দেবাশীষ ভট্টাচার্য। একসময় অতি বাম রাজনীতির সক্রিয় সমর্থক। আমার চেয়ে বছর কয়েকের বড় ছিলেন বয়সে। কিন্তু যখনই দেখা হত, কথা হত, বন্ধুর মত সহজেই মিশে যেতেন। রাজনীতির প্রবহমান ঘটনাবলীর বিস্তারিত বিবরণের ধারাভাষ্য দেবাশীষ দা-র মত আর কাউকে বলতে, লিখতে শুনিনি/দেখিনি। বিভিন্ন আলোচনা সভায়, টিভি-র টক্ শো-তে দেখা হত। খেই হারিয়ে ফেললে নীচুস্বরে সূত্র ধরিয়ে দিতেন। এপিডিআর-এর নেতা হিসেবে বন্দীমুক্তি ও মানবাধিকার রক্ষার সংগ্রামে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। সিঙুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনে দেবাশীষ দা মমতা ব্যানার্জির পাশে দাঁড়ান।রণকৌশল তৈরিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। অন্যান্য বামপন্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করেন নীরবে। সম্ভবত তাঁর নির্মোহ সদাশয়তার জন্যই মমতা ব্যানার্জি প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েই তাঁকে আপ্ত সহায়ক নিয়োগ করেন। জীবনদীপ নিয়ে যাওয়ার কিছুদিন আগে পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। টিভি শো-তে তাঁর অনবদ্য, তথ্যসমৃদ্ধ নির্বাচনী বিশ্লেষণ সবাইকে আকৃষ্ট ও মুগ্ধ করত। দেবাশীষ দা নেই- একথা জানার পর থেকে আমার চারপাশ এক গভীর শূণ্যতায় ডুবে গেল। সত্তরের দশক থেকে তাঁকে চিনতাম, জানতাম। তাঁর চলে যাওয়ার সাথে সাথে চলমান এক তথ্যভান্ডারও হারিয়ে গেল। তাঁর মহান আত্মার চিরশান্তি কামনা করি। ওম্ শান্তি॥