ডিভিসি-র জল ছাড়া অব্যাহত। ও অপরদিকে একনাগাড়ে বৃষ্টি। আরামবাগের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। গোঘাটে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে মাটির বাড়ি। খানাকুলের নিচু এলাকা জলমগ্ন। বাসরাস্তা জলে ডুবেছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার পুরশুড়ায় বিডিও অফিসে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় চার মন্ত্রীর বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী, বেচারাম মান্না, হুগলি জেলার সভাধিপতি রঞ্জন ধারা ও প্রশাসনিক আধিকারিকরাও।
প্রসঙ্গত ,একনাগাড়ে বৃষ্টিতে প্লাবিত হল আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ইতিমধ্যেই খানাকুলের বন্দরে রূপনারায়ণ নদ প্রাথমিক বিপদসীমা অতিক্রম করে বইছে। দ্বারকেশ্বর, মুন্ডেশ্বরী ও দামোদরেও জলস্তর বাড়ছে। জলে ভরেছে খালগুলিও। তার ফলে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট ডুবেছে। অনেক ঘরবাড়িতেও জল ঢুকে পড়েছে। তার জেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। সদ্য রোপণ করা ধানজমিতেও জল দাঁড়িয়েছে। যা চাষিদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আরামবাগ ব্লকের বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রামে জল ঢুকেছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবারও ডিভিসি প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক হারে জল ছেড়েছে। রূপনারায়ণ নদের প্রাথমিক য়ে বিপদসীমা ধরা হয় ৬.২৪ মিটার। বর্তমানে সেখানকার জলস্তর বেড়ে হয়েছে ৬.৩১ মিটার।
উল্লেখ্য, জুলাই মাসে আরামবাগে বৃষ্টি হয়েছে ৩৯৫.৮ মিলিমিটার। কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, মহকুমায় প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি জমিতে ধানবীজ বা রোপণের কাজ হয়ে গিয়েছে। যেসব নিচু এলাকায় জমিতে জল দাঁড়িয়েছে, সেখানে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, টানা বৃষ্টিতে নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জল ছেড়ে চলেছে ডিভিসি। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে নবান্নের তরফে। এবার মুখ্যমন্ত্রী নিজে প্লাবিত এলাকাগুলি পরিদর্শন করলেন।
এদিকে হুগলির হরিপাল, গোঘাট, খানাকুলের মতো এলাকায় ধানচাষের জমিতে জল জমেছে। সেই জল বার করার চেষ্টাও চলছে।

আরামবাগের এখনও তেলুয়া, ভালিয়া, বুলুন্ডি, মায়াপুর ও রাজাবাজারের কয়েকটি এলাকা পুরোপুরি জলমগ্ন। নৌকোই আপাতত ভরসা। একতলা বাড়ির ভিতরে জল জমেই আছে। আরামবাগের মায়াপুর ১ নম্বর, মায়াপুর ২ নম্বর, বাতানল, গৌরহাটি, সালেপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ জলযন্ত্রনায় ভুগছে। অপরদিকে, পাতুল, নন্দনপুর, কুশালি, জগদীশ তলা ও বাড়নন্দনপুর ইত্যাদি এলাকায় জলবন্দি মানুষ।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘন ঘন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ঘুরছেন। ইতিমধ্যে চার মন্ত্রী এসে পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন। তাঁরা নির্দেশ দিয়েছেন, অবিলম্বে ক্যাম্প করে মানুষের পাশে থাকতে হবে। আরামবাগের জল-যন্ত্রণার ছবির উন্নতি হলেও, ডুবছে খানাকুল। জলাধারের ছাড়া জল ও বৃষ্টির জলের জোড়া আক্রমণে জল বাড়ছে খানাকুলে। ইতিমধ্যেই প্লাবিত মাড়োখানা, জগৎপুর, রাজহাটি-১, পোল ১ ও ২ পঞ্চায়েতের অধিকাংশ গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। চাষের জমি ডুবছে। জল উঠেছে আরামবাগ-গড়েঘাট প্রধান সড়কে। রাস্তায় চলছে নৌকো। কোমরসমান জল রাস্তায়।
খানাকুলের বিজেপি বিধায়কের উদ্যোগে, প্লাবিত এলাকায় ট্র্যাক্টর পরিষেবা চালুর মধ্য দিয়ে যোগাযোগ সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আরামবাগের বেশ কয়েকটি স্থানে ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে এডিএম, আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগ, হুগলি জেলা পরিষদের-সহ সভাধিপতি কৃষ্ণচন্দ্র সাঁতরা-সহ একাধিক আধিকারিক হাজির হন। মানুষজনকে ত্রাণ সামগ্রী দেন তাঁরা। হরিণখোলা, মায়াপুরের শুশনি পাড়া, পুরশুড়া, বু লুন্ডিতে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে তাঁরা হাজির হন। যদিও জলমগ্ন এলাকার মানুষজন কেউ বলেন, যে সব এলাকার মানুষ সত্যিই জলবন্দি, সেখানে কেউ আসেননি। তাঁরা একরকম দ্বীপে বাস করছেন। খাবারের সংস্থান কিছু নেই। হুগলি জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি কৃষ্ণচন্দ্র সাঁতরা, সাংসদ মিতালি বাগ বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন। সেই মতো মন্ত্রী, আধিকারিকরা এসেছেন। মানুষের পাশে আমরা আছি।’ — বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, ‘এত দিন সব কোথায় ছিলেন! একজন একজন করে এসে নাটক করছেন। ফাইনালি মুখ্যমন্ত্রী এসে নাটকের শেষ অংশটা দেখিয়ে চলে যাবেন। মানুষ যেখানে ছিলেন, সেখানেই থাকবেন।’