আমফানের ক্ষতিগ্রস্তদের থেকেই এবার টাকা ফেরত চেয়ে চিঠি পাঠাল প্রশাসন, কি করে টাকা ফেরত দেবেন বুঝে উঠতে পারছেন না ক্ষতিগ্রস্থরা।
২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণি ঝড় আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল চাষের জমি থেকে ঘরবাড়ি। সেই ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেছিল রাজ্য সরকার। সে সময় আমফানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ নয় ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল।
এবার সেই পুরনো স্মৃতিকে উস্কে দিয়ে তারকেশ্বর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করা হলো। ইতিমধ্যেই সেই নির্দেশিকা ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়িতে পৌঁছে গেছে। অনেকে ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি তাদের হাতেই নির্দেশিকা পৌঁছেছে। আর এতেই অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের কাজ নিয়ে।

প্রসঙ্গত ২০২০ সালের ২০ মে সুপার সাইক্লোন আমফানে তছনছ হয়ে গিয়ে ছিল এ রাজ্যের একাধিক জেলা। আমফান পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ দেওয়াকে কেন্দ্র সেই সময় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে শাসক দলের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে। পাকা বাড়ি থাকা সত্বেও আমফান ক্ষতিপূরণ প্রাপকদের তালিকায় নাম দেখা গিয়েছিল তৃণমূল নেতাদের আত্মীয় দের। আমফান ক্ষতিপূরনে দুর্নীতির অভিযোগে হুগলির চন্ডিতলায় এক পঞ্চায়েত প্রধানকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল সেই সময়। অন্যদিকে সেই সময় আমফানে ক্ষতিপূরনের টাকা দেওয়া কে কেন্দ্র করে যখন ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তখন ক্ষতি হয়নি অথচ টাকা পেয়েছিলেন তারা অনেকেই সেই টাকা ফেরৎ দেওয়ার জন্য আবেদনও করেন প্রশাসনের কাছে, ফলে স্বজন পোষণের যে অভিযোগ উঠেছিল তা প্রকাশ্যে চলে আসে। এবার সেই আমফানকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে শোরগোল।
গত কয়েক দিন ধরে তারকেশ্বর ব্লকের একাধিক আমফানের ক্ষতিপূরণ প্রাপকদের কাছে এই মর্মে নোটিশ দেওয়া হয়েছে যে, ক্ষতি পূরণের টাকা দু-বার করে পাঠানো হয়েছে প্রাপকদের। অর্থাৎ যারা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত তারা পাঁচ হাজার টাকা প্রাপ্য, কিন্তু তাদের একাউন্টে দুবারে চলে গেছে দশ হাজার টাকা এবং সেই অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা নিদিষ্ট একটি একাউন্টে ফেরৎ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারকেশ্বর ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে।

নোটিশ পেয়ে সমস্যায় পড়েছেন তারকেশ্বরের চাঁপাডাঙ্গা পঞ্চায়েত এলাকার বেশ কিছু দারিদ্র পরিবার। নুন আনতে পান্তা ফুরায় এই রকম পরিস্থিতিতে কিভাবে এত গুলো টাকা ফেরত দেবেন কুলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। তাদের দাবি সেই সময় যে টাকা দেওয়া হয়েছিল তা সরকারি আধিকারিকরা পরিদর্শন করার পর। অর্থাৎ তারা আমফানে প্রকৃতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।
অন্য দিকে যে পরিমান টাকা তাদের দেওয়া হয়েছিল তাতে করে বাড়ি মেরামত করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি প্রাপকদের। ২০২০ সালের আগস্ট মাসে ক্ষতি পূরণের টাকা পেয়েছিলেন তারা।
প্রায় দেড় বছর কেটে যাওয়ার পর টাকা ফেরৎ কেন কিছুই বুঝে উঠতে না পেরে দিশেহারা হয়েছেন অনেকেই।
দেড় বছর পর তারকেশ্বর ব্লকে আমফান ক্ষতিপূরণ প্রাপক দের টাকা ফেরতের নির্দেশিকা নিয়ে জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল।

বিজেপির দাবি তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতি ঢাকতে এই টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। রাজ্য বিজেপির সাধরণ সম্পাদক বিমান ঘোষ বলেন সেই সময় আমফান দুর্নীতিতে যুক্ত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল বিজেপি। এখন মানুষ কে জবাব দেওয়ার জন্য এই প্রক্রিয়া।
তৃণমূলের দাবি প্রশাসন প্রশাসনের কাজ করছে এখনো কোনো রাজনীতি নেই। কেন্দ্রের ভুরি ভুরি দুর্নীতির যাতে প্রকাশ না পায় তার জন্য এই সব প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে বিজেপি।
যদিও তারকেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ফিরদৌস পারভীন জানান আমফানে ক্ষতিপূরণ হিসাবে কিছু কিছু ব্যক্তির কাছে দু-বার টাকা চলে যাওয়ায় সেই টাকা ফেরৎ দেওয়ার জন্য প্রাপকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে কারো সমস্যা থাকলে ব্লক প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।