২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে ২৩০ থেকে ২৫০টি আসনে জিতবে তৃণমূল কংগ্রেস। চ্যালেঞ্জ করে এ কথা বলছি। বক্তা বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করে অনুব্রত বলেন, নিজের ঘোরার জন্য আট হাজার টাকার বিমান না কিনে বা লুটিয়েন্স দিল্লি প্রজেক্টে ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ না করে তো সেই টাকা শ্রমিকদের দিতে পারতেন বা হাসপাতাল গড়তে পারতেন নরেন্দ্র মোদী। আসলে উনি ভারতের মানুষের ভালো থাকা নিয়ে ভাবেন না, প্রধানমন্ত্রী হয়ে বিশ্ব ঘোরার শখ মেটাচ্ছেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এলেন, মোদীও ভালো জামাকাপড় পরে কী হাততালিই না দিলেন সবাই! ভেবেছিলেন আমেরিকা তাদের সব ভারতকে ঢেলে দেবে। অথচ যা দেওয়ার তিনি দিয়ে গেছেন।
অপদার্থ প্রধানমন্ত্রী। বছরে ২ কোটি চাকরি দেবেন বলেছিলেন, কোথায় গেল? গুজরাটিরা ব্যাঙ্কের টাকা মেরে পালাল, মোদী তাদের সব টাকা মকুব করে দিলেন! দেশের একেবারে নীচের তলা থেকে উপরের তলার মানুষ বুঝে গেছেন উনি কি ‘পয়জন মাল’। আর বাংলার কিছু বিজেপি নেতা ওঁকে ফলো করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে এই সময়েও আজেবাজে কথা বলছেন। ওঁদের লজ্জা নাই। গাড়ি গেলে ভেড়ার দল যেমন চোখ বুজে থাকে অ্যাক্সিডেন্ট হবে না বলে, এখানকার বিজেপি সেই ভেড়ার দলের মতো। আশা করি, নির্বাচনে মানুষ সব জবাব দেবেন। রেলের অবস্থা খুব খারাপ। পরিযায়ী শ্রমিক বলব না, তাঁরা আমার জেলার মানুষ, রাজ্যের মানুষ।
তাঁদের কোনও দোষ নাই, দোষ নরেন্দ্র মোদীর। ট্রেনে খাবার নেই, জল নেই। রুটের ঠিক নাই। পুরুলিয়ার লোককে নামাচ্ছে বিহার নয়তো উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে। বাসে নিজেদের পয়সা দিয়ে ফিরতে হচ্ছে শ্রমিকদের। দুধের শিশু মৃত মাকে জাগানোর চেষ্টা করছে, এই দৃশ্য মোদী, শাহ দেখেন নাই? আসলে ওঁদের মতো বেনিয়ার কোনও মায়া, দয়া নাই, খালি টাকা বোঝেন। রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা অবধি কারফিউ জারির সিদ্ধান্তকে পাগলামি বলে কটাক্ষ করেন অনুব্রত। দিলীপ ঘোষকে নিয়ে তিনি বলেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি তো হিন্দু ধর্মের বড়ো বড়ো কথা বলেন তাঁর মুখে পদ্ম থাকে কী করে? ১০৮টা পদ্মফুল দুর্গাপুজোয় লাগে। সেই ফুল উনি মুখে লাগাচ্ছেন, যেখানে থুতু ছেঁটে! এটা কী করে উনি করতে পারেন?