তিনিই বীরভূমের শেষ কথা। রাজনীতিতে কখন কি পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা কারও পক্ষে বলা মুশকিল হলেও এখনও বীরভূমে তাঁর দাপট নিয়ে কারোরই যে সংশয় নেই সে কথা তিনি ভাল করেই জানেন। পেজফোরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে গত সতেরো বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল অনেক কথাই জানালেন…
অনুব্রতর রাজনীতির হাতেখড়ি কংগ্রেসে। বরাবরই ডাকাবুকো স্বভাবের হওয়ায় সহজেই জেলা এবং রাজ্য নেতৃত্বের নজরে পড়ে যান তিনি। যুব কংগ্রেসের হয়ে কাজ করার সময়েই তৎকালীন যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাপ হয় অনুব্রতর। সেই সময় সংগঠনের কাজেই বীরভূমে আসতে হত মমতাকে। পরবর্তী সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক গৌতম বসুর মাধ্যমে মমতার আরও আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন কেষ্ট।
১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন। কংগ্রেস ছেড়ে অনুব্রতও চলে আসেন তৃণমূলে। বীরভূমে তৃণমূলের জেলা সভাপতি হন সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়। আর অনুব্রত হন যুব তৃণমূলের সভাপতি।
তবে দলের মধ্যে অনুব্রত মমতার বিশ্বাস অর্জন করে নেন নানুর কাণ্ডের সময়। সেই সময়েই জেলায় সিপিএম বিরোধী জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলে মমতার আরও আস্থা অর্জন করে নেন অনুব্রত। এর পরে অনুব্রতকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দলের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ২০০৩ সালে তৃণমূল ছেড়ে দেন বীরভূমের জেলা সভাপতি সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর জায়গায় অনুব্রতকে জেলার দায়িত্ব দেন মমতা।
বাম দুর্গ বীরভূমে প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠন তৈরি করে ফেলেন অনুব্রত। ২০১১ সালে একসময়ের লাল দুর্গ বীরভূমকে সবুজ দুর্গে পরিণত করে ফেলেন দাপুটে এই তৃণমূল নেতা। নিজেই স্বীকার করেছেন, নেত্রী তাঁকে সাংসদ, বিধায়ক, মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিলেও তিনি বীরভূম নিয়েই ভাল আছেন।
নিজের দাপট ধরে রাখতে বার বার বিতর্কে জড়িয়েছেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি। কখনও চড়াম চড়াম ঢাক বাজানোর নিদান, সাম্প্রতিক সময়ে গুড় বাতাসা বা নকুলদানা খাওয়ানোর মতো নিদান দিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন। তবু তৃণমূল নিবেদিত প্রাণ কেষ্টর পাশে তাই বার বার দাঁড়িয়েছেন মমতা। অন্যদিকে তাঁর সমস্ত আস্থা নেত্রী মমতার ওপর।