২৬ জুন। এই দিনটিকে রাষ্ট্রসংঘ আন্তর্জাতিক মাদক সেবন এবং পাচার বিরোধী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই দিনটি পালনের উদ্দেশ্য হল মাদক সেবন ও পাচারের মারাত্মক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা। রাষ্ট্রসংঘের বক্তব্য হল মাদক সেবন রুখলে স্বাস্থ্য এবং ন্যায় দুয়েরই পক্ষ নেয়। প্রতি বছর বিশ্ব জুড়ে এই দিনটি বিভিন্ন ভাবে পালিত হচ্ছে। কতটা এই মাদক সেবন থেকে আমাদের সমাজ মুক্ত হতে পেরেছে সে বিষয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েই গেছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলি।
কারণ যেভাবে ভারতের মতো উন্নয়ণশীল দেশে মাদকাসক্তের হার বা মাদক পাচারের হার বাড়ছে তাতে প্রশাসনের কাছে উদ্বেগের। আলোচনাচক্র, কনফারেন্স, প্রচার ও বিজ্ঞাপণ সর্বত্র হচ্ছে। আসলে মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।

উল্লেখ্য, কলকাতা পুলিশের উদ্যোগে ‘শুদ্ধি’ নামে একটি বিশেষ পুর্নবাসন প্রকল্প চালু হয় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য গভীরভাবে মাদকাসক্ত অপরাধীদের শাস্তি না দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা। কলকাতা পুলিশের এই অভিনব প্রয়াসে উল্লেখযোগ্য সাড়াও মিলেছে। পুলিশি সূত্রে জানা গেছে গত চার বছরে শতাধিক মাদকাসক্ত বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ এদের আটক করে শাস্তি না দিয়ে নেশামুক্তি কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই সমস্ত কেন্দ্রে চিকিৎসাও হচ্ছে। নেশামুক্ত করে জীবনের মূল স্রোতে এদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দিনের দিন এই কাজের পরিধিও বাড়ছে। উল্লেখ্য, আজ পযর্ন্ত বহু নেশাসক্ত মানুষ এই প্রকল্পের সহযোগিতায় নিজেদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছেন। মাদকের সর্বনেশে নেশা থেকে মুক্ত হওয়ায় তাদের জীবন হয়ে উঠেছে অপরাধ মুক্তও। কলকাতা পুলিশের এই সাফল্য নজর কেড়েছে অনান্য রাজ্যগুলিতেও।

প্রসঙ্গত, মাদক আইনে মাদক বলতে যে কোনও মদ, দশমিক পাঁচ শতাংশের বেশি অ্যলকোহলযুক্ত বিয়ার, হেরোইন, কোকেন, পেথিডিন, মরফিন, টেট্রাড্রোক্যানাবিনল, অপিয়াম, গাঁজা ইত্যাদিকে বোঝায়। ভারতে যেভাবে ফেন্সিডিল কাশির সিরাপ মাদককারীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করেছে তাতে ঘুম কেড়েছে গোয়েন্দা বিভাগের। ইতিমধ্যে রাজধানী এলাকায় তৈরি হয়েছে ‘সিসা বার’। যেখানে ধনীর ছেলেমেয়েরা দলবেঁধে হাজির হচ্ছেন। দেশের যুব সমাজ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে। এখানেই চিন্তা ধরিয়েছে প্রত্যেক বাবা-মাকে।

উল্লেখ করতে হয় পশ্চিমবঙ্গের সি আই ডি-র নারকোটিক সেলের উল্লেখযোগ্য কার্যকরী ভূমিকা নিয়ে। এদের মূলমন্ত্র আসুন আমরা সকলে মিলে মাদকমুক্ত পৃথিবী গড়ে তুলি। তাই ২৬ জুন মাদকের অপব্যবহার এবং বেআইনি চোরাচালাননের বিরুদ্ধে আন্তজার্তিক দিবসে জনসচেতনতা পদযাত্রায় সামিল হন। মূল লক্ষ্য আপনার সন্তানের উপর নজর রাখুন সে যেন নিষ্ঠুর মাদকাসক্তির কবলে না পড়ে। সন্তানদের ভগ্ন স্বাস্থ্য, ছোঁয়াচে রোগের প্রকোপ, স্কুল-কলেজে অনুপস্থিতি, চুরি, ধর্ষণ, হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কী-না লক্ষ্য রাখতে হবে। তবেই যুব সমাজ বাঁচবে। বাঁচবে দেশ। গড়ে উঠবে সুস্থ পৃথিবী। মনে রাখতে হবে ‘হেলথ ফর জাস্টিস, জাস্টিস ফর হেলথ’। এই ভাবনায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রসংঘের বক্তব্য মাদক সেবন রুখলে স্বাস্থ্য এবং ন্যায় দুইয়েরই পক্ষ নেওয়া হয়। আসুন আমরা সকলে মিলে মাদকমুক্ত পৃথিবী গড়ে তুলি।