কিছুদিন প্রবল বৃষ্টিতে এবং বাঁধের জল ছাড়ায় হুগলি জেলার গোঘাট-সহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বন্যায় বহু গ্রাম প্লাবিত হয়। কয়েক হাজার হেক্টর চাষের জমি জলমগ্ন হওয়ায় ফসলের ক্ষতি হয়। একাধিক রাস্তা জলমগ্ন হওয়ায় বেশ কয়েকটি এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গোঘাটের নকুন্ডা ও বালি গ্রাম পঞ্চায়েত। টানা বৃষ্টি ও বাঁকুড়া থেকে জল ঢোকায় গোঘাটের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয় বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন।
অন্যদিকে, আরামবাগ শহরেও বন্যার আশঙ্কা দেখা দেয়। দ্বারকেশ্বরের জল বাড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্বারকেশ্বরের বাঁধ উপচে আরামবাগ পুরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে জল ঢোকে। প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। তখন বাঁধের উঁচু জায়গায় ত্রিপল টাঙিয়ে আশ্রয় নিতে হয় শতাধিক পরিবারকে।
বন্যায় প্লাবিত আরামবাগ, খানাকুল এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উদ্ধার অভিযানে তখন প্রশাসন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আরামবাগ, কালিপুর, খানাকুল প্রভৃতি এলাকায় মেডিক্যাল ক্যাম্প হয়। আরামবাগের আইএমএ ভবনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য ও আশ্রয় দেওয়া হয়। ওষুধ, শিশু খাদ্য, রান্না করা খাবার, পানীয় জল, ত্রিপল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করা হয়।
রবিবার ফের বন্যার্ত মানুষদের পাশে এগিয়ে আশে রেডক্রস সোসাইটি। এদিন আরামবাগ বয়েজ হাই স্কুল মাঠের সামনে হ্যান্ডিক্যাপ স্কুলে আরামবাগ পৌরসভা ও রেডক্রসের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যশিবির ও বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হল। এদিনও বন্যার্ত মানুষদের শুকনো খাবার, ত্রিপল, বাসনপত্র-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আরামবাগ মহকুমা শাসক হাসিন জাহেরা রিজভী, আরামবাগের সাংসদ অপরুপা পোদ্দার, আরামবাগ পৌরপ্রশাসক স্বপন নন্দী, প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণচন্দ্র সাঁতরা, আরামবাগ এসডিপিও অভিষেক মন্ডল, আরামবাগ থানার আইসি বরুণ কুমার ঘোষ, আরামবাগ শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ সিংহ রায়-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।