| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

অমৃতা প্রীতম-এর ছোটগল্প ‘মাকড়সা’ অনুবাদ : মনোজিৎকুমার দাস

Reporter
অমৃতা প্রীতম / ৬৭১ জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২২

যৌবনের উন্মাদনা আর শরীরের তপ্ত আগুনের শিখা কিশোরের ঠোঁটে ফুটে উঠছিল।

আর এই ঠোঁট দিয়ে বিয়ের প্রথম রাতে যখন সে তার স্ত্রীর শরীর স্পর্শ করেছিল, তখন তার মনে হয়েছিল সে একটা কাঁচা শালগম খাচ্ছে।

কিশোরের বাবা পুরো প্রাসাদটিকে বৈদ্যুতিক আলো দিয়ে সাজিয়েছিল, তবে কিশোরের শোবার ঘরটিকে বাকি প্রাসাদের থেকে অনন্য চেহারা দেওয়ার জন্য কিশোরের বোন ও ভগ্নিপতি সহ তার বন্ধুদের স্ত্রীরাও সম্পৃক্ত ছিল। কিশোরের বন্ধুরা ফুলসজ্জার ঘর সাজাতে বেছে নিয়েছিল মোমবাতি।

মোমবাতির আলোয় কিশোর তার স্ত্রীর মুখের দিকে তাকাল। স্ত্রীর ফর্সা মুখে হাসি ফুটেছে।

তারপর কিশোর মোমবাতির আলোর দিকে তাকাল, মোমবাতির গলা বেয়ে গলে যাওয়া মোমের অশ্রু যেন বয়ে যাচ্ছে।

আর কিশোরের মনে হল বউকে নাড়া দিয়ে বলা উচিত এই দেখে এই মোমবাতির কান্না তোমার এক হাসির মূল্য দিচ্ছে।

দাঁতের নিচে জিভ চেপে ধরল কিশোর তার স্ত্রীর ঠোঁটে।

তার মনে হল এখন তার স্ত্রী উচ্চস্বরে হেসে বলবে, “আজ আমি এই প্রাসাদের শোভা দেখলাম।

এক কোণে রেডিও-গ্রাম, অন্য কোণে রেফ্রিজারেটর রাখা। আর এককোণে জামাকাপড় ভর্তি ট্রাঙ্ক এবং চতুর্থ কোণে সুসজ্জিত বিছানা।

কিশোর এক এক করে সব মোমবাতি নিভিয়ে দিল যেন হাত দিয়ে চোখের জল মুছছে। তখন সে অনুভব করল যে এই অন্ধকার তার রুমাল দিয়ে তার স্ত্রীর হাসিকে ঢেকে দিয়েছে।

অনেকক্ষণ পর যখন কিশোরের মনে হলো বাড়ির সবাই তার স্ত্রীর মতো ঘুমিয়ে পড়েছে, তখন সে তার বিছানা থেকে উঠে ধীরে ধীরে ঘরের দরজা খুলে হাভেলির বাগানে চলে গেল।

হাভেলির সর্বত্র বৈদ্যুতিক আলোয় উদ্ভাসিত। আলো সারা রাত এভাবেই থাকতে হবে।

কিশোর মনোযোগ দিয়ে হাতের তালুর দিকে তাকাতে লাগল, তারপর দেখতে দেখতে আমকাদির নামের কিশোরীটির গলায় পরা ব্রেসলেটটার কথা মনে পড়ল।

কিশোরের মনে পড়ল তার নানার কথা। নানাদের গ্রামের আজরা জাতের কথাও মনে পড়ল। আর এই আজরা জাতের মেয়ে আমকাদির কথা মনে ভেসে উঠল।

কিশোর যখন কলেজে পড়ত, একবার মায়ের নির্দেশে, গ্রীষ্মের ছুটিতে সে তার নানার কাছে যায় এবং তারপর পর পর তিন বছর সে তার নানার বাড়িতে ছুটি কাটাতে যায়।

“আমাকাদি- তোমার বাবা-মা তোমার কি নাম রেখেছে?” কিশোর নানার গ্রামের মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করেছিল।

