে দেখলে আমার ভারি খারাপ লাগে, কারণ ওদের কষ্ট বুঝতে পারি।” ঠিক এখানেই কবির সঙ্গে মিল খুঁজে পাই নিজের। আমি ওদের নিয়ে আদিখ্যেতা করিনা। শুধু অভুক্ত দেখলে খেতে দিই কোনো স্থান অপরিচ্ছন্ন না করে আর ওদের কেউ কষ্ট দিলে সহ্য করতে পারি না।
স্বামী অখন্ডানন্দ বলেছেন, “বরং গোখরো সাপ পোষ মানে, তবু মানুষ বশে আসে না।” সাধে কি আর বলেছেন! স্বামীজিও শেষ দিকে মানুষের উপর বিরক্ত হয়ে মানুষের সংস্রব একরকম ছেড়ে দিয়েছিলেন। কেন? তখন কতই বা বয়স তাঁর? কিন্তু পশুপক্ষীর উপর প্রবল আগ্রহ। পায়রা পোষা ছিল ছোটবেলার শখ। জননী ভুবনেশ্বরী দেবীও পায়রা ভালোবাসতেন। তখন পায়রা থেকে কারোর শ্বাসকষ্ট হত না বোধকরি। ছোটবেলাতে বিলের পোষ্য ছিল ময়ূর, ছাগল আর বাঁদর। ময়ূরটিকে পাড়ার লোক ঢিল মেরে মেরে শেষ করল। বাঁদর বাঁদরামি করবেই, তাই তাকেও তাড়ানো হলো। ‘মানুষ’ তো তখনও কম ছিল না। নিষ্ঠুরতায় মানুষের জুড়ি মেলা চিরকালই ভার। স্বামীজির মহাসমাধির আগে আবার এই ভাব ফিরে এল। নিজে দাঁড়িয়ে সব জানোয়ারকে খাওয়াতেন। কতকগুলি চিনেহাঁস, রাজহাঁস, পাতিহাঁস, কুকুর, ছাগল, গরু, ভেড়া সব পুষলেন। একটি হরিণও ঠাঁই পেল। হাঁসের নাম যশোবতী, রাজহাঁসের নাম বম্বেটে, ছাগলের নাম হংসী, ছাগলছানার নাম মটরু, দুটি কুকুরের নাম মেরি ও টাইগার, আর সবচেয়ে প্রিয় কুকুরের নাম বাঘা। মটরুর গলায় ঘুঙুর পরিয়ে তার সঙ্গে ছোটাছুটি করতেন ছোট ছেলের মতো। কিন্তু মটরু গেল মরে। স্বামীজি দুঃখ করে বলেছিলেন, “কী আশ্চর্য! আমি যেটাকে একটু আদর করতে যাই, সেটাই যায় মরে।”
স্বামীজিকে জানতে গেলে বুঝতে গেলে তাঁর বাঘাকেও জানা দরকার। একবার অত্যধিক দুষ্টুমি জন্য স্বামীজি কঠিন হয়ে তাকে গঙ্গার অপর পারে নির্বাসন দেন। বাঘা মঠ ছেড়ে থাকতে পারত না, স্বামীজিকে ছেড়েও না। সারাদিন সে অতি কষ্টে কাটিয়ে নৌকোয় চেপে বসল। নৌকোর মাঝি তাকে যত তাড়াবার চেষ্টা করে বাঘা তত দাঁত মুখ খিঁচিয়ে ভয় দেখায়। এইভাবে সে বেলুড় মঠে এসে রাতটা লুকিয়ে রইল। ভোরবেলা যখন স্বামীজি স্নান করতে যাচ্ছেন তখন তাঁর পায়ে কী একটা ঠেকতে তিনি চমকে উঠে দেখেন যে বাঘা তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়ে ক্ষমা চাইছে। স্বামীজি বাঘার পিঠ চাপড়ে আদর করে দিলেন এবং সকলকে বলে দিলেন যে বাঘা যাই করুক না কেন তাকে তাড়ানো চলবে না। আশ্চর্যের ব্যাপার স্বামীজির দেহাবসানের পর তাঁর পশুপক্ষী সব বেশিদিন বাঁচেনি। একমাত্র বাঘা দীর্ঘজীবী হয়েছিল। অনেক দিন পর বাঘার মৃত্যু হলে তাকে গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়া হয়। ভাঁটার সময় বাঘার দেহ আবার মঠের সীমানায় ফিরে আসে। এর জন্য বাঘাকেও মঠে সমাধিস্থ করা হয়।
কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অতি আদরের পোষ্য ছিল ‘ভেলো’। এই ভেলোকে লেখক সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। হাওড়ার বাজে শিবপুরের বাড়িতে ভেলোকে নিয়ে থাকতেন শরৎচন্দ্র। ‘যমুনা’ অফিসে ভেলোকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন লেখক। ভেলোকে সেখানে কাটলেট খাওয়ানো হত। শুধু ভেলোকে নয়, সমস্ত পথকুকুরদের প্রতি অতিরিক্ত মায়া ছিল কথাশিল্পীর। কাশীতে বেড়াতে গিয়ে ব্রাহ্মণভোজনের বদলে কয়েক হাজার লুচি আর বোঁদে পথ কুকুরদের খাইয়েছিলেন। এক ধনী গৃহে নিমন্ত্রণে গিয়ে প্রচুর ভালো খাবার তিনি কুকুরদের খাইয়েছিলেন। হয়ত সেই ধনী ব্যক্তি খুব অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। ভেলো মারা যাবার পর তার সমাধির পাশে বসে লেখক কাঁদতেন। মানুষ ও পশুর মধ্যে সম্পর্ক কতটা গভীর হতে পারে লেখক তাঁর মহেশ গল্পেই বুঝিয়ে দিয়েছেন।

একটি কালো বিড়াল। নাম তার গিনেস। লন্ডনের ৩০ তলার অ্যাপার্টমেন্টে তার বাস। কাচের জানলা পরিষ্কার করতে আসত স্টিফেন। স্টিফেন এলেই গিনেস লাফিয়ে কাচের জানলার ওপাশ থেকে খেলা করত। স্টিফেনের স্কুইজি তাড়া করত। জানলায় থাবা মারত। স্টিফেনও নানারকম মুখভঙ্গি করত। কাচে বিড়ালের মুখ এঁকে দিত। প্রতি সপ্তাহে ওদের দুজনের খেলার সময় ছিল ১০ মিনিট।
অনেকেই বলেন বিড়াল খুব স্বার্থপর প্রাণী। কুকুরের মতো বিশ্বাসী নয়। তাঁরা কতটুকু ঠিক বলেন জানি না। তবে এক মঙ্গলবার থেকে স্টিফেন আর জানলা পরিষ্কার করতে এল না। গিনেস অস্থির হয়ে উঠল। অন্য একজন লোক জানলা পরিষ্কার করে চলে গেল। গিনেস মন খারাপ করে রইল। ছ-মাস পরে অসুস্থ স্টিফেন সুস্থ হয়ে আবার কাজে যোগ দিল। স্টিফেন ভেবেছিল গিনেস তাকে চিনতে পারবে না। কিন্তু যেই স্টিফেন জানলার কাচে টোকা দিল, অমনি গিনেস জানলায় ঝাঁপিয়ে পড়ল। ৩০ তলার উপরে দাঁড়িয়ে স্টিফেন কেঁদে ফেলল। সে কাচের উপরে হাত রাখল, গিনেস ও তার থাবা রাখল। বিড়ালের মালিক সেই ছবি তুলে রাখলেন। ছবি অলোকার মতই ভাইরাল হল।
ভাইরাল হওয়া এখন একটা ট্রেন্ড। আমি সেই ট্রেন্ড নিয়ে লিখতে বসিনি। আমি লিখতে বসেছি সমানুভূতি নিয়ে। আমি লিখছি একজন মানুষ ও একজন না-মানুষের মধ্যের এক অন্যরকম যোগাযোগের কথা। কোনও রকম আদিখ্যেতা না করেও এদের প্রতি একটু এমপ্যাথি নিয়ে এগোনোর কথা। পথ কুকুরের বংশবৃদ্ধি সরকারিভাবে রদ করা অসম্ভব তো নয়। পৃথিবীটা শুধু মানুষের জন্য নয় — কথাটা প্রতিটি মানুষের মনে রাখা দরকার বলে মনে করি। কেউ কুকুর বিড়ালকে খাবার দিলেই তাকে সব কুকুর বিড়াল বাড়িতে নিয়ে যেতে হবে একথা যারা বলেন তারাই টিকিট কেটে চিড়িয়াখানায় বাচ্চাদের নিয়ে যান। বান্ধবগড়ে যান বাঘের ছবি তুলতে। ওইটুকুই তাদের আনন্দ। কিন্তু বন জঙ্গল, রাস্তার পাশে ঝোপঝাড়, জলাভূমি সব মানুষ কেড়ে নিচ্ছে ওদের থেকে। তাহলে ওরা যাবে কোথায়? মানুষ ছাড়া আর সব প্রাণী শেষ হলে বাস্তুতন্ত্রে ভারসাম্য থাকবে তো? পরের প্রজন্মের জন্য আমরা একটা সুন্দর বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে পারব তো? ভাবুন একটু।
সুন্দর করে সত্যি কথা
অসাধারণ