দিলীপ ঘোষ পাতাখোর। পাতার নেশা করেন। মদ খেলে ধরা পড়বেন, গাঁজা টানলে গন্ধ উঠবে, সে কারণেই পাতার নেশা করেন। ওঁদের দলের সবাই মিথ্যা কথা বলেন। পরিযায়ী শ্রমিকরা বিজেপির কাণ্ডকারখানা দেখছেন। তাঁরাই ফিরে এসে এমন প্যাদানি দেবেন, সুঁটিয়ে লাল করে দেবেন, যে দিল্লি দেখবে সোঁটানোর কী দাম। সোমবার ১১ মে এ কথাই বললেন তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তিনি বলেন, দিলীপ ঘোষকে আমার প্রশ্ন, রেশনের এক কেজি করে ডাল কোথায় গেল? মানুষকে পরিষেবা না দিয়ে ঘরে বসে বাত মারছেন! নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, চাল দেবেন। ২০১৬-১৭-র চাল দিলেন, কালো চাল, পোকা ভর্তি, ইঁদুর মরা, কী নাই? এক কেজি করে ডাল দেবেন বলেছিলেন, এখন বলছেন ডাল দিতে পারব না। মিথ্যা কথা বলার জন্য আপনাদের লজ্জা হয় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেন তা করে দেখান। বাংলা নিয়ে বড়ো বড়ো কথা বলছেন বিজেপি নেতারা! মধ্যপ্রদেশে কাদের সরকার? শ্রমিকদের কেন ফেরায়নি। মালগাড়িতে কাটা পড়লেন ১৬ জন, কয়েকজন আহত হলেন। পথ দুর্ঘটনায় মধ্যপ্রদেশে পরিযায়ী শ্রমিকরা মারা গেলেন! এখন নরেন্দ্র মোদী ট্রেন চালাচ্ছেন। লকডাউন ঘোষণার পর চারদিন ট্রেন চালালে তো শ্রমিকরা মরতেন না। বিজেপি গরিব মানুষের, খেটে খাওয়া মানুষের কথা ভাবে না।

ভারতে করোনা আনার নায়ক বলে মোদীকে চিহ্নিত করে অনুব্রত বলেন, নমস্তে ট্রাম্প হলো। ট্রাম্পকে আমেদাবাদ, দিল্লি, আগ্রা নিয়ে ঘুরলেন। অতো সিকিউরিটিরর লোকজন এসে করোনা ছড়াল। তাই দেশে করোনা সংক্রমণের নায়ক নরেন্দ্র মোদী। যে গুজরাট মডেলের কথা বলে ওরা হা হা করে, সেখানে মানুষ মরছেন, হাজার হাজার মহিলা হায় হায় করছেন!

অপদার্থ, ভাঁওতাবাজ প্রধানমন্ত্রীর জন্য আজ দেশের এই অবস্থা। অমিত শাহকে আক্রমণ করে অনুব্রত বলেন, উনি যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে রয়েছেন তা নিয়ে কোনও অভিজ্ঞতা বা আইডিয়া ওঁর নাই। ফলস কথা বলে রাজনীতি করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের জন্য কী কাজ করছেন তা বাংলার মানুষ দেখছেন। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ থেকে শুরু করে যোগী আদিত্যনাথ, বিজয় রূপানি, শিবরাজ সিং চৌহান, কেজরিওয়ালরা কটা হাসপাতালে গেছেন আমাকে দেখান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে মানুষের পাশে থেকেছেন, সচেতন করেছেন। বাংলার ভগবান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শত কোটি প্রণাম জানাই। পুলিশ, প্রশাসন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী-সহ করোনা যোদ্ধাদের কুর্নিশ জানান অনুব্রত। লকডাউনে যেখানে সাতজনের বেশি জমায়েত নিষেধ সেখানে বিজেপি রাস্তায় নেমে আন্দোলন কীভাবে করতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনুব্রত বলেন, দিলীপ ঘোষ নেশার ঘোরে কী বলেন বোঝেন না। বললেন এক লাখ পরিযায়ী শ্রমিক নাকি তাঁকে ফোন করেছেন। প্রশাসন লিস্ট চাইলে দিতে পারেননি। মিথ্যা কথা লোকদেখানো আন্দোলন করতে গেলে মানুষ এবার ওদের কান মুলে দেবে।