“আমাদের গ্রামে আম হয় প্রচুর। লোকেরা আম দিয়ে আচার করে। চাটনি তৈরি করে এবং আম টুকরো টুকরো শুকিয়ে একটি বয়াম ভর্তি করে – আমার মাও আমাকে আমের টুকরো বলে ভুল করে আমার নাম রেখেছিলেন আমকাদি।” হালকা, পাতলা কালো মেয়েটি কিশোরকে অপাপবিদ্ধ একজন মেয়ের মত জবাব দিল।

প্রথম বছরের পুরো ছুটিটা আমকাদির সঙ্গে হাসি-খেলায় কেটে যায়।

গ্রামে অনেক আমের বাগান, আমকাদিদেরও একটা আম বাগান ছিল।কিশোর সারাদিন ওই আম বাগানে বসে পড়াশুনা করতো আর বিকেলে সেখানে আমন গাছের ছায়ায় খাট বিছিয়ে ঘুমাতো।

দুপুরের গরমে মাটি গরম হলেও কলসির জল ঠাণ্ডা হয়ে যেত।আমকাদি বাগানে তার জন্য একন কলস পানি নিয়ে আসতো। কলসির মুখে একটি চকচকে ব্রোঞ্জের বাটি উল্টে রেখতো।

কিশোরের বারবার পিপাসা লাগত। আম পাহারাদার আমকাদিকে যখন কিশোর জল দিতে বলতো তখন আমকাদি তাকে প্রতিবার বলতো, “কিশোর বাবু, অন্য সময় কি তোমার এমন তৃষ্ণা লাগে?” আর আমকাদির হাসি বেজে উঠত হাতে পরা চুড়ির মতো।

কিশোরের কাছে আমকাদির হাসি আর প্রশ্ন করার ঢংক ভাল লাগতো।

আমকাদি সবুজ রঙের জামা পরতো। জামা ভেদ করে ফুটে ওটা বুকের অংশটা চোখে পড়লে কিশোরের ভালই লাগতো। সবুজ পাতায় ঢাকা বুকটা যেন, কিশোরের মনে হতো।

যেদিন সে তার জামা বদলাতো, কিশোর তাকে সেই সবুজ জামাটার কথা মনে করিয়ে দিত এবং তারপরের দিন আমকাদি সেই সেই সবুজ জামাটা ধুয়ে শুকিয়ে আবার পরতো।

ঠিক এভাবেই প্রথম বছরের ছুটি কেটেছে হাসি-খেলাতে। কিশোর শহরে ফিরে এসেছিল।

সম্ভবত আমকাদি ও কিশোরের মধ্যে প্রথম বছরের মোহময়তা লেগেছিল তা আমকাদি তখনই অনুভব করেছিল যখন পরের বছরের ছুটি হলে কিশোর তার নানা বাড়িতে ফিরে গিয়েছিল।

গাছের ছায়ায় তার জন্য একটি নতুন খাট রাখা হয়েছে এবং খাটের পায়ের কাছে একটি জল ভর্তি কলস রাখা আছে।

সেদিন বিকেলে আমকাদি যখন তার বাগানে এলো, তখন তার পরনে সবুজ জামা, যা ভেদ করে তার পুরুষ্ট স্তনদুটো দৃশ্যমান। হাতে একই রঙের কাঁচের চুড়ি।

এবাবের ছুটির দিনে আমাকদির জন্য কিশোরের মনে যেন জৈবিক ক্ষুধা জেগে ওঠে। এই ক্ষুধায় তারিত হয়ে একদিন কিশোর আমকাদির বাহু জড়িয়ে ধরে।

আমকাদি বাহু ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, “কিশোর বাবু! আমের এক ফালি খাওয়ার পর কীভাবে ভালো হবেন?

