আমিরুল ইসলাম। একদিকে তিনি সামশেরগঞ্জের বিধায়ক, আবার মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি। করোনা মোকাবিলায় রাত-দিন এক করে তিনি মানুষের পাশে থেকে কাজ করে চলেছেন। সামশেরগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় শিক্ষার হার কম। তাই সেইসব মানুষকে করোনা সতর্কতার বিধিনিষেধ, লকডাউনের গুরুত্ব এ সব বোঝানো খুব কঠিন। আমিরুল তাই প্রথম থেকেই জোর দেন জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজে। কখনও হেঁটে, কখনও অটো বা টুকটুকে চড়ে মাইক হাতে প্রচার করেছেন। বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা শুনে ঘরে থাকুন। আপনাদের পাশে দিদি আছে, দিদির সৈনিক হিসেবে আমরা আছি। বাজারে, রেশন দোকানে ঘুরে ঘুরে প্রচার করেছেন।

নিজে ২০ হাজার মাস্ক বিলি করেছেন। ভিড় এড়াতে বাজার সরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন ফাঁকা জায়গায়। রেশন দোকান নিয়েও অভিযোগ নেই। আমিরুল বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল জানালেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে ঘরে ঘরে বিড়ি বাঁধার কাজ শুরু হয়েছে। সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেনে কাজ করে সকলেই উপকৃত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর নেওয়া মানবিক সিদ্ধান্তে। এদিনও সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন আমিরুল। সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবেও ১০ হাজার গরিব পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকার সদস্যরাও এমন ব্যবস্থা করেছেন। সবমিলিয়ে লকডাউনে অসুবিধায় পড়া প্রায় ২০ হাজার মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন আমিরুল। যে কোনও প্রয়োজনে মানুষের পাশে থাকছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন সাধ্যমতো। সামশেরগঞ্জের যাঁরা বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে আটকে ছিলেন তাঁদের গাড়ি পাঠিয়ে জেলায় ফিরিয়ে এনে কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করেছেন।

তাঁদের অনেকেই ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থেকে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। কারও দেহে করোনা সংক্রমণ মেলেনি। সামগ্রিকভাবে জেলার অবস্থাও স্থিতিশীল। আমিরুল জানালেন, আমার বিধানসভা এলাকা-সহ এই জেলার অনেক পরিযায়ী শ্রমিক কেরল, হায়দরাবাদ, মহারাষ্ট্র, অসম, মণিপুর, দিল্লি-সহ ভিনরাজ্যে আটকে পড়েছেন। অনেকে আমাকে ফোন করেছেন, আমি নিজেও তাঁদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এমন তিন হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের হাতখরচ আমার সাধ্যমতো তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফেলেছি। এই জেলার মানুষ সরকারের নির্দেশিকা মেনেই থাকছেন, তাই উদ্বেগ নেই, নেই আত্মতুষ্টিও।