দেশের জন্য ফের গর্বের মুহূর্ত। সেই গর্বের মুহূর্ত তৈরি করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। এবার তিনি পেলেন সমাজবিজ্ঞানে স্পেনের সর্বোচ্চ সম্মান। গত কয়েক দশক ধরেই তিনি গোটা বিশ্বের সামনে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন তুলেছেন, সেই প্রশ্ন সকলের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ধারবাহিকভাবে বলে চলেছেন তিনি। তাঁর সেই কাজ অমর্ত্য খুবই প্রাসঙ্গিক। তাঁর যুক্তি হল সামাজিক সমৃদ্ধি শুধু অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে নয়, উন্নয়নের সুযোগের ক্ষেত্রে বিশেষত দুর্বলদের ক্ষেত্রেও পরিমাপ করা উচিত।
স্পেনের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘প্রিন্সেস অব অস্টুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। বৃহস্পতিবার তাকে এই সম্মানে ভূষিত করে স্প্যানিশ প্রাইজ ফাউন্ডেশন। প্রিন্সেস অব অস্টুরিয়াস ফাউন্ডেশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিশ্বের মোট ২০টি দেশের ৪১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্য থেকে অমর্ত্য সেনকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে এই পুরস্কার দেওয়ার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, উদারনৈতিক রাজনীতিতে অবদান রাখার জন্য ১৯৯৮ সালে অমর্ত্য সেনকে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে ব্যাংক অফ সুইডেন পুরস্কার যা অর্থনীতির নোবেল পুরস্কার হিসেবে পরিচিত; তা লাভ করেছবিলেন। তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য মানব উন্নয়ন সূচক আবিষ্কার করেন।
অমর্ত্য সেনই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হয়েও ন্যাশনাল হিউম্যানিটিস মেডেলে ভূষিত হন। গতবছর জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ঐতিহ্যবাহী শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন এই বাঙালি অর্থনীতিবিদ। ১৯৫০ সাল থেকে বিশ্বের বিখ্যাত ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় জার্মান বই প্রকাশক ও ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
অমর্ত্য সেনের নাম মনোনীত করেছিলেন বার্সেলোনায় কাসা এশিয়ার ডিরেক্টর জেনারেল জেভিয়ার প্যারানডো। বিচারকমণ্ডলী করোনার কারণে এবার বিজেতার নাম ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঘোষণা করেন। পুরস্কার হিসাবে তাকে দেওয়া হয়েছে জোয়ান মিরোর একটি মূর্তি, একটি প্রশংসাপত্র ও ৫০ হাজার ইউরো।বলা হয়, দুর্ভিক্ষের ওপর অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের গবেষণা এবং তার থিওরি অব হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট জনহিতকর।