আজ আপনি আমের স্বাদ নেবেন এবং পরে আপনি আঁটিকে খোসার মতো ফেলে দেবেন। আমাকদি মুখ ঢেকে রেখেছিল আর কিশোরের মুখ যৌন ক্ষুধার জ্বালায় কাতর হচ্ছিল।

সেদিন সন্ধ্যার মৃদু শীতে আমকাদি তার গলায় কালো মাফলার পরেছিল । গায়ে জাম্পার, পুরো বুক সাদা ঝিনুকের বোতামে ঢাকা ছিল।

আমকাদির কানে ছিল রূপার দুল, আর হাতে কাঁচের চুড়ি, আমকাদি এখানে দাঁড়িয়ে ছিল। সেদিন কিশোর প্রথমবারের মতো চিন্তা করলো, গ্রামের মেয়েদের মেকআপ আর শহরের শিক্ষিত মেয়েদের মেকআপের পার্থক্য।

সেদিনের পর থেকে কিশোর তার শহরের এবং কলেজের সব মেয়েকে কোট-হ্যাঙ্গারের মতো দেখতে শুরু করে, সেই হ্যাঙ্গারে কেউ বিভিন্ন ফ্যাশনের কাপড় সেলাই করে ঝুলিয়ে দেয়।

তখন কিশোরের মনের সুগন্ধি আর আমাকদির মনের সুবাস গ্রাম থেকে উড়ে শহরে পৌঁছেছিল।কিশোরের বাবা বিষয়টি জানতে পেরে কিশোরের মাকে পাশে বসিয়ে বললেন, একবার কেউ প্রেমের কূপে পড়ে,তাহলে তাকে কেউ টেনে তুলতে পারবে না।আমরা ছেলেকে এভাবে হারাতে পারি না । তাড়াতাড়ি ছেলের গলায় বিয়ের দড়িটা লাগিয়ে কূপ থেকে বের কর। ”

বাবা-মা সাঁতারুদের মতো কূপে নেমে এসে বেঁধে কিশোরকে এই কূপ থেকে টেনে তুলল।

আজ বিয়ের প্রথম রাত আর কিশোরের আমাকদির কথা মনে পড়ছিল যেন কুয়োর ধারে দাঁড়িয়ে কুয়োর দিকে তাকিয়ে আছে। এখন সে জানতো, সে চাইলেই ফিরে এসে এই কূপে পড়ে যেতে পারবে না, কারণ এখন তার বিয়ের দড়ি তার গলায় বাঁধা।

রাত বোধহয় শেষ হয়ে এসেছে। প্রাসাদের আলো একে একে নিভে যাচ্ছিল। আর কিশোরের মনে হল, আমকাদির গলায় পরা কুর্তি থেকে কেউ একটা একটা করে ঝিনুকের বোতাম খুলে ফেলছে।

ভোরবেলা, রাত জেগে কিশোরের বোন ও ফুফুরা যখন কিশোরের লাল চোখ দেখে, তখন তারা কিশোরকে উত্যক্ত করতে শুরু করে, যে দুবার হাসছিল, “সে তোমার বৌ, সে কোথাও পালিয়ে যায়নি।”

কিশোর ভাবল, “মনে মনে ঠিক করেছিলাম আমি মানুষ নই, আমি ষাঁড়। সারাজীবন আমি চুপচাপ শালগম চিবাব, আর চোখ বেঁধে সেখানেই ঘুরব যেখানে আমার স্ত্রী আমাকে ঘোরাফেরা করবে। যে কারণে কিশোর তার স্ত্রীর কাছ থেকে কখনো মুখ ফিরিয়ে নেয়নি।

তারপর কয়েকদিন পর কিশোরের মনে হলো তার সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঘুমিয়ে যাচ্ছে।তার রক্ত ঠান্ডা হয়ে আসছিল। তার ভাবনাগুলো অসাড় হয়ে যাচ্ছিল। সবাই কিশোরের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত। একজন ডাক্তার আসে আর একজন যায়।

তারপর একটা ঘটনা ঘটল।কিশোরের নানীর কাছ থেকে একটি চিঠি এলো। চিঠিতে লেখা কিশোর সম্ভবত গ্রামের খোলা হাওয়া পছন্দ করবে।

কিশোর চিঠিটা পড়ল, কিন্তু তার অসাড় অঙ্গে কোনো নড়াচড়া নেই। কিন্তু সেই রাতে কিশোর স্বপ্ন দেখলো। স্বপ্নে আম গাছের নিচে তার খাট, খাটের পায়ের কাছে একটি খালি কলসি রাখা। পিতলের বাটিটি কলসির উপর উল্টো করে রাখ।

