২০ আগস্ট, ২০২৩- আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্কসার্কাস ক্যাম্পাসে আলিয়া কৃষ্টি সংসদ সংবর্ধনা দিলো তিন সামাজিক দিকপালকে। এছাড়াও বিভিন্ন পত্রিকার ঈদ সংখ্যা প্রকাশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষার উপর একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়। সম্মানপ্রাপকদের মধ্যে ছিলেন ইতিহাসবিদ বিশ্বেন্দু নন্দ, সমাজচিন্তক নাসির আহমেদ ও বিজ্ঞান গবেষক মোঃ মেহেদী কালাম। সংক্ষিপ্ত ভাষণে দীর্ঘদিন ধরে মুসলমান সমাজের বঞ্চনা ও দুর্গতি সম্পর্কে পুস্তিকা প্রকাশ করে এক চলমান আন্দোলনের প্রতীক, নাসির আহমেদ সংসদকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বিজ্ঞান গবেষক কালাম নিউট্রন স্টার বিষয়ে তার গবেষণার কথা সহজবোধ্য ভাষায় তুলে ধরেন, এবং শিক্ষিত মুসলমান সমাজের জন্য কয়েকটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা জানান।
আলিয়া সংসদের পক্ষ থেকে-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংবর্ধনা দেওয়া হবে লেখক, গবেষক, সংগঠক, প্রকাশক এবং উপনিবেশ-বিরোধী চর্চা কর্পোরেট-বিরোধী চর্চার প্রধানতম ‘কারিগর’ বিশ্বেন্দু নন্দকে। উপনিবেশপূর্ব সময়ের সমাজ অর্থনীতিতে কারিগরদের ইতিহাসের খোঁজে তিনি সর্বক্ষণের কর্মী। হকার, কারিগর সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন প্রায় তিন দশক। বাংলায় পরম্পরার উৎপাদন বিক্রেতাদের বিষয়ে লিখেছেন নিরন্তর। বাংলার উপনিবেশপূর্ব সময়ের পরম্পরার চাষী-হকার-কারিগর-ব্যবস্থা বিষয়ে খোঁজ করেছেন। এখানেও তার বক্তব্যে তিনি তার কারিগর অর্থনীতি-রাজনীতির কথা বলেন, বলেন ঔপনিবেশিকতা থেকে নির্মিত ইসলামোফোবিয়ার কথা।তিনি আরো জানান, তার গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৭৭০ (বঙ্গাব্দে ১১৭৬)।

১৭৯৩-এ এল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত যা ঔপনিবেশিক শাসনকে আরও শক্ত কাঠামোর ওপর দাঁড় করাবে – আর ব্রিটিশ শাসকের দালালের ভূমিকা পালন করল নব্য জমিদার শ্রেণী, বেনিয়া শ্রেণী, ভদ্রবিত্ত ইত্যাদিরা। বাংলা লুঠ করা সম্পদের ওপর দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে ইউরোপের শিল্পায়ন হতে দেখা যাবে ১৮-১৯ শতক জুড়ে। ঔপনিবেশিক শাসন টিকে থাকল দু’ভাবে – একদিকে সরাসরি সম্পদ লুঠ আর অন্যদিকে ঔপনিবেশিক মনন গড়ে তোলা যা সেই ব্যবস্থাকে মান্যতা দেয়। ফলে এই শাসকের হাত ধরে গড়ে উঠল ইংরাজি শিক্ষায় শিক্ষিত বাবু সম্প্রদায়। তাই উপনিবেশবাদ বিরোধী চর্চার আঙ্গিনায় আধিপত্য এবং একচেটিয়াকরণের এই প্রক্রিয়াকে উন্মোচন করাও খুব জরুরি।
প্রত্যেক সম্মাননা প্রাপককেই মানপত্র দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আয়োজন ছিল ক্ষুদ্র পরিসরে বইবিক্রির। যেখানে প্রায় ফুরিয়ে যায় উপনিবেশ-বিরোধী চর্চা কর্পোরেট-বিরোধী চর্চার পক্ষ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত পুস্তিকা ‘টডের তরবারি: ভদ্রবিত্তের ইসলামোফোবিয়া ও রাজপুত পৌরুষের খোঁজ’। সব মিলিয়ে একটি ব্যতিক্রমী দ্বিপ্রহরের সাক্ষী থাকল আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
একটি ভালো কাজের স্বীকৃতি। অভিনন্দন।
ধন্যবাদ। আপনার কথাগুলোও শুনেছি। ভালো রিপোর্ট হয়েছে।