মঙ্গলবার চুঁচুড়ার রবীন্দ্রভবনে হুগলি জেলা পরিষদের বার্ষিক সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হল। এক মনোজ্ঞ পরিবেশে জিলা সংসদ অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি আলহাজ সেখ মেহেবুব রহমান। তিনি সভার সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে সভার কাজ শুরু করেন। এরপর তিনি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মোতাবেক এ্যাকশন প্ল্যান (Action plan) অনুযায়ী কাজগুলো কীভাবে দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হবে তা ব্যাখ্যা করেন।

আগামী ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে। আলহাজ সেখ মেহেবুব রহমান আরও বলেন, পঞ্চায়েত সমিতি বা গ্রাম পঞ্চায়েতের কোনও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা কাজ থাকলে তা জেলা পরিষদে জানাতে হবে। প্রয়োজনে জেলা থেকে আধিকারিকরা গিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি পরিদর্শন করে কাজ তুলে আনবেন। ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় সকলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। কোথাও সমস্যা হলে জেলায় জানাতে হবে। সেই কাজ জেলা থেকে সমস্যার সমাধান না করা গেলে মন্ত্রী পর্যায়ে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

হুগলি জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া জানান, উন্নয়নের কাজ থামিয়ে রাখা যাবে না। বাকি কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। কোনও কাজ ফেলে রাখা যাবে না। সভায় উপস্থিত জেলা পরিষদের অতিরিক্ত নির্বাহী আধিকারিক শান্তনু বালা বলেন, জেলার বিভিন্ন জায়গায় উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। পানীয় জলসরবরাহ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, এমনকী পর্যটনের দিকটাও দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে। এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখার্জী। তিনি বলেন, জেলার পরিকল্পনা অনুযায়ী জেলাস্তর থেকে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত সকলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে। স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু ব্যানার্জী জানান, ১৬৭ টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরি হবে। গ্রামীন হাসপাতালগুলোর পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ ড. গোপাল রায় সভায় বলেন, বার্ষিক পরিকল্পনায় শিক্ষাবিষয়ক কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। কোন স্কুল বা লাইব্রেরিতে পানীয় জলের সমস্যা থাকলে, বা পাঁচিল না থাকলে কিংবা স্কুল বাড়ির ভগ্নদশা হলে তা দ্রুত জেলায় জানাতে হবে। যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়। কৃষি সেচ কর্মাধ্যক্ষ মনোজ চক্রবর্তী সভায় স্পষ্ট বলেন, সরকারি নির্দেশিকা মেনে দফতরের সমস্ত কাজ করতে হবে। কোনও কাজ ফেলে রাখা যাবে না। সরকার জনস্বাস্থ্যের ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়টি সকলকে মাথায় রাখতেহবে। মুণ্ডেশ্বরী নদী সংস্কার হবে। যে নদীবাঁধগুলো হয়েছে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। এছাড়া আলু, ধান ও বাদাম চাষে সেচের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস জানান, জেলায় শিল্প ও বিদ্যুতের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কোনো জায়গায় সমস্যা থাকলে তা দ্রুত জানাতে হবে। বার্ষিক পরিকল্পনায় বকেয়া সমস্ত কাজ শেষ করা হবে। খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সেখ আব্দুল জব্বার বার্ষিক পরিকল্পনার কাজগুলি তলে ধরেন। যাতে দ্রুত শেষ করা যায় এজন্য পঞ্চায়েত পঞ্চায়েত সমিতিকে এগিয়ে আসার কথা বলেন। বন ওভূমি সংস্কার কর্মিধ্যক্ষ মানিক চন্দ্র দাস সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। কৃষি জমির যাতে ঠিকমতো মিউটেশন হয় সেটা দেখা হবে।তাছাড়া যাতে কৃষকবন্ধুরা সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয় তার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিমা হাঁসদা (মুর্মু) তাঁর বার্ষিক পরিকল্পনায় যেটা জোর দিয়েছেন তা হল শিশু ও নারী কল্যাণের উপর। ম্ৎস্য কর্মাধ্যক্ষ মীজানুর রহমান পঞ্চায়েত থেকে পঞ্চায়েত সমিতি পর্যন্ত যেখানে মৎস্য বিষয়ক সমস্যা আছে তা যোগাযোগ রেখে সমাধান হবে। মূল উদ্দেশ্য উন্নয়ণ।

এছাড়াও এই বার্ষিক সংসদ অধিবেশনে হুগলি জেলা পরিষদের সচিব তাপস বিশ্বাস, পঞ্চায়েত সমিতি ও পঞ্চায়েত প্রধান-রা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।