বাটি তার হাত থেকে পড়ে গেল এবং আমকাদি কোকিল হয়ে তার কাছ থেকে উড়ে এলো।

আতঙ্কিত হয়ে কিশোর বিছানায় উঠে বসল। তার মনে হল এই মুহুর্তে যদি সে এই ঘরটি ছেড়ে না যায় তবে সে জমে যাবে।

স্বপ্বটা দেখে কিশোর স্টেশনের দিকে হাঁটা দিল। যে দিক থেকে কোকিলের ডাক আসছে সেদিকে সে যেতে লাগলো।

দ্বিতীয় দিন বিকেলে কিশোর যখন আমের বাগানে পৌঁছায়, তখন ঘটনাস্থলে একটি খাট রাখা হয়েছিল যা তার জন্য পুরো তিন বছর ধরে রাখা ছিল। কিশোরের পা জমে গেল, “আমার এই বিছানায় আজ কে শুয়ে আছে?”

আর তখন যে খাটের উপর শুয়ে ছিল সে পাশ পাল্টে কিশোরের কানে চুড়ি বাজল। কিশোর এগিয়ে গিয়ে আমকাদির পা ছুঁয়ে দিল এবং আমাকাদি হতভম্ব হয়ে পা সরিয়ে নিলে কিশোর দেখল আমকাদি আর আমের টুকরো নয়, আমের খোসা।

“কিশোর বাবু…” কোকিলের মতো আমাকদি বলল।

কিশোর হাঁটু গেড়ে খাটে মাথা রাখল।

“এখন এখানে এসেছেন কেন?” আমাকদি কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞেস করল।

“আমি হিমায়িত পৃথিবীতে। তপ্ত রোদের খোঁজে এসেছি।” খাট থেকে মাথা তুলে কিশোর কাঁপা কাঁপা হাতে আমকাদির হাতটা নিয়ে বলল, “আফটার অল আমি তো মানুষ।

“একজন মানুষ, একজন মানুষ।” মৃদুস্বরে বলল আমাকদি।

“একজন মানুষ, একজন মানুষ।” কিশোর আমাকদির কথার পুনরাবৃত্তি করল।

“যে প্রেমের আসন থেকে উঠে বিয়ের বেদিতে বসে, সে কি মানুষ? সে কি মানুষ? আর আমাকদি পশুর মত কিশোরের বাহুতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার সব দাঁত ফুটিয়ে দিল।

কিশোর তার বাহুতে রক্তের দিকে তাকাল এবং ক্লান্তি বোধ করলো।

কিশোর মাকড়সা মতো বালিশে মাথা রেখে বলতে লাগল, “এটা ডালিম ফুল নয়, বিষ ফুল। তুমি আমাকে বুনো বিড়াল, হালকা বিড়াল বলে ডাকতে…”

“আমি সত্যিই তোমার কোমল ঠোঁটে বিষ খেয়েছি, আমকাদি! এই পৃথিবীতে আমার কোনো ওষুধ নেই। যন্ত্রণায় বলল কিশোর। “যদি একটি ছোট প্রাণী কামড়ালেও তুমি জান,ভ্যাকসিন নিতে হয়। ”

কিশোরের কথা শুনে আমাকদি বলল,”এখন আপনার কাছে একটি মাত্র ভ্যাকসিন আছে। আপনার এখন একটাই বিয়ে হয়েছে, তাই না? অন্তত চৌদ্দটা করেন।”

আমাকদির চোখ ছলছল করে উঠল। কিশোরের স্বপ্ব ভেঙে গেল।

যৌবনের উদ্মাদনা আর শরীরের তপ্ত আগুনের শিখা কিশোরের ঠোঁটে ফুটে উঠছিল।

আর এই ঠোঁট দিয়ে বিয়ের প্রথম রাতে যখন সে তার স্ত্রীর শরীর স্পর্শ করেছিল, তখন তার মনে হয়েছিল সে একটা কাঁচা শালগম খাচ্ছে।

কিশোরের বাবা পুরো প্রাসাদটিকে বৈদ্যুতিক আলো দিয়ে সাজিয়েছিল, তবে কিশোরের শোবার ঘরটিকে বাকি প্রাসাদের থেকে অনন্য চেহারা দেওয়ার জন্য কিশোরের বোন ও ভগ্নিপতি সহ তার বন্ধুদের স্ত্রীরাও সম্পৃক্ত ছিল। কিশোরের বন্ধুরা ফুলসজ্জার ঘর সাজাতে বেছে নিয়েছিল মোমবাতি।

মোমবাতির আলোয় কিশোর তার স্ত্রীর মুখের দিকে তাকাল। স্ত্রীর ফর্সা মুখে হাসি ফুটেছে।

তারপর কিশোর মোমবাতির আলোর দিকে তাকাল, মোমবাতির গলা বেয়ে গলে যাওয়া মোমের অশ্রু যেন বয়ে যাচ্ছে।

আর কিশোরের মনে হল বউকে নাড়া দিয়ে বলা উচিত এই দেখে এই মোমবাতির কান্না তোমার এক হাসির মূল্য দিচ্ছে।

দাঁতের নিচে জিভ চেপে ধরল কিশোর তার স্ত্রীর ঠোঁটে।

তার মনে হল এখন তার স্ত্রী উচ্চস্বরে হেসে বলবে, “আজ আমি এই প্রাসাদের শোভা দেখলাম।

এক কোণে রেডিও-গ্রাম, অন্য কোণে রেফ্রিজারেটর রাখা। আর এককোণে জামাকাপড় ভর্তি ট্রাঙ্ক এবং চতুর্থ কোণে সুসজ্জিত বিছানা।

কিশোর এক এক করে সব মোমবাতি নিভিয়ে দিল যেন হাত দিয়ে চোখের জল মুছছে। তখন সে অনুভব করল যে এই অন্ধকার তার রুমাল দিয়ে তার স্ত্রীর হাসিকে ঢেকে দিয়েছে।

অনেকক্ষণ পর যখন কিশোরের মনে হলো বাড়ির সবাই তার স্ত্রীর মতো ঘুমিয়ে পড়েছে, তখন সে তার বিছানা থেকে উঠে ধীরে ধীরে ঘরের দরজা খুলে হাভেলির বাগানে চলে গেল।

হাভেলির সর্বত্র বৈদ্যুতিক আলোয় উদ্ভাসিত। আলো সারা রাত এভাবেই থাকতে হবে।

কিশোর মনোযোগ দিয়ে হাতের তালুর দিকে তাকাতে লাগল, তারপর দেখতে দেখতে আমকাদির নামের কিশোরীটির গলায় পরা ব্রেসলেটটার কথা মনে পড়ল।

কিশোরের মনে পড়ল তার নানার কথা। নানাদের গ্রামের আজরা জাতের কথাও মনে পড়ল। আর এই আজরা জাতের মেয়ে আমকাদির কথা মনে ভেসে উঠল।

কিশোর যখন কলেজে পড়ত, একবার মায়ের নির্দেশে, গ্রীষ্মের ছুটিতে সে তার নানার কাছে যায় এবং তারপর পর পর তিন বছর সে তার নানার বাড়িতে ছুটি কাটাতে যায়।

“আমাকাদি- তোমার বাবা-মা তোমার কি নাম রেখেছে?” কিশোর নানার গ্রামের মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করেছিল।

“আমাদের গ্রামে আম হয় প্রচুর। লোকেরা আম দিয়ে আচার করে। চাটনি তৈরি করে এবং আম টুকরো টুকরো শুকিয়ে একটি বয়াম ভর্তি করে – আমার মাও আমাকে আমের টুকরো বলে ভুল করে আমার নাম রেখেছিলেন আমকাদি।” হালকা, পাতলা কালো মেয়েটি কিশোরকে অপাপবিদ্ধ একজন মেয়ের মত জবাব দিল।

প্রথম বছরের পুরো ছুটিটা আমকাদির সঙ্গে হাসি-খেলায় কেটে যায়।

গ্রামে অনেক আমের বাগান, আমকাদিদেরও একটা আম বাগান ছিল।কিশোর সারাদিন ওই আম বাগানে বসে পড়াশুনা করতো আর বিকেলে সেখানে আমন গাছের ছায়ায় খাট বিছিয়ে ঘুমাতো।

দুপুরের গরমে মাটি গরম হলেও কলসির জল ঠাণ্ডা হয়ে যেত।আমকাদি বাগানে তার জন্য একন কলস পানি নিয়ে আসতো। কলসির মুখে একটি চকচকে ব্রোঞ্জের বাটি উল্টে রেখতো।

কিশোরের বারবার পিপাসা লাগত। আম পাহারাদার আমকাদিকে যখন কিশোর জল দিতে বলতো তখন আমকাদি তাকে প্রতিবার বলতো, “কিশোর বাবু, অন্য সময় কি তোমার এমন তৃষ্ণা লাগে?” আর আমকাদির হাসি বেজে উঠত হাতে পরা চুড়ির মতো।

কিশোরের কাছে আমকাদির হাসি আর প্রশ্ন করার ঢংক ভাল লাগতো।

আমকাদি সবুজ রঙের জামা পরতো। জামা ভেদ করে ফুটে ওটা বুকের অংশটা চোখে পড়লে কিশোরের ভালই লাগতো। সবুজ পাতায় ঢাকা বুকটা যেন, কিশোরের মনে হতো।

যেদিন সে তার জামা বদলাতো, কিশোর তাকে সেই সবুজ জামাটার কথা মনে করিয়ে দিত এবং তারপরের দিন আমকাদি সেই সেই সবুজ জামাটা ধুয়ে শুকিয়ে আবার পরতো।

ঠিক এভাবেই প্রথম বছরের ছুটি কেটেছে হাসি-খেলাতে। কিশোর শহরে ফিরে এসেছিল।

সম্ভবত আমকাদি ও কিশোরের মধ্যে প্রথম বছরের মোহময়তা লেগেছিল তা আমকাদি তখনই অনুভব করেছিল যখন পরের বছরের ছুটি হলে কিশোর তার নানা বাড়িতে ফিরে গিয়েছিল।

গাছের ছায়ায় তার জন্য একটি নতুন খাট রাখা হয়েছে এবং খাটের পায়ের কাছে একটি জল ভর্তি কলস রাখা আছে।

সেদিন বিকেলে আমকাদি যখন তার বাগানে এলো, তখন তার পরনে সবুজ জামা, যা ভেদ করে তার পুরুষ্ট স্তনদুটো দৃশ্যমান। হাতে একই রঙের কাঁচের চুড়ি।

এবাবের ছুটির দিনে আমাকদির জন্য কিশোরের মনে যেন জৈবিক ক্ষুধা জেগে ওঠে। এই ক্ষুধায় তারিত হয়ে একদিন কিশোর আমকাদির বাহু জড়িয়ে ধরে।

আমকাদি বাহু ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, “কিশোর বাবু! আমের এক ফালি খাওয়ার পর কীভাবে ভালো হবেন?

আজ আপনি আমের স্বাদ নেবেন এবং পরে আপনি আঁটিকে খোসার মতো ফেলে দেবেন। আমাকদি মুখ ঢেকে রেখেছিল আর কিশোরের মুখ যৌন ক্ষুধার জ্বালায় কাতর হচ্ছিল।

সেদিন সন্ধ্যার মৃদু শীতে আমকাদি তার গলায় কালো মাফলার পরেছিল । গায়ে জাম্পার, পুরো বুক সাদা ঝিনুকের বোতামে ঢাকা ছিল।

আমকাদির কানে ছিল রূপার দুল, আর হাতে কাঁচের চুড়ি, আমকাদি এখানে দাঁড়িয়ে ছিল। সেদিন কিশোর প্রথমবারের মতো চিন্তা করলো, গ্রামের মেয়েদের মেকআপ আর শহরের শিক্ষিত মেয়েদের মেকআপের পার্থক্য।

সেদিনের পর থেকে কিশোর তার শহরের এবং কলেজের সব মেয়েকে কোট-হ্যাঙ্গারের মতো দেখতে শুরু করে, সেই হ্যাঙ্গারে কেউ বিভিন্ন ফ্যাশনের কাপড় সেলাই করে ঝুলিয়ে দেয়।

তখন কিশোরের মনের এই সুগন্ধি আর আমাকদির মনের এই সুবাস গ্রাম থেকে উড়ে শহরে পৌঁছেছিল।কিশোরের বাবা বিষয়টি জানতে পেরে কিশোরের মাকে পাশে বসিয়ে বললেন ”, একবার কেউ প্রেমের কূপে পড়ে,তাহলে তাকে কেউ টেনে তুলতে পারবে না।আমরা ছেলেকে এভাবে হারাতে পারি না । তাড়াতাড়ি ছেলের গলায় বিয়ের দড়িটা লাগিয়ে কূপ থেকে বের কর। ”

বাবা-মা সাঁতারুদের মতো কূপে নেমে এসে বেঁধে কিশোরকে এই কূপ থেকে টেনে তুলল।

আজ বিয়ের প্রথম রাত আর কিশোরের আমাকদির কথা মনে পড়ছিল যেন কুয়োর ধারে দাঁড়িয়ে কুয়োর দিকে তাকিয়ে আছে। এখন সে জানতো, সে চাইলেই ফিরে এসে এই কূপে পড়ে যেতে পারবে না, কারণ এখন তার বিয়ের দড়ি তার গলায় বাঁধা।

রাত বোধহয় শেষ হয়ে এসেছে। প্রাসাদের আলো একে একে নিভে যাচ্ছিল। আর কিশোরের মনে হল, আমকাদির গলায় পরা কুর্তি থেকে কেউ একটা একটা করে ঝিনুকের বোতাম খুলে ফেলছে।

ভোরবেলা, রাত জেগে কিশোরের বোন ও ফুফুরা যখন কিশোরের লাল চোখ দেখে, তখন তারা কিশোরকে উত্যক্ত করতে শুরু করে, যে দুবার হাসছিল, “সে তোমার বৌ, সে কোথাও পালিয়ে যায়নি। ”

কিশোর ভাবল, “মনে মনে ঠিক করেছিলাম আমি মানুষ নই, আমি ষাঁড়। সারাজীবন আমি চুপচাপ শালগম চিবাব, আর চোখ বেঁধে সেখানেই ঘুরব যেখানে আমার স্ত্রী আমাকে ঘোরাফেরা করবে। যে কারণে কিশোর তার স্ত্রীর কাছ থেকে কখনো মুখ ফিরিয়ে নেয়নি।

তারপর কয়েকদিন পর কিশোরের মনে হলো তার সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঘুমিয়ে যাচ্ছে।তার রক্ত ​​ঠান্ডা হয়ে আসছিল। তার ভাবনাগুলো অসাড় হয়ে যাচ্ছিল। সবাই কিশোরের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত। একজন ডাক্তার আসে আর একজন যায়।

তারপর একটা ঘটনা ঘটল।কিশোরের নানীর কাছ থেকে একটি চিঠি এলো। চিঠিতে লেখা কিশোর সম্ভবত গ্রামের খোলা হাওয়া পছন্দ করবে।

কিশোর চিঠিটা পড়ল, কিন্তু তার অসাড় অঙ্গে কোনো নড়াচড়া নেই। কিন্তু সেই রাতে কিশোর স্বপ্ন দেখলো। স্বপ্নে আম গাছের নিচে তার খাট, খাটের পায়ের কাছে একটি খালি কলসি রাখা। পিতলের বাটিটি কলসির উপর উল্টো করে রাখ।

বাটি তার হাত থেকে পড়ে গেল এবং আমকাদি কোকিল হয়ে তার কাছ থেকে উড়ে এলো।

আতঙ্কিত হয়ে কিশোর বিছানায় উঠে বসল। তার মনে হল এই মুহুর্তে যদি সে এই ঘরটি ছেড়ে না যায় তবে সে জমে যাবে।

স্বপ্নটা দেখে কিশোর স্টেশনের দিকে হাঁটা দিল। যে দিক থেকে কোকিলের ডাক আসছে সেদিকে সে যেতে লাগলো।

দ্বিতীয় দিন বিকেলে কিশোর যখন আমের বাগানে পৌঁছায়, তখন ঘটনাস্থলে একটি খাট রাখা হয়েছিল যা তার জন্য পুরো তিন বছর ধরে রাখা ছিল। কিশোরের পা জমে গেল, “আমার এই বিছানায় আজ কে শুয়ে আছে?”

আর তখন যে খাটের উপর শুয়ে ছিল সে পাশ পাল্টে কিশোরের কানে চুড়ি বাজল। কিশোর এগিয়ে গিয়ে আমকাদির পা ছুঁয়ে দিল এবং আমাকাদি হতভম্ব হয়ে পা সরিয়ে নিলে কিশোর দেখল আমকাদি আর আমের টুকরো নয়, আমের খোসা।

“কিশোর বাবু…” কোকিলের মতো আমাকদি বলল।

কিশোর হাঁটু গেড়ে খাটে মাথা রাখল।

“এখন এখানে এসেছেন কেন?” আমাকদি কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞেস করল।

“আমি হিমায়িত পৃথিবীতে। তপ্ত রোদের খোঁজে এসেছি।” খাট থেকে মাথা তুলে কিশোর কাঁপা কাঁপা হাতে আমকাদির হাতটা নিয়ে বলল, “আফটার অল আমি তো মানুষ।

“একজন মানুষ, একজন মানুষ।” মৃদুস্বরে বলল আমাকদি।

“একজন মানুষ, একজন মানুষ।” কিশোর আমাকদির কথার পুনরাবৃত্তি করল।

“যে প্রেমের আসন থেকে উঠে বিয়ের বেদিতে বসে, সে কি মানুষ? সে কি মানুষ? আর আমাকদি পশুর মত কিশোরের বাহুতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার সব দাঁত ফুটিয়ে দিল।

কিশোর তার বাহুতে রক্তের দিকে তাকাল এবং ক্লান্তি বোধ করলো।

কিশোর মাকড়সা মতো বালিশে মাথা রেখে বলতে লাগল, “এটা ডালিম ফুল নয়, বিষ ফুল। তুমি আমাকে বুনো বিড়াল, হালকা বিড়াল বলে ডাকতে…”

“আমি সত্যিই তোমার কোমল ঠোঁটে বিষ খেয়েছি, আমকাদি! এই পৃথিবীতে আমার কোনো ওষুধ নেই। যন্ত্রণায় বলল কিশোর। “যদি একটি ছোট প্রাণী কামড়ালেও তুমি জান,ভ্যাকসিন নিতে হয়। ”

কিশোরের কথা শুনে আমাকদি বলল,”এখন আপনার কাছে একটি মাত্র ভ্যাকসিন আছে। আপনার এখন একটাই বিয়ে হয়েছে, তাই না? অন্তত চৌদ্দটা করেন।”

আমাকদির চোখ ছলছল করে উঠল। কিশোরের স্বপ্ব ভেঙে গেল।

লেখক পরিচিতি : অমৃতা প্রীতম ( ১৯১৯ – ২০০৫ ) পাজ্ঞাবী তথা ভারতীয় সাহিত্যের অন্যতমা মহিলা কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক। তাঁর লেখা বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম আজ এখন ওয়ারিস শাহ নু . যা পাঞ্জাবের লোককাহিনীর উপর ভিত্তি করে লেখা। তাঁর লেখা বিখ্যাত উপন্যাসের নাম পিঞ্জর। নারীবাদী লেখিকা হিসাবে তিনি বিশেষ ভাবে খ্যাত। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাব্য, উপন্যাস ছোটগল্পের রচয়িতা হিসাবে বিশ্বসাহিত্যাঙ্গনে তিনি সমধিক পরিচিত। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ইংরেজি-সহ বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছে। তিনি সুনেহে কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্য একাডেমী পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়াও তিনি তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য একাধিক পুরস্কার লাভ করেন। প্রাপ্ত পুরস্কারের মধ্যে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার অন্যতম। ১৯৬৯ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী এবং ২০০৪ সালে পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়। একই সালে তিনি ভারতীয় সাহিত্য অ্যাকাডেমীর ফেলো মনোনীত হন। ২০০৫ সালের ৩১ অক্টোবর লোকান্তরিত হন। হিন্দীভাষায় লেখা তার अमृता प्रीतम की अमाकड़ी || Amrita Pritam’s Amakadi গল্পটিকে বঙ্গানুবাদ করা হলো।

মনোজিৎকুমার দাস, অনুবাদক ও গল্পকার, লাঙ্গলবাঁধ, মাগুরা, বাংলাদেশ